২৬ সেপ্টেম্বর থেকে হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন, লক্ষ্য ৩৪ লাখ শিশু
- আপডেট সময় : ০৫:৫৪:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

দেশে হামের টিকা থেকে বাদ পড়া এবং নতুন করে টিকার বয়স হওয়া প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ২৬শে সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে দেশব্যাপী এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে, যা চলবে ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত। রোববার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রয়োজনীয় টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে মোট ৫৮ লাখ ডোজ টিকা রয়েছে, যা থেকে অপচয় বাদ দেওয়ার পরও প্রায় ৫২ লাখ ডোজ উদ্বৃত্ত থাকবে। বিশেষ এই ক্যাম্পেইনে প্রাথমিকভাবে ৩৪ লাখ ডোজের প্রয়োজন হবে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার পরও হাতে থাকা অতিরিক্ত টিকা দিয়ে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করার কাজ অব্যাহত রাখা হবে। শুধু টিকাদান কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে আসার অপেক্ষায় না থেকে স্বাস্থ্যকর্মীরা এবার গ্রামে গ্রামে গিয়ে শিশুদের খুঁজে বের করে টিকার আওতায় আনবেন।
ক্যাম্পেইন চলাকালে নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা হবে যাতে একটি শিশুও বাদ না পড়ে। বিশেষ কার্যক্রম শুরুর দিন কোনো শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ না হলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে টিকা দেওয়া যাবে না, তবে পরবর্তী সময়ে বয়স পূর্ণ হওয়া মাত্রই তাকে টিকার আওতায় আনা হবে। এই কর্মসূচির সঙ্গে জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, সুপারিনটেনডেন্ট, ইউএইচএফপিও এবং ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরাসরি সম্পৃক্ত থাকবেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও বিভিন্ন কেন্দ্রে উপস্থিত থাকবেন।
বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হামে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় সবাই টিকাবিহীন বলে উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অনেক মা-বাবা কাজে ব্যস্ত থাকায় বা অন্য কোনো কারণে শিশুদের কেন্দ্রে নিয়ে যেতে পারেননি। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে মন্ত্রী জানান, অপুষ্টি ও বুকের দুধ না পাওয়া শিশুদের হাম হলে নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। দেশে তৈরি স্বল্পমূল্যের সিপ্যাপ (CPAP) ব্যবহারের মাধ্যমে এমন বহু শিশুর জীবন রক্ষা পাচ্ছে। হামের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা প্রটোকল না থাকায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্তদের ভেন্টিলেটর, সিপ্যাপ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের সংক্রমণ ঠেকানোর ক্ষেত্রে টিকাদান চালিয়ে যাওয়াই প্রধান চেষ্টা। অতীতে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চালু থাকলে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হতো না মন্তব্য করে তিনি জানান, ২০২০ (2020) সালের পর দায়িত্ব নেওয়ার সময় টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি ছিল এবং পরে তা আবার চালু করা হয়।
৩৪ লাখ শিশুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, এর আগে ২ কোটি ২৩ লাখ শিশুকে ভিটামিন এ দেওয়ার লক্ষ্য ছিল। সেখানে প্রথমে ১ কোটি ৮০ লাখ এবং পরে আরও ১৯ লাখ শিশুকে ভিটামিন এ দেওয়া হয়। অবশিষ্ট ২৪ লাখ শিশুর সঙ্গে নতুন করে ছয় মাস বয়স পূর্ণ করা ১০ লাখ শিশুকে যোগ করে এই ৩৪ লাখের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ও ভিটামিন এ কার্যক্রমের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসাব করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, চার মাস আগে থেকেই জেলা সদর ও সিটি করপোরেশনগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। প্রতি শনিবার দেশব্যাপী এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, যা ১২ই ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত মশার ওষুধ পরীক্ষা করে মানসম্মত পাওয়া গেছে। উপজেলা পর্যায়েও ডেঙ্গুর প্রাথমিক চিকিৎসা সম্ভব হলেও রোগীরা সরাসরি বড় হাসপাতালে চলে আসায় সেখানে চাপ বাড়ছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোবাইল হাসপাতাল ও প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত স্যালাইনের মজুত রয়েছে।





























