ঢাকা ০৯:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুদ্ধ জিতলে লুটের মালে বিজয়ীরই অধিকার, জাতিসংঘে ঘোষণা ট্রাম্পের বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রশাসনিক পদে সেনা কর্মকর্তাদের নিয়োগ জাতিসংঘের বিকল্প কেবলই কল্পনাতীত: ড. খলিলুর রহমান পুলিশের দাবি উন্নতি, বাস্তবে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা ও উৎকণ্ঠা পাকিস্তানে অনলাইনে যৌন নিপীড়নের ফাঁদে ১৫ লাখ শিশু গাজায় বিশ্ববাসীর নিষ্ক্রিয়তা লজ্জাজনক: জাতিসংঘে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গাইবান্ধা সরকারি কলেজে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে স্থানীয়ভাবে প্রতিহত করার আহ্বান প্রিন্সের স্ত্রীর মৃত্যুর তদন্তে ঘুষ: অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার দেবিদ্বারে মাকে কুপিয়ে ও আট মাসের ভাতিজিকে আছড়ে হত্যা

জলবায়ু বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণে নেপালের দাবি ৫০০ কোটি ডলার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৪৭:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যার কবলে পড়ে নেপালে যে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, তার জন্য ধনী দেশগুলোকেই দায়ী করেছে কাঠমান্ডু। দেশটির মতে, উন্নয়নের নামে শিল্পকারখানা থেকে অনিয়ন্ত্রিত গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনই পরিবেশকে বিষিয়ে তুলেছে, যার সরাসরি শিকার হচ্ছে নেপালের মতো দেশগুলো। এই বিপর্যয়ের ধাক্কা সামাল দিতে জাতিসংঘ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ৫০০ কোটি ডলার আর্থিক সাহায্যের দাবি জানিয়েছে নেপাল।

নেপালের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৯৩৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজের সংখ্যা ৪ হাজারের বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৩৭৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া নয়াদিল্লির তথ্যমতে, সোমবার রাত ৯টা পর্যন্ত ১৫৮ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপালের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের প্রধান মহেশ্বর ধাকাল অভিযোগ করেছেন, কয়েক দশক ধরে ধনী দেশগুলোর গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফল ভুগছে নেপাল। তিনি বলেন, যারা এই বিপর্যয়ে সবচেয়ে কম ভূমিকা রেখেছে, তারাই আজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। গত সপ্তাহে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট হড়পা বানকেও তিনি মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফল হিসেবে উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘের জলবায়ু তহবিল থেকে নেপাল এই অর্থ পাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে তহবিলটির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ২০২৩ সালে গঠিত এই তহবিলে এখন পর্যন্ত মাত্র ৮২ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, অথচ বিভিন্ন দেশ থেকে ২৮০ কোটি ডলারের সাহায্যের অনুরোধ জমা পড়েছে। জাতিসংঘের জলবায়ু তহবিল বোর্ডের সাবেক সহ-সভাপতি রিচার্ড শেরম্যানের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেপালকে হয়তো ২ কোটি ডলার দেয়া সম্ভব, যা সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় খুবই সামান্য।

নেপালে যে ধরনের বিপর্যয় হয়েছে, এমন বড়সড় ধাক্কা মোকাবিলার মতো ক্ষমতা এখনও নেই জাতিসংঘ তহবিলের। এটি গঠনের জন্য এ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৮২ কোটি ডলার অনুদানের প্রতিশ্রুতি মিলেছে। অথচ তহবিল গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১১৯টি দেশ থেকে ২৮০ কোটি ডলার আর্থিক সাহায্যের অনুরোধ পেয়েছে তারা। জাতিসংঘের জলবায়ু তহবিল সংক্রান্ত বোর্ডের সাবেক সহ-সভাপতি রিচার্ড শেরম্যানের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে তহবিল থেকে নেপালকে ২ কোটি ডলার দেয়া যেতে পারে। তবে এটি যে নেপালকে সাহায্যের জন্য ‘কিছুই নয়’, তা-ও মানছেন তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

জলবায়ু বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণে নেপালের দাবি ৫০০ কোটি ডলার

আপডেট সময় : ১০:৪৭:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যার কবলে পড়ে নেপালে যে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, তার জন্য ধনী দেশগুলোকেই দায়ী করেছে কাঠমান্ডু। দেশটির মতে, উন্নয়নের নামে শিল্পকারখানা থেকে অনিয়ন্ত্রিত গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনই পরিবেশকে বিষিয়ে তুলেছে, যার সরাসরি শিকার হচ্ছে নেপালের মতো দেশগুলো। এই বিপর্যয়ের ধাক্কা সামাল দিতে জাতিসংঘ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ৫০০ কোটি ডলার আর্থিক সাহায্যের দাবি জানিয়েছে নেপাল।

নেপালের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৯৩৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজের সংখ্যা ৪ হাজারের বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৩৭৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া নয়াদিল্লির তথ্যমতে, সোমবার রাত ৯টা পর্যন্ত ১৫৮ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপালের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের প্রধান মহেশ্বর ধাকাল অভিযোগ করেছেন, কয়েক দশক ধরে ধনী দেশগুলোর গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফল ভুগছে নেপাল। তিনি বলেন, যারা এই বিপর্যয়ে সবচেয়ে কম ভূমিকা রেখেছে, তারাই আজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। গত সপ্তাহে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট হড়পা বানকেও তিনি মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফল হিসেবে উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘের জলবায়ু তহবিল থেকে নেপাল এই অর্থ পাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে তহবিলটির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ২০২৩ সালে গঠিত এই তহবিলে এখন পর্যন্ত মাত্র ৮২ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, অথচ বিভিন্ন দেশ থেকে ২৮০ কোটি ডলারের সাহায্যের অনুরোধ জমা পড়েছে। জাতিসংঘের জলবায়ু তহবিল বোর্ডের সাবেক সহ-সভাপতি রিচার্ড শেরম্যানের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেপালকে হয়তো ২ কোটি ডলার দেয়া সম্ভব, যা সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় খুবই সামান্য।

নেপালে যে ধরনের বিপর্যয় হয়েছে, এমন বড়সড় ধাক্কা মোকাবিলার মতো ক্ষমতা এখনও নেই জাতিসংঘ তহবিলের। এটি গঠনের জন্য এ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৮২ কোটি ডলার অনুদানের প্রতিশ্রুতি মিলেছে। অথচ তহবিল গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১১৯টি দেশ থেকে ২৮০ কোটি ডলার আর্থিক সাহায্যের অনুরোধ পেয়েছে তারা। জাতিসংঘের জলবায়ু তহবিল সংক্রান্ত বোর্ডের সাবেক সহ-সভাপতি রিচার্ড শেরম্যানের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে তহবিল থেকে নেপালকে ২ কোটি ডলার দেয়া যেতে পারে। তবে এটি যে নেপালকে সাহায্যের জন্য ‘কিছুই নয়’, তা-ও মানছেন তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin