ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ রাজপুত্রের দেহাবশেষ পাঠানোর নেপথ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ ৩ অনুচ্ছেদে গণভোটের প্রস্তাব বিএনপির গাজায় জাতিসংঘের কোনো ভূমিকা নেই, জানাল বোর্ড অব পিস বিসিবির নতুন টুর্নামেন্ট ‘ডি থ্রি ট্রফি’র যাত্রা শুরু নিয়ন্ত্রণহীন এআইয়ে ১০০ কোটি মৃত্যুর শঙ্কা: বিল গেটস সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলায় মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৪ উখিয়ায় বন বিভাগের অভিযান: ৩০ একর বনভূমি উদ্ধার, ৭ স্থাপনা উচ্ছেদ এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সংঘর্ষ, আহত অনেকে পটিয়ায় কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে টাইলস মিস্ত্রির মৃত্যু গাজা শান্তি পরিকল্পনার পথে বড় বাধা নেতানিয়াহু, অভিযোগ কাতারের

পুলিশ প্রতিবেদনে বাদ আড়াই হাজার, ক্ষুব্ধ প্রাথমিক শিক্ষক প্রার্থীরা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:১৬:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা। প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই বা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার পর বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর নাম নিয়োগপত্রের তালিকা থেকে বাদ পড়ায় এই জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিজস্ব প্ল্যাটফর্মের তথ্যমতে, বাদ পড়া প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। অন্য একটি হিসাব অনুযায়ী এই সংখ্যা ২ হাজার ২০০-এর বেশি হলেও সরকারিভাবে এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মূলত চারটি নির্দিষ্ট কারণে প্রার্থীদের নাম নিয়োগের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদন, ডোপ টেস্টে অকৃতকার্য হওয়া, স্বাস্থ্য সনদের অভাব এবং শিক্ষা সনদে গরমিল। তবে বাদ পড়ার কারণগুলোর মধ্যে পুলিশি যাচাই-বাছাই প্রতিবেদন নেতিবাচক হওয়ার হারই সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে।

নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা তাদের নথি পুনরায় নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং কোনো প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে বাদ পড়ে থাকলে তা সংশোধনের দাবিও তোলা হয়েছে। চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত অথচ নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ এবং পুরো পরিস্থিতির কারণ জনসমক্ষে ব্যাখ্যার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়োগপত্র নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, ভেরিফিকেশন বা ভেটিং সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি নিয়মিত অংশ। ১ অক্টোবর পর্যন্ত যারা নিয়োগপত্র পাননি, তাদের বিষয়টি যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।

নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন জেলায় জোরালো হতে শুরু করে। প্রার্থীদের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, সাতক্ষীরা, ঝালকাঠি, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, বগুড়া, সুনামগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অন্তত ৩৫১ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ১২০ জন, খুলনায় ৬৯ জন, মৌলভীবাজারে ৬৭ জন এবং নাটোরে প্রতিবন্ধীসহ ৩৪ জন প্রার্থী রয়েছেন। খুলনা জেলায় সুপারিশপ্রাপ্ত ২৭৫ জনের মধ্যে ২৬৫ জন কাগজপত্র জমা দিলেও ১৯৬ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। এছাড়া সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও যশোরে শত শত প্রার্থী নিয়োগের দাবিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জনের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষার পর ৮ ফেব্রুয়ারি ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। ১ অক্টোবরকে নিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা হিসেবে নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

সুনামগঞ্জে ৬১৭ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য সুপারিশ পাঠানো হলেও সর্বশেষ যাচাইয়ে ১২০ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মৌলভীবাজারে ৩৪৭ সুপারিশপ্রাপ্তের মধ্যে ৬৭ জন এবং যশোরে ২৯০ জনের মধ্যে ১০৬ জন নিয়োগপত্র পাননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

পুলিশ প্রতিবেদনে বাদ আড়াই হাজার, ক্ষুব্ধ প্রাথমিক শিক্ষক প্রার্থীরা

আপডেট সময় : ১০:১৬:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা। প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই বা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার পর বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর নাম নিয়োগপত্রের তালিকা থেকে বাদ পড়ায় এই জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিজস্ব প্ল্যাটফর্মের তথ্যমতে, বাদ পড়া প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। অন্য একটি হিসাব অনুযায়ী এই সংখ্যা ২ হাজার ২০০-এর বেশি হলেও সরকারিভাবে এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মূলত চারটি নির্দিষ্ট কারণে প্রার্থীদের নাম নিয়োগের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদন, ডোপ টেস্টে অকৃতকার্য হওয়া, স্বাস্থ্য সনদের অভাব এবং শিক্ষা সনদে গরমিল। তবে বাদ পড়ার কারণগুলোর মধ্যে পুলিশি যাচাই-বাছাই প্রতিবেদন নেতিবাচক হওয়ার হারই সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে।

নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা তাদের নথি পুনরায় নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং কোনো প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে বাদ পড়ে থাকলে তা সংশোধনের দাবিও তোলা হয়েছে। চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত অথচ নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ এবং পুরো পরিস্থিতির কারণ জনসমক্ষে ব্যাখ্যার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়োগপত্র নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, ভেরিফিকেশন বা ভেটিং সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি নিয়মিত অংশ। ১ অক্টোবর পর্যন্ত যারা নিয়োগপত্র পাননি, তাদের বিষয়টি যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।

নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন জেলায় জোরালো হতে শুরু করে। প্রার্থীদের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, সাতক্ষীরা, ঝালকাঠি, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, বগুড়া, সুনামগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অন্তত ৩৫১ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ১২০ জন, খুলনায় ৬৯ জন, মৌলভীবাজারে ৬৭ জন এবং নাটোরে প্রতিবন্ধীসহ ৩৪ জন প্রার্থী রয়েছেন। খুলনা জেলায় সুপারিশপ্রাপ্ত ২৭৫ জনের মধ্যে ২৬৫ জন কাগজপত্র জমা দিলেও ১৯৬ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। এছাড়া সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও যশোরে শত শত প্রার্থী নিয়োগের দাবিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জনের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষার পর ৮ ফেব্রুয়ারি ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। ১ অক্টোবরকে নিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা হিসেবে নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

সুনামগঞ্জে ৬১৭ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য সুপারিশ পাঠানো হলেও সর্বশেষ যাচাইয়ে ১২০ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মৌলভীবাজারে ৩৪৭ সুপারিশপ্রাপ্তের মধ্যে ৬৭ জন এবং যশোরে ২৯০ জনের মধ্যে ১০৬ জন নিয়োগপত্র পাননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din