ঢাকা ০১:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারকে ভূতে ধরেছে, ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা চলছে: ইবি শিবির সেক্রেটারি সিরাজগঞ্জে গরু চুরি ঠেকাতে সড়কে বাঁশের ব্যারিকেড ও পুলিশের টহল কানেত্তির অনন্য সাহিত্যদর্শন ও কাফকার চিঠির অন্তরাল চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৭০, মুচলেকায় মুক্তি ৩৫৫ জনের মিরপুরে রাড্ডায় তাণ্ডব: ওসি প্রত্যাহার, নির্দেশদাতারা অধরা যুক্তরাজ্যে মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছে গ্রেপ্তার ৫, সরানো হলো ৮৫ পরিবার শরৎ কাল কবিতা ৩২ দলের অংশগ্রহণে বনানীতে সম্পন্ন হলো বাপাউবো ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট কূটনীতির পাশাপাশি সামরিক হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান চুয়াডাঙ্গায় ৩০০ ইয়াবাসহ ৭০ বছর বয়সী নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার

ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ রাজপুত্রের দেহাবশেষ পাঠানোর নেপথ্যে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:০৭:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত রুশ সেনারা শীতকালীন অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই সময়ে তাঁদের কাছে পৌঁছেছে এক ব্যতিক্রমী সহায়তা—মস্কোর হয়ে ছয় শ বছরেরও বেশি সময় আগে যুদ্ধ করা রাজপুত্র দিমিত্রি দনস্কয়ের দেহাবশেষের একটি অংশ। ১৩৮০ সালে কুলিকোভোর যুদ্ধে জয়ের জন্য রাশিয়ায় দনস্কয় বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। চলতি মাসের শুরুর দিকে তাঁর ডান হাতের একটি অংশ ইউক্রেনে রাশিয়ার দখলে থাকা বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

রুশ অর্থোডক্স চার্চের ধর্মীয় নেতৃত্ব দিমিত্রি দনস্কয়কে ‘সাধু সেনাপতি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। চার্চের ভাষ্যমতে, এই সাধু সেনাপতি অদৃশ্যভাবে রুশ সেনাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করবেন। দনস্কয় এই ডান হাত দিয়েই কুলিকোভোর যুদ্ধে তলোয়ার চালিয়েছিলেন। গত আগস্টে ক্রেমলিনের আর্চেঞ্জেল ক্যাথেড্রালে সংস্কারকাজ চালানোর সময় তাঁর দেহাবশেষ আবিষ্কৃত হয়। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একে ‘অনন্য আবিষ্কার’ এবং প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল একে ‘ঈশ্বরের বিশেষ সংকেত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

ফোর্ডহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সের্গেই চাপনিনের মতে, রুশ রাষ্ট্র ও চার্চের একীভূত হওয়ার ফলে দনস্কয়ের মতো ঐতিহাসিক যোদ্ধাকে ব্যবহার করাটা সেনাদের সংগঠিত করার একটি কৌশল হতে পারে। এর মাধ্যমে রুশ সেনাদের মাতৃভূমির রক্ষক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা অনেক সেনাসদস্যও এই ধর্মীয় বস্তুকে মানসিকভাবে ইতিবাচক বলে মনে করছেন। তাঁদের জন্য তৈরি করা অস্থায়ী গির্জায় অভিযানে যাওয়ার আগে প্রার্থনা করার সুযোগ পাচ্ছেন তারা।

তবে এই উদ্যোগ নিয়ে ধর্মযাজক ও সেনাসদস্যদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অনেক ধর্মযাজক যুদ্ধক্ষেত্রে দেহাবশেষ পাঠানোর সমালোচনা করেছেন। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে যুদ্ধরত এক রুশ সেনার মতে, একবিংশ শতাব্দীতে এসে এটি একটি অত্যন্ত অপ্রচলিত সমাধান। তাঁর মতে, এসব ধর্মীয় বস্তুর চেয়ে নিহত সেনাদের মায়েদের কাছে সান্ত্বনা পৌঁছানো বেশি প্রয়োজন ছিল।

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রণক্ষেত্রে এগিয়ে থাকতে সম্ভাব্য সব ধরনের কৌশল খাটিয়েছে মস্কো।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ রাজপুত্রের দেহাবশেষ পাঠানোর নেপথ্যে

আপডেট সময় : ১১:০৭:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত রুশ সেনারা শীতকালীন অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই সময়ে তাঁদের কাছে পৌঁছেছে এক ব্যতিক্রমী সহায়তা—মস্কোর হয়ে ছয় শ বছরেরও বেশি সময় আগে যুদ্ধ করা রাজপুত্র দিমিত্রি দনস্কয়ের দেহাবশেষের একটি অংশ। ১৩৮০ সালে কুলিকোভোর যুদ্ধে জয়ের জন্য রাশিয়ায় দনস্কয় বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। চলতি মাসের শুরুর দিকে তাঁর ডান হাতের একটি অংশ ইউক্রেনে রাশিয়ার দখলে থাকা বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

রুশ অর্থোডক্স চার্চের ধর্মীয় নেতৃত্ব দিমিত্রি দনস্কয়কে ‘সাধু সেনাপতি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। চার্চের ভাষ্যমতে, এই সাধু সেনাপতি অদৃশ্যভাবে রুশ সেনাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করবেন। দনস্কয় এই ডান হাত দিয়েই কুলিকোভোর যুদ্ধে তলোয়ার চালিয়েছিলেন। গত আগস্টে ক্রেমলিনের আর্চেঞ্জেল ক্যাথেড্রালে সংস্কারকাজ চালানোর সময় তাঁর দেহাবশেষ আবিষ্কৃত হয়। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একে ‘অনন্য আবিষ্কার’ এবং প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল একে ‘ঈশ্বরের বিশেষ সংকেত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

ফোর্ডহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সের্গেই চাপনিনের মতে, রুশ রাষ্ট্র ও চার্চের একীভূত হওয়ার ফলে দনস্কয়ের মতো ঐতিহাসিক যোদ্ধাকে ব্যবহার করাটা সেনাদের সংগঠিত করার একটি কৌশল হতে পারে। এর মাধ্যমে রুশ সেনাদের মাতৃভূমির রক্ষক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা অনেক সেনাসদস্যও এই ধর্মীয় বস্তুকে মানসিকভাবে ইতিবাচক বলে মনে করছেন। তাঁদের জন্য তৈরি করা অস্থায়ী গির্জায় অভিযানে যাওয়ার আগে প্রার্থনা করার সুযোগ পাচ্ছেন তারা।

তবে এই উদ্যোগ নিয়ে ধর্মযাজক ও সেনাসদস্যদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অনেক ধর্মযাজক যুদ্ধক্ষেত্রে দেহাবশেষ পাঠানোর সমালোচনা করেছেন। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে যুদ্ধরত এক রুশ সেনার মতে, একবিংশ শতাব্দীতে এসে এটি একটি অত্যন্ত অপ্রচলিত সমাধান। তাঁর মতে, এসব ধর্মীয় বস্তুর চেয়ে নিহত সেনাদের মায়েদের কাছে সান্ত্বনা পৌঁছানো বেশি প্রয়োজন ছিল।

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রণক্ষেত্রে এগিয়ে থাকতে সম্ভাব্য সব ধরনের কৌশল খাটিয়েছে মস্কো।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo