পরোক্ষ ধূমপানে বিশ্বে বছরে ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু: নতুন গবেষণা
- আপডেট সময় : ০১:৩৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বজুড়ে শিশুসহ ২৭০ কোটির বেশি মানুষ বর্তমানে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে রয়েছে। দ্য ল্যানসেট জার্নালে মঙ্গলবার প্রকাশিত নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এই স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৭ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, তামাক এখনো বিশ্বজুড়ে রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিদ্যমান। ২০২৩ সালে ধূমপানজনিত কারণে মারা যাওয়া প্রায় ৮০ লাখ মানুষের মধ্যে একটি বড় অংশই ছিলেন যারা সরাসরি ধূমপান করতেন না, কিন্তু পরোক্ষভাবে ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসতেন।
গবেষণাটি পরিচালনায় ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২০৪টি দেশ ও অঞ্চলের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের (এনআইএইচ) গবেষণাভান্ডার পাবমেডে প্রকাশিত বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণাকে এই পর্যালোচনার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষণায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পরোক্ষ ধূমপানের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই এবং এটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসা ২৭০ কোটি মানুষের মধ্যে ৭৬ কোটি ৭০ লাখই ছিল ১৪ বছর বা তার কম বয়সী শিশু। প্রাপ্ত তথ্যমতে, এই সংস্পর্শের কারণে প্রায় ১৬ লাখ ৬০ হাজার মানুষ অকালে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া বিপুল সংখ্যক মানুষ দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা ও অকাল প্রতিবন্ধিতার শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ইস্কেমিক হৃদরোগের প্রাদুর্ভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। শুধুমাত্র শিশুদের ক্ষেত্রে পরোক্ষ ধূমপানের প্রভাবে ২০২৩ সালে আনুমানিক ৫২ লাখ শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।
গবেষকদের মতে, ধূমপায়ীর নিঃশ্বাসের সঙ্গে বের হওয়া ধোঁয়া এবং জ্বলন্ত তামাকজাত পণ্য থেকে উৎপন্ন 'সাইডস্ট্রিম স্মোক'—উভয়ই পরোক্ষ ধূমপানের কারণ। সাইডস্ট্রিম স্মোক সাধারণত ফিল্টার করা হয় না এবং এতে সক্রিয় ধূমপায়ীর গ্রহণ করা ধোঁয়ার চেয়ে বিষাক্ত ও ক্যানসারসৃষ্টিকারী রাসায়নিকের ঘনত্ব অনেক বেশি থাকে।
১৯৯০ সালের পর বিশ্বজুড়ে ধূমপানের হার কমলেও পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে থাকা মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এই ঝুঁকি বেড়ে যাওয়াকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নারীরা পরোক্ষ ধূমপানের কারণে তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অথচ তাদের স্বাস্থ্যের জন্য এই ঝুঁকিকে প্রায়ই যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে নারীদের মধ্যে ধূমপানের হার কম, সেখানে তারা পরোক্ষভাবে বেশি ঝুঁকিতে থাকছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসমাগমস্থল ও বাড়িতে কঠোর তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা।





























