যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ ও নাগরিক সচেতনতার আহ্বান
- আপডেট সময় : ১১:৪৪:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার মতো জনবহুল শহরকে দূষণমুক্ত করতে এবং বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহরের তালিকা থেকে বের করে আনতে নাগরিকদের আচরণ ও মানসিকতায় পরিবর্তন আনা জরুরি। বিশেষ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশ, সামাজিক উৎসব, ধর্মীয় মাহফিল কিংবা যেকোনো বড় গণজমায়েত শেষে ফেলে রাখা আবর্জনা আমাদের দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়। এই ধরনের আয়োজন শেষে অনুষ্ঠানস্থল পরিষ্কার করা আয়োজক ও নাগরিকদের নৈতিক দায়িত্ব।
রাস্তাঘাটে বা যত্রতত্র ময়লা ফেলা অত্যন্ত সহজ হলেও তা পরিষ্কার করতে প্রতিদিন পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। যত্রতত্র ময়লা ফেলে যারা পরিবেশ নোংরা করেন, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যতই থাকুক না কেন, তারা নাগরিক সচেতনতার পরীক্ষায় ব্যর্থ হন। অন্যদিকে, যারা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দিনরাত পরিশ্রম করেন, তারাই সমাজের প্রকৃত দায়িত্বশীল নাগরিক। রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে রাজপথের সর্বত্রই মানুষের অসচেতনতার কারণে প্রতিনিয়ত ময়লা জমছে। বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখা যেমন নিজের দায়িত্ব, তেমনি ব্যবসায়ীদেরও উচিত তাদের দোকানের সামনে ময়লা রাখার ঝুড়ি বা ডাস্টবিন রাখা।
অসচেতনভাবে রাস্তায় একটি চিপসের প্যাকেট বা প্লাস্টিকের বোতল ফেলে দেওয়া ক্ষণিকের বিষয় মনে হলেও তা অন্যের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ১০ জন মানুষের ময়লা পরিষ্কার করার চেয়ে একজন মানুষের ময়লা না ফেলার অভ্যাস পরিবেশ রক্ষায় অনেক বেশি কার্যকর। ইসলামের পবিত্র সীরাত ও শরিয়তে পরিচ্ছন্নতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের নাগরিকরা নিজেদের দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে অত্যন্ত সচেতন। এমনকি বাংলাদেশ থেকে যারা বিদেশে ঘুরতে যান, তারা সেখানে ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান না পেয়ে আবর্জনা পকেটে রেখে দেন; অথচ নিজ দেশে ফেরার পর যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলেন।
গণজমায়েত বা উৎসবের পর যত্রতত্র আবর্জনা ফেলে রাখলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এর ফলে যে ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে:
প্লাস্টিক ও উচ্ছিষ্ট বর্জ্য মাটি ও পানি দূষিত করে এবং পরিবেশের সামগ্রিক ভারসাম্য নষ্ট করে।আবর্জনার স্তূপ থেকে মশা-মাছি ও ক্ষতিকর জীবাণু জন্ম নেয়, যা ডেঙ্গু, টাইফয়েড ও ডায়রিয়ার মতো মারাত্মক রোগ ছড়ায়।পচনশীল বর্জ্যের দুর্গন্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে এবং শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হয়।অব্যবস্থাপনার কারণে নাগরিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয় এবং আইনগত জটিলতা তৈরি হতে পারে।বিপরীতে, নিজের ফেলা আবর্জনা নিজে পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুললে বহুমুখী উপকারিতা পাওয়া যায়:
পরিবেশের সুস্থতা বজায় থাকে এবং রোগ-ব্যাধির প্রকোপ অনেকাংশে কমে যায়।মানুষ দেখে শেখে, ফলে একজন পরিষ্কার করলে অন্যরাও সচেতন হয় এবং সমাজে শৃঙ্খলা গড়ে ওঠে।পরবর্তী ব্যবহারকারীদের জন্য জায়গাটি সুন্দর ও উপযোগী থাকে এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ কমে।শিশু ও তরুণদের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি হয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়।গত ১৯ সেপ্টেম্বর পালিত হয়েছে বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস। একটি সুন্দর, সুস্থ ও সভ্য বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধ করা জরুরি। "যেখানে-সেখানে ময়লা নয়, ডাস্টবিন ব্যবহারে হোক পরিচ্ছন্নতার পরিচয়"—এই স্লোগানকে ধারণ করে আমাদের সবাইকে সচেতন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আপনার ছোট্ট সচেতনতাই পারে পরিবেশ দূষণ কমাতে, মশা-মাছির বিস্তার রোধ করতে এবং পরিবারকে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে।





























