ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শাস্তির পাশাপাশি কাউন্সেলিং জরুরি: খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ৫ নেতাকে সাংগঠনিক কারণে বহিষ্কার হামলার আশঙ্কায় পুলিশের নিরাপত্তা চাইল ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চীনের অর্থনীতির রূপকার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজির পরলোকগমন তথ্য নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি ছড়াবে না সরকার: আমির খসরু রাতে বাড়ছে মেট্রোরেল চলাচলের সময়, এ মাসেই যুক্ত হচ্ছে নতুন ট্রেন বাবার প্রয়াণে আবেগঘন বার্তায় মেসি: ‘শান্তিতে ঘুমাও বাবা’ জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর ঘোষণা মাহদী আমিনের ট্রাইব্যুনালে ওবায়দুল কাদেরকে ‘রাজনৈতিক জোকার’ বললেন চিফ প্রসিকিউটর বিএমইউ’র বরিশাল বিভাগীয় কল্যাণ সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

মালয়েশিয়ার অভিবাসন আটককেন্দ্রে ১৪০ জনের মৃত্যু, স্বাধীন তদন্তের দাবি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৪:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মালয়েশিয়ায় ২০২৪ সালে শুরু হওয়া কঠোর অভিবাসন অভিযানের পর থেকে দেশটির বিভিন্ন অভিবাসন আটককেন্দ্রে (ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টার) অন্তত ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে এবং অবিলম্বে একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

পার্লামেন্টে দেওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির অভিবাসন আটককেন্দ্রে মোট ৪৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯৩ জন পুরুষ, ৬০ জন নারী এবং ১২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। এই পরিসংখ্যানের মধ্যে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সম্মিলিতভাবে ১০৯ জন আটক অবস্থায় মারা যান। এছাড়া গত ১৪ জুলাই পার্লামেন্টে দেওয়া আরেকটি তথ্যে জানানো হয়, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত আরও ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ, ২০২৪ সালে অভিযান শুরুর পর থেকে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪০ জনে।

ফোর্টিফাই রাইটসের মতে, ২০২৪ সালে সরকার ব্যাপক অভিবাসন অভিযান শুরু করার পর অনথিভুক্ত অভিবাসী ও শরণার্থীদের গ্রেফতার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ২০২৫ সালে এই গ্রেফতারের সংখ্যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। বর্তমানে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোতে ২২ হাজার ৪৫ জন আটক রয়েছেন, যেখানে সরকারি ঘোষিত ধারণক্ষমতা ২১ হাজার ৫৩০ জন। ফলে কেন্দ্রগুলো অতিরিক্ত ভিড়ে মানবিক সংকটে পড়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আটককেন্দ্রে মৃত্যুর কারণ হিসেবে সেপসিস, লেপ্টোস্পাইরোসিস ও মেনিনজাইটিসের মতো রোগের কথা উল্লেখ করেছে। ফোর্টিফাই রাইটসের ভাষ্যমতে, এসব রোগ অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, দূষিত পানি, অস্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন, অতিরিক্ত ভিড় এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে সৃষ্টি হতে পারে বা আরও গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। সংস্থাটির দাবি, যথাযথ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে এসব মৃত্যুর অনেকগুলোই প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল।

২০২৫ সাল থেকে ফোর্টিফাই রাইটস মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অভিবাসন আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি পাওয়া কয়েক ডজন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাদের অভিযোগ, অসুস্থ হলেও অনেক সময় চিকিৎসা দেওয়া হতো না, চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো, এমনকি চিকিৎসা চাইলে শাস্তির মুখেও পড়তে হয়েছে। বাংলাদেশি এক সাবেক আটক ব্যক্তি, যার ছদ্মনাম হোসেন, বলেন, অসুস্থতার কথা জানালে অনেককে মারধর করা হতো। ফলে অধিকাংশ বন্দি অসুস্থ হলেও তা জানাতে ভয় পেতেন। অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুপথযাত্রী না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালে নেওয়া হতো না।

অন্যান্য ভুক্তভোগীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। এক রোহিঙ্গা শরণার্থী জানান, জ্বর, পেটব্যথা কিংবা মাথাব্যথা—যে সমস্যাই হোক না কেন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই শুধু একটি প্যারাসিটামল ট্যাবলেট দেওয়া হতো। মিয়ানমারের এক শরণার্থী জানান, দাঁতের তীব্র ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলেও দাঁত পরীক্ষা না করে কেবল প্যারাসিটামল দিয়ে তাকে ফেরত পাঠানো হয়। মিয়ানমারের আরেক সাবেক আটক ব্যক্তি, ছদ্মনাম জ্যাক, জানান, তিনি আটক অবস্থায় একজন থাই ও একজন ইন্দোনেশীয় বন্দির মৃত্যু প্রত্যক্ষ করেছেন। তার ভাষ্য, এক থাই বন্দি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেও প্রথমে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। পরে অন্য বন্দিদের চাপের মুখে তাকে একটি প্যারাসিটামল দিয়ে কয়েক ঘণ্টা পর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন জানা যায়, তিনি মারা গেছেন।

ফোর্টিফাই রাইটস বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী আটক প্রত্যেক ব্যক্তির পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো বৈষম্য ছাড়াই সময়মতো চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করে, জাতিসংঘের 'নেলসন ম্যান্ডেলা রুলস' অনুযায়ী বন্দিদের সাধারণ নাগরিকদের সমমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং এ সেবা বিনামূল্যে দিতে হবে।

হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে সম্মিলিতভাবে ১০৯ জন আটক অবস্থায় মারা যান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

মালয়েশিয়ার অভিবাসন আটককেন্দ্রে ১৪০ জনের মৃত্যু, স্বাধীন তদন্তের দাবি

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
print news

মালয়েশিয়ায় ২০২৪ সালে শুরু হওয়া কঠোর অভিবাসন অভিযানের পর থেকে দেশটির বিভিন্ন অভিবাসন আটককেন্দ্রে (ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টার) অন্তত ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে এবং অবিলম্বে একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

পার্লামেন্টে দেওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির অভিবাসন আটককেন্দ্রে মোট ৪৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯৩ জন পুরুষ, ৬০ জন নারী এবং ১২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। এই পরিসংখ্যানের মধ্যে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সম্মিলিতভাবে ১০৯ জন আটক অবস্থায় মারা যান। এছাড়া গত ১৪ জুলাই পার্লামেন্টে দেওয়া আরেকটি তথ্যে জানানো হয়, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত আরও ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ, ২০২৪ সালে অভিযান শুরুর পর থেকে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪০ জনে।

ফোর্টিফাই রাইটসের মতে, ২০২৪ সালে সরকার ব্যাপক অভিবাসন অভিযান শুরু করার পর অনথিভুক্ত অভিবাসী ও শরণার্থীদের গ্রেফতার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ২০২৫ সালে এই গ্রেফতারের সংখ্যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। বর্তমানে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোতে ২২ হাজার ৪৫ জন আটক রয়েছেন, যেখানে সরকারি ঘোষিত ধারণক্ষমতা ২১ হাজার ৫৩০ জন। ফলে কেন্দ্রগুলো অতিরিক্ত ভিড়ে মানবিক সংকটে পড়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আটককেন্দ্রে মৃত্যুর কারণ হিসেবে সেপসিস, লেপ্টোস্পাইরোসিস ও মেনিনজাইটিসের মতো রোগের কথা উল্লেখ করেছে। ফোর্টিফাই রাইটসের ভাষ্যমতে, এসব রোগ অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, দূষিত পানি, অস্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন, অতিরিক্ত ভিড় এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে সৃষ্টি হতে পারে বা আরও গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। সংস্থাটির দাবি, যথাযথ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে এসব মৃত্যুর অনেকগুলোই প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল।

২০২৫ সাল থেকে ফোর্টিফাই রাইটস মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অভিবাসন আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি পাওয়া কয়েক ডজন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাদের অভিযোগ, অসুস্থ হলেও অনেক সময় চিকিৎসা দেওয়া হতো না, চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো, এমনকি চিকিৎসা চাইলে শাস্তির মুখেও পড়তে হয়েছে। বাংলাদেশি এক সাবেক আটক ব্যক্তি, যার ছদ্মনাম হোসেন, বলেন, অসুস্থতার কথা জানালে অনেককে মারধর করা হতো। ফলে অধিকাংশ বন্দি অসুস্থ হলেও তা জানাতে ভয় পেতেন। অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুপথযাত্রী না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালে নেওয়া হতো না।

অন্যান্য ভুক্তভোগীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। এক রোহিঙ্গা শরণার্থী জানান, জ্বর, পেটব্যথা কিংবা মাথাব্যথা—যে সমস্যাই হোক না কেন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই শুধু একটি প্যারাসিটামল ট্যাবলেট দেওয়া হতো। মিয়ানমারের এক শরণার্থী জানান, দাঁতের তীব্র ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলেও দাঁত পরীক্ষা না করে কেবল প্যারাসিটামল দিয়ে তাকে ফেরত পাঠানো হয়। মিয়ানমারের আরেক সাবেক আটক ব্যক্তি, ছদ্মনাম জ্যাক, জানান, তিনি আটক অবস্থায় একজন থাই ও একজন ইন্দোনেশীয় বন্দির মৃত্যু প্রত্যক্ষ করেছেন। তার ভাষ্য, এক থাই বন্দি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেও প্রথমে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। পরে অন্য বন্দিদের চাপের মুখে তাকে একটি প্যারাসিটামল দিয়ে কয়েক ঘণ্টা পর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন জানা যায়, তিনি মারা গেছেন।

ফোর্টিফাই রাইটস বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী আটক প্রত্যেক ব্যক্তির পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো বৈষম্য ছাড়াই সময়মতো চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করে, জাতিসংঘের 'নেলসন ম্যান্ডেলা রুলস' অনুযায়ী বন্দিদের সাধারণ নাগরিকদের সমমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং এ সেবা বিনামূল্যে দিতে হবে।

হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে সম্মিলিতভাবে ১০৯ জন আটক অবস্থায় মারা যান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh