ঢাকা ০৯:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুদ্ধ জিতলে লুটের মালে বিজয়ীরই অধিকার, জাতিসংঘে ঘোষণা ট্রাম্পের বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রশাসনিক পদে সেনা কর্মকর্তাদের নিয়োগ জাতিসংঘের বিকল্প কেবলই কল্পনাতীত: ড. খলিলুর রহমান পুলিশের দাবি উন্নতি, বাস্তবে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা ও উৎকণ্ঠা পাকিস্তানে অনলাইনে যৌন নিপীড়নের ফাঁদে ১৫ লাখ শিশু গাজায় বিশ্ববাসীর নিষ্ক্রিয়তা লজ্জাজনক: জাতিসংঘে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গাইবান্ধা সরকারি কলেজে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে স্থানীয়ভাবে প্রতিহত করার আহ্বান প্রিন্সের স্ত্রীর মৃত্যুর তদন্তে ঘুষ: অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার দেবিদ্বারে মাকে কুপিয়ে ও আট মাসের ভাতিজিকে আছড়ে হত্যা

নেপালে বন্যায় নিখোঁজের ১১ দিন পর জীবিত উদ্ধার বৃদ্ধা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:২৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



নেপালের ভয়াবহ বন্যায় বাড়ি ভেসে যাওয়ার পর ১১ দিন নিখোঁজ ছিলেন ৬৪ বছর বয়সী চন্দিকা শ্রেষ্ঠা। দীর্ঘ আট দিন খোঁজাখুঁজির পরও কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবার ধরে নিয়েছিল যে তিনি আর বেঁচে নেই। এমনকি কুশ ঘাস দিয়ে প্রতীকী মরদেহ তৈরি করে তার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতাও শুরু করে দিয়েছিল পরিবার। তবে নাটকীয়ভাবে ১১তম দিনে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

কাঠমান্ডুর সানো ভারিয়াংয়ে পরিবারের বাড়িতে যখন শেষকৃত্যের প্রস্তুতি চলছিল, ঠিক তখনই নুয়াকোটের বেত্রাবতী বাজারের একটি বাড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারকারীরা তাকে উদ্ধার করেন। সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর পরিদর্শক সুমন বিকের নেতৃত্বে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়। চন্দিকা নুয়াকোটের বিদুর পৌরসভা-১০-এর বাসিন্দা ছিলেন। বন্যার সময় তিনি তার স্বামীর সঙ্গে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ভোতেকোশি নদীর প্রবল স্রোতে তাদের সাড়ে চারতলা বাড়িটি উপড়ে ভেসে যায়। চন্দিকার সম্বন্ধী রমেশ মান শ্রেষ্ঠা জানান, বাড়িটি পরবর্তীতে ত্রিশূলী নদীর তীরে আটকে যায়।

রমেশ মান শ্রেষ্ঠা জানান, তারা টানা আট দিন ধরে চন্দিকাকে খুঁজেছেন। তার জামাইও দুই-তিন দিন ধরে বেত্রাবতী ও ত্রিশূলী নদীর তীর চষে বেড়িয়েছেন। কিন্তু ওই এলাকায় প্রবেশ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে মাস্ক ছাড়া সেখানে যাওয়া অসম্ভব ছিল, সেইসঙ্গে গভীর কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে উদ্ধারকারীরাও অনেক জায়গায় পৌঁছাতে পারেননি। অনুসন্ধান ব্যর্থ হওয়ার পর পরিবার চন্দিকার শেষকৃত্যের সিদ্ধান্ত নেয়।

উদ্ধারের পর চন্দিকাকে হেলিকপ্টারে করে ত্রিশূলীর নেপাল আর্মির মাইবাল ব্যারাকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে কাঠমান্ডুর ছাউনির আর্মি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা পরিবারকে ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, যে কারণে রমেশ এখনো সরাসরি চন্দিকার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। হাসপাতালের বাইরে থেকে দূর থেকেই তাকে দেখার চেষ্টা করছেন তিনি। চন্দিকার নাতনিও হাসপাতালে রয়েছে, যে তার নানির অবস্থা দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। পরিবারের আট দিনের হতাশা এবং শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নেওয়ার পর চন্দিকার জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় রমেশ মান শ্রেষ্ঠা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, মনে হচ্ছে সত্যিই এই পৃথিবীতে ঈশ্বর আছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

নেপালে বন্যায় নিখোঁজের ১১ দিন পর জীবিত উদ্ধার বৃদ্ধা

আপডেট সময় : ১১:২৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় বাড়ি ভেসে যাওয়ার পর ১১ দিন নিখোঁজ ছিলেন ৬৪ বছর বয়সী চন্দিকা শ্রেষ্ঠা। দীর্ঘ আট দিন খোঁজাখুঁজির পরও কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবার ধরে নিয়েছিল যে তিনি আর বেঁচে নেই। এমনকি কুশ ঘাস দিয়ে প্রতীকী মরদেহ তৈরি করে তার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতাও শুরু করে দিয়েছিল পরিবার। তবে নাটকীয়ভাবে ১১তম দিনে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

কাঠমান্ডুর সানো ভারিয়াংয়ে পরিবারের বাড়িতে যখন শেষকৃত্যের প্রস্তুতি চলছিল, ঠিক তখনই নুয়াকোটের বেত্রাবতী বাজারের একটি বাড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারকারীরা তাকে উদ্ধার করেন। সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর পরিদর্শক সুমন বিকের নেতৃত্বে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়। চন্দিকা নুয়াকোটের বিদুর পৌরসভা-১০-এর বাসিন্দা ছিলেন। বন্যার সময় তিনি তার স্বামীর সঙ্গে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ভোতেকোশি নদীর প্রবল স্রোতে তাদের সাড়ে চারতলা বাড়িটি উপড়ে ভেসে যায়। চন্দিকার সম্বন্ধী রমেশ মান শ্রেষ্ঠা জানান, বাড়িটি পরবর্তীতে ত্রিশূলী নদীর তীরে আটকে যায়।

রমেশ মান শ্রেষ্ঠা জানান, তারা টানা আট দিন ধরে চন্দিকাকে খুঁজেছেন। তার জামাইও দুই-তিন দিন ধরে বেত্রাবতী ও ত্রিশূলী নদীর তীর চষে বেড়িয়েছেন। কিন্তু ওই এলাকায় প্রবেশ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে মাস্ক ছাড়া সেখানে যাওয়া অসম্ভব ছিল, সেইসঙ্গে গভীর কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে উদ্ধারকারীরাও অনেক জায়গায় পৌঁছাতে পারেননি। অনুসন্ধান ব্যর্থ হওয়ার পর পরিবার চন্দিকার শেষকৃত্যের সিদ্ধান্ত নেয়।

উদ্ধারের পর চন্দিকাকে হেলিকপ্টারে করে ত্রিশূলীর নেপাল আর্মির মাইবাল ব্যারাকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে কাঠমান্ডুর ছাউনির আর্মি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা পরিবারকে ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, যে কারণে রমেশ এখনো সরাসরি চন্দিকার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। হাসপাতালের বাইরে থেকে দূর থেকেই তাকে দেখার চেষ্টা করছেন তিনি। চন্দিকার নাতনিও হাসপাতালে রয়েছে, যে তার নানির অবস্থা দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। পরিবারের আট দিনের হতাশা এবং শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নেওয়ার পর চন্দিকার জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় রমেশ মান শ্রেষ্ঠা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, মনে হচ্ছে সত্যিই এই পৃথিবীতে ঈশ্বর আছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din