হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট: ১০ হাজার কোটি রুপির সম্পদ নিয়ে শীর্ষে শাহরুখ
- আপডেট সময় : ১০:২১:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

২০২৬ সালের এম৩এম হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্টে ভারতীয় অভিনয়শিল্পীদের সম্পদের এক বৈচিত্র্যময় চিত্র উঠে এসেছে। এই তালিকায় বরাবরের মতোই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন বলিউড তারকা শাহরুখ খান। বর্তমানে তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি রুপি। তবে গত বছরের তুলনায় এবার তাঁর সম্পদের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। ২০২৫ সালে হুরুন তালিকায় তাঁর সম্পদ ছিল ১২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি, যা এক বছরে ২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি হ্রাস পেয়েছে। তা সত্ত্বেও শীর্ষস্থানটি তাঁরই দখলে রয়েছে। শাহরুখের এই বিশাল সম্পদের একটি বড় অংশ এসেছে অভিনয়ের বাইরে তাঁর গড়া বিভিন্ন ব্যবসা থেকে। এর মধ্যে রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্টের মতো প্রযোজনা ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস ব্যবসা এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সসহ ক্রিকেটভিত্তিক ব্যবসায় যুক্ত নাইট রাইডার্স স্পোর্টস অন্যতম। ২০২৩ সালে ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’ ও ‘ডানকি’ দিয়ে বড় পর্দায় দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের পর তাঁর নতুন কোনো ছবি আসেনি। তবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে তাঁর নতুন ছবি ‘কিং’ মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করবেন মেয়ে সুহানা খান।
হুরুনের এই তালিকায় থাকা শীর্ষ ১০ অভিনেতার সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৩৫০ কোটি রুপি। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ অর্থাৎ একাই ১০ হাজার কোটি রুপির মালিক শাহরুখ খান। তালিকায় প্রথম পাঁচজন—শাহরুখ খান, নাগার্জুন, অমিতাভ বচ্চন, সালমান খান ও হৃতিক রোশনের মোট সম্পদ প্রায় ২৪ হাজার ৫০০ কোটি রুপি, যা শীর্ষ ১০ জনের মোট সম্পদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ। এছাড়া তালিকায় বলিউডের ছয়জন তারকার পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতের তেলুগু সিনেমার চারজন তারকার উপস্থিতি ভারতীয় চলচ্চিত্র অর্থনীতির এক নতুন রূপ তুলে ধরেছে। এই চার তেলুগু তারকার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার ৭৫০ কোটি রুপি।
তালিকায় ৫ হাজার কোটি রুপির সম্পদ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় তারকা নাগার্জুন আক্কিনেনি। অভিনয় ছাড়াও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান অন্নপূর্ণা স্টুডিওস এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক বিনিয়োগ তাঁর এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। ৪ হাজার কোটি রুপি নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বলিউডের শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন। প্রায় ছয় দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অভিনয়ের পাশাপাশি টেলিভিশন, বিজ্ঞাপন ও রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। গত এক বছরে তাঁর সম্পদের এক নাটকীয় পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২৫ সালে তাঁর সম্পদ ছিল ১ হাজার ৬৩০ কোটি রুপি, যা ২০২৬ সালের তালিকায় এক লাফে ২ হাজার ৩৭০ কোটি রুপি বেড়ে ৪ হাজার কোটিতে পৌঁছেছে। ফ্যামিলি অফিস ও বিভিন্ন লাভজনক বিনিয়োগের কারণে তাঁর এই অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। ৩ হাজার কোটি রুপি নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে আছেন সালমান খান। অভিনয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি এবং তাঁর নিজস্ব ব্র্যান্ড ‘বিইং হিউম্যান’ থেকে তাঁর আয়ের একটি বড় অংশ আসে।
তালিকায় পঞ্চম স্থানে থাকা হৃতিক রোশনের আনুমানিক সম্পদ ২ হাজার ৫০০ কোটি রুপি। গত বছরের ২ হাজার ১৬০ কোটি রুপি থেকে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ৩৪০ কোটি রুপি। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর লাইফস্টাইল ও ফিটনেস ব্র্যান্ড ‘এইচআরএক্স’ তাঁর এই ব্যবসায়িক সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে। ষষ্ঠ স্থানে থাকা অক্ষয় কুমারের সম্পদের পরিমাণ ২ হাজার ৩০০ কোটি রুপি। নিয়মিত চলচ্চিত্রে অভিনয়, বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক বিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি তাঁর আয়ের পরিধি বাড়িয়েছেন। অন্যদিকে, ১ হাজার ৮০০ কোটি রুপি নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছেন আমির খান। ছবিতে অভিনয়ের সংখ্যা কম হলেও প্রতিটি সিনেমার ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব ও তাঁর নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এই সম্পদ অর্জন করেছেন।
তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছেন তেলুগু সিনেমার কিংবদন্তি চিরঞ্জীবী, যাঁর সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৭০০ কোটি রুপি। চার দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর বিভিন্ন বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক উদ্যোগ রয়েছে। ১ হাজার ৬৫০ কোটি রুপি নিয়ে নবম স্থানে রয়েছেন তেলুগু তারকা ভেঙ্কটেশ দগ্গুবতী। অভিনয়ের পাশাপাশি পারিবারিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘সুরেশ প্রোডাকশনস’-এর সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা তাঁর আর্থিক ভিত্তিকে মজবুত করেছে। আর ১ হাজার ৪০০ কোটি রুপি নিয়ে তালিকার দশম স্থানে রয়েছেন তরুণ তারকা রাম চরণ। ‘আরআরআর’ সিনেমার আন্তর্জাতিক সাফল্য এবং অভিনয়, প্রযোজনা ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি এই তালিকায় নিজের স্থান করে নিয়েছেন।




























