শতকোটি রুপি আয় ও মা হতে চলা নিয়ে খোলামেলা সামান্থা
- আপডেট সময় : ০২:২৯:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

সামান্থা রুথ প্রভুর জীবনে এখন বসন্তের হাওয়া। দীর্ঘ তিন বছর পর পর্দায় ফিরে বাজিমাত করেছেন তিনি। তাঁর অভিনীত ‘মা ইনতি বঙ্গারাম’ বক্স অফিসে ১০০ কোটি রুপির মাইলফলক স্পর্শ করেছে, যা তাঁকে নতুন করে এক অ্যাকশন তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। একই সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও এসেছে এক বড় পরিবর্তনের খবর—তিনি মা হতে চলেছেন। সম্প্রতি দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নিজের এই বদলে যাওয়া সময়, মাতৃত্ব, অসুস্থতা ও ক্যারিয়ার নিয়ে অকপট কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।
‘মা ইনতি বঙ্গারাম’ সিনেমায় সামান্থার চরিত্রের নাম ‘স্বর্ণা’। সাধারণ এক গৃহবধূর পরিবারকে বাঁচাতে যুদ্ধে নামার এই গল্পটি লিখেছেন রাজ নিদিমোরু। চরিত্রটি প্রথমে সাই পল্লবীর করার কথা থাকলেও পরে সামান্থাকে মাথায় রেখে এর বড় অংশ নতুন করে লেখা হয়। সামান্থা জানান, স্বর্ণার বারবার পড়ে গিয়ে উঠে দাঁড়ানোর লড়াইটি তাঁর নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গেই মিলে যায়। শুটিংয়ের সময় স্বর্ণা, সামান্থা এবং ছবির পরিচালক ঝাঁসির মধ্যকার সীমারেখাও অনেক সময় ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল। রাজের ওপর গভীর আস্থা থাকায় অনেক দৃশ্য এক টেকেই সম্পন্ন হয়েছে।
প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে সামান্থার প্রথম ছবি ছিল ‘মসকোইন কাবেরি’। তবে ২০২২ সালে মায়োসাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভেবেছিলেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে এক বছর বিরতি নিয়ে তিনি একাধিক ব্যবসায় বিনিয়োগ করে নিজেকে 'সিরিয়াল উদ্যোক্তা' হিসেবে গড়ে তোলেন। ‘সিটাডেল’–এর শুটিংয়ের সময় অসুস্থ শরীর নিয়ে কাজ করার গ্লানি তাঁকে কষ্ট দিত। তাই তিনি পর্দার সামনে না দাঁড়িয়ে কেবল ‘মা ইনতি বঙ্গারাম’ প্রযোজনার মাধ্যমে পর্দার আড়ালে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাজ নিদিমোরুর বিশ্বাস ও জেদের কারণেই তিনি আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। এর আগে ‘সিটাডেল’–এর সময়ও তিনি কাজ ছেড়ে দেওয়ার ই-মেইল পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু নির্মাতারা তাঁকে ছাড়েননি।
ঝুঁকি এড়াতে মাত্র ৫৪ দিনে ‘মা ইনতি বঙ্গারাম’ ছবির শুটিং শেষ করা হয়েছিল। এমনকি বাসের অ্যাকশন দৃশ্য ও ক্লাইম্যাক্সসহ বেশ কিছু দৃশ্য এক দিনেই শুট করা হয়। বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইউনিটের সবাই নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছেন, অনেকেই বন্ধু ও পরিবারের কাছ থেকে অর্থ জোগাড় করে বিনিয়োগ করেছেন। মুক্তির পর সিনেমাটির অভাবনীয় সাফল্য এবং প্রেক্ষাগৃহে সব বয়সী নারী ও শিশুদের উৎসবমুখর উপস্থিতি সামান্থাকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে। এই সাফল্যকে তিনি কোনো এক রাতের ঘটনা মনে করেন না, বরং এটি গত দুই বছরের ধাপে ধাপে নিজেকে ঠিক করার ফল।
অসুস্থতা সামান্থার জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। আগে নিজের মূল্য কেবল কাজ ও সাফল্যের মাপকাঠিতে নির্ধারণ করলেও, মায়োসাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি নিজের কাজের বাইরে ব্যক্তিগত সত্তা, মানসিক শান্তি ও স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন। এই কারণে তিনি এখন কাজ অনেক কমিয়ে দিয়েছেন এবং প্রায় ১৫ থেকে ২০টি ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। অসুস্থতা তাঁকে কৃত্রিম আত্মবিশ্বাসের বদলে প্রকৃত স্থিতি ও আশা ধরে রাখতে শিখিয়েছে। তিনি এখন ‘কেন আমার সঙ্গে এমন হলো’ ভাবার বদলে ‘এখান থেকে কী শেখা যায়’ তা নিয়ে ভাবেন।
পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে রাজ নিদিমোরু এখন সামান্থার বড় ভরসার জায়গা। রাজ তাঁকে একজন ভালো অভিনেতা হতে সাহায্য করেছেন বলে তিনি মনে করেন। তবে রসিকতা করে সামান্থা এও বলেন, তিনি রাজকে আরও ভালো পরিচালক বানিয়েছেন কি না, তা তিনি বলতে পারবেন না। এদিকে মাতৃত্বের নতুন অধ্যায় নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত সামান্থা। তিনি ও রাজ একসময় ধরে নিয়েছিলেন যে সন্তান হয়তো তাঁদের হবে না। তাই ‘মা ইনতি বঙ্গারাম’ সিনেমার একটি গানের শুটিংয়ের সময় যখন তিনি নিজের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর পান, তা ছিল তাঁদের জন্য এক অপ্রত্যাশিত পরম আনন্দ। গানের নাচের স্টেপ করতে গিয়ে শরীর কিছুটা খারাপ লাগার পরই বিষয়টি বুঝতে পারেন তিনি।
নারীদের নিয়ে নিজের ভাবনার কথাও জানিয়েছেন সামান্থা। তিনি চান নারীরা যেন নিজেদের কখনো ছোট করে না রাখেন এবং নিজের সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব নিজে নিতে শেখেন। চলচ্চিত্রে নারী চরিত্রগুলো যেন কেবল পুরুষের ছায়া না হয়ে বাস্তব ও জটিল হয়ে ওঠে, সেই পরিবেশ তৈরি করতে চান তিনি। নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ত্রালালা’র মাধ্যমে ইতিমধ্যে দুটি সিনেমা প্রযোজনা করেছেন এবং সেখানেও নারী নেতৃত্ব ও নতুন প্রতিভাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। মাতৃত্বের কারণে দীর্ঘ বিরতিতে না গিয়ে নিজের শরীর বুঝে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সামান্থা।





























