ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলা, প্রতিবাদে সোচ্চার শোবিজ তারকারা
- আপডেট সময় : ০৬:২৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

ইতালিতে জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের বিরুদ্ধে এই হামলা ও শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ তুলেছেন অভিনেত্রী নিজেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দেশের শোবিজ অঙ্গনের তারকারা তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করছেন।
ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মাটিতে এই হামলার ঘটনাকে 'বর্বরোচিত' ও 'লজ্জাজনক' বলে অভিহিত করেছেন নির্মাতা আশফাক নিপুন। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, "এটা চরম লজ্জাজনক! বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ‘ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’-এর মাটিতে একজন শিল্পীর ওপর হামলা, যেখানে তিনি বাংলাদেশি সিনেমার প্রতিনিধিত্ব করছিলেন, এটা বর্বর ও দুঃখজনক। আশা করি, দ্রুত আইনি সহায়তা পাবেন তিনি।"
ঘটনাটি নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী সাফা কবির। এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি জানান, "আমি ভীষণভাবে মর্মাহত, ক্ষুব্ধ এবং লজ্জিত। আজমেরী হক বাঁধন আপু ও তার পরিবারকে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো শিল্পীরই এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া উচিত নয়। একজন শিল্পী যখন দেশের বাইরে একটি চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের চলচ্চিত্র ও নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যান, তখন তার প্রাপ্য হওয়া উচিত সম্মান ও নিরাপত্তা; অপমান-হয়রানি বা আতঙ্ক নয়।"
সাফা কবির আরও বলেন, "দুঃখজনকভাবে, আমাদের দেশের শিল্পীদের বারবার কোনো না কোনোভাবে রাজনীতির জঘন্য টানাপড়েনের মধ্যে টেনে আনা হয়। শিল্পী সত্য, ন্যায় ও মানুষের কথা বলবেন এটাই তো শিল্পীর স্বাধীনতা। কিন্তু সেই কণ্ঠের জন্য কেন তাকে বারবার মূল্য দিতে হবে? আরো কষ্ট হয়, যখন কিছু মানুষের আচরণের কারণে পুরো জাতিকে বিচার করা হয়, আমাদের হিংস্র, উগ্র কিংবা অসভ্য হিসেবে পরিচিত হতে হয়। কিছু মানুষের কাজের দায় কেন একটি পুরো দেশের মানুষ বহন করবে? কেন সাধারণ বাংলাদেশিদের তার মূল্য দিতে হবে, দেশের বাইরে সম্মান থেকে শুরু করে ভিসা কিংবা চলাচলের ক্ষেত্রেও?" এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, "বাঁধন আপুর সঙ্গে যা ঘটেছে, তাতে আমি গভীরভাবে ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ। আমি চাই, এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক এবং তিনি ন্যায়বিচার পান। তবে একই সঙ্গে ভয়ও হয়য় এই ঘটনাটিও কী কয়েক দিনের খবর হয়ে থাকবে? কিছু আলোচনা, some প্রতিবাদ, কিছু সংবাদ তারপর নতুন কোনো ঘটনার নিচে চাপা পড়ে যাবে? আমরা যেন ভুলে না যাই। কারণ একজন শিল্পীর নিরাপত্তা, সম্মান এবং স্বাধীনতার প্রশ্ন শুধু একজন শিল্পীর নয়, এটি আমাদের সমাজ, আমাদের দেশ এবং আমাদের পরিচয়েরও প্রশ্ন। একজন শিল্পীর কণ্ঠ, সম্মান ও নিরাপত্তা কখনোই রাজনীতির মূল্য হওয়া উচিত নয়।"
অভেনত্রী পরীমণি তার ফেসবুক পোস্টে আক্রমণকারীদের তীব্র ভাষায় কটূক্তি করে লিখেছেন, "বেশি কিছু না। কতগুলো কু*ত্তার বাচ্চা রাস্তায় ঘেউ ঘেউ করছে। এদের কাছে মানুষের বাচ্চার কান্না কিছুই ম্যাটার করে না।" অন্যদিকে, অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভাও ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, "ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপরে হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।"
মডেল, অভিনেত্রী ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুল মানুষের ক্রমবর্ধমান নিষ্ঠুরতা ও অসংবেদনশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, "মানুষ দিন দিন এতটা নিষ্ঠুর আর অসংবেদনশীল হয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে নারী আর শিল্পীদের প্রতি, যেটা সত্যিই ভাবায়। দেশের বাইরে থাকলেই যে মানুষের চিন্তা-ভাবনা বদলে যায় বা মনটা আরো ওপেন হয়ে যায়, আসলে তা না। আমার কাছে আসল উন্নতি বোঝা যায় একজন মানুষ অন্যকে কতটা সম্মান করে, কতটা বুঝতে পারে, আর কতটা মানবিক থাকতে পারে, সেখানেই। দুঃখের বিষয়, এই জায়গাগুলোতেই আমরা যেন ধীরে ধীরে পিছিয়ে যাচ্ছি।"
অভিনেতা ও সঞ্চালক শাহরিয়ার নাজিম জয় দেশে-বিদেশে দলমত নির্বিশেষে সকল শিল্পীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। মব সংস্কৃতির বিরোধিতা করে তিনি সহ-শিল্পীদের উদ্দেশে বলেন, "দেশে এবং বিদেশে দলমত নির্বিশেষে সকল শিল্পীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি রইল। মব-কে সমর্থন করিনি, কখন করব-ও না। আর কোনো শিল্পী বিপদে পড়লে সহ-শিল্পী হিসেবে আপনি হাইসেন না। আপনার বেলায় যারা হেসেছিল, তারাও অন্যায় করেছিল। কোথাও না কোথাও থামতে হয়। শিল্পীরা ঐক্যবদ্ধ থাকুন। শিল্পীদের ঐক্যবদ্ধ রাখুন।"





























