ঢাকা ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বর্ষায় চোখ ওঠা রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে পারে মিশর, জানালেন এরদোয়ান বগুড়ায় তাঁতীদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার দাবি বিএনপির স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন: মহাসচিব ও মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের আলোচনা কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টার আশ্বাস ধর্মমন্ত্রীর ডিজিটাল অর্থনীতিতে গতি আনতে স্পেকট্রাম নীতিমালায় পরিবর্তনের আহ্বান ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ নিয়ে এআইএফএফ-এর সমালোচনা করলেন ভুটিয়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নামে প্রতারণা: বিশেষ সতর্কবার্তা জারি ভোমরা সীমান্তে ভারত-বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের মিষ্টি ও ফুল বিনিময় সরকারি কাজে বাধা দিলে দলের লোককেও ছাড় নয়: সংস্কৃতিমন্ত্রী

শুদ্ধ সংগীতকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চান রাহুল গোমেজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলা সংগীতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের কাছে শুদ্ধ সংগীতের আবেদন পৌঁছে দিতে চান তরুণ সংগীতশিল্পী রাহুল গোমেজ। শাস্ত্রীয় সংগীতের পাশাপাশি ধ্রুপদি গিটারবাদক, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে পরিচিতি রয়েছে তার। শুধু শাস্ত্রীয় সংগীতই নয়, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, পঞ্চকবির গান, লোকসংগীত, ভাওয়াইয়া ও মেলো-রকসহ সংগীতের নানা ধারায় নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন এই গুণী শিল্পী।

রাহুল গোমেজের জন্ম ও বেড়ে ওঠা এক সুরময় ও সংগীতপ্রাণ পরিবারে। তার বাবা ও মা দুজনেই শাস্ত্রীয় ও লোকসংগীতের সঙ্গে জড়িত থাকায় শৈশব থেকেই সুর, তাল ও লয়ের আবহে বড় হয়েছেন তিনি। ছোটবেলায় দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তন থেকে রবীন্দ্রসংগীতের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এর পাশাপাশি নজরুলসংগীত, শাস্ত্রীয় সংগীত ও লোকগানসহ বাংলা গানের বিভিন্ন ধারায় চর্চা অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমানে তিনি নজরুল একাডেমিতে শিশুদের নজরুলসংগীত চর্চায় যুক্ত থাকার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সংগীত বিভাগের প্রশাসনিক দায়িত্বও সামলাচ্ছেন।

শিক্ষাজীবনে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন রাহুল। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েই সংগীতচর্চা, মঞ্চ পরিবেশনা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সবার নজর কাড়েন তিনি। এআইইউবি মিউজিক চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরবও রয়েছে তার ঝুলিতে। এছাড়া টেলিভিশনভিত্তিক রিয়েলিটি শোতেও নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। চ্যানেল আইয়ের রবীন্দ্রসংগীতভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘নব গানে নব প্রাণে’-এর সেরা ১০ প্রতিযোগীর একজন ছিলেন তিনি। পাশাপাশি জনপ্রিয় সংগীতবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘পাওয়ার ভয়েস’-এও শীর্ষস্থানীয় প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নেন।

দীর্ঘ সংগীতযাত্রায় রাহুল গোমেজ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, চিকিৎসক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ডা. আব্দুন নূর তুষার এবং বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানীর কাছ থেকে পুরস্কার, সম্মাননা ও স্বীকৃতি লাভ করেছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), এনটিভি, আরটিভি, যমুনা টেলিভিশন, মাছরাঙা টেলিভিশন, একুশে টেলিভিশন ও চ্যানেল ২৪-সহ দেশের প্রায় সবকটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে তার সংগীত পরিবেশনা প্রচারিত হয়েছে। ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময়ে বাবার লেখা আশির দশকের একটি গান নতুন সংগীতায়োজনে বিশেষ সংগীতচিত্র হিসেবে প্রকাশ করেন রাহুল, যা শ্রোতাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

সংগীতকে কেবল বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখেন না রাহুল গোমেজ। তার মতে, সংগীত মানুষের আবেগ ও স্মৃতি ধারণ করার পাশাপাশি ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও মানবিকতার এক দৃঢ় বন্ধন তৈরি করে। এই বিশ্বাস থেকেই শাস্ত্রীয় সংগীতের বিভিন্ন ঘরানা নিয়ে গবেষণা, সুর সৃষ্টি, সংগীত পরিচালনা ও ধ্রুপদি গিটার পরিবেশনার পাশাপাশি বাংলা গানের ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। সংগীতের বাইরে পেশাগত জীবনেও তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, যেখানে তিনি বেক্সিমকো গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত জীবন ও সংগীতের এই মেলবন্ধনে দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও শুদ্ধ সংগীতের সৌন্দর্য তরুণ প্রজন্মের মনে ছড়িয়ে দেওয়াই তার আগামী দিনের মূল লক্ষ্য।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

শুদ্ধ সংগীতকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চান রাহুল গোমেজ

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলা সংগীতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের কাছে শুদ্ধ সংগীতের আবেদন পৌঁছে দিতে চান তরুণ সংগীতশিল্পী রাহুল গোমেজ। শাস্ত্রীয় সংগীতের পাশাপাশি ধ্রুপদি গিটারবাদক, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে পরিচিতি রয়েছে তার। শুধু শাস্ত্রীয় সংগীতই নয়, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, পঞ্চকবির গান, লোকসংগীত, ভাওয়াইয়া ও মেলো-রকসহ সংগীতের নানা ধারায় নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন এই গুণী শিল্পী।

রাহুল গোমেজের জন্ম ও বেড়ে ওঠা এক সুরময় ও সংগীতপ্রাণ পরিবারে। তার বাবা ও মা দুজনেই শাস্ত্রীয় ও লোকসংগীতের সঙ্গে জড়িত থাকায় শৈশব থেকেই সুর, তাল ও লয়ের আবহে বড় হয়েছেন তিনি। ছোটবেলায় দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তন থেকে রবীন্দ্রসংগীতের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এর পাশাপাশি নজরুলসংগীত, শাস্ত্রীয় সংগীত ও লোকগানসহ বাংলা গানের বিভিন্ন ধারায় চর্চা অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমানে তিনি নজরুল একাডেমিতে শিশুদের নজরুলসংগীত চর্চায় যুক্ত থাকার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সংগীত বিভাগের প্রশাসনিক দায়িত্বও সামলাচ্ছেন।

শিক্ষাজীবনে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন রাহুল। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েই সংগীতচর্চা, মঞ্চ পরিবেশনা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সবার নজর কাড়েন তিনি। এআইইউবি মিউজিক চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরবও রয়েছে তার ঝুলিতে। এছাড়া টেলিভিশনভিত্তিক রিয়েলিটি শোতেও নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। চ্যানেল আইয়ের রবীন্দ্রসংগীতভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘নব গানে নব প্রাণে’-এর সেরা ১০ প্রতিযোগীর একজন ছিলেন তিনি। পাশাপাশি জনপ্রিয় সংগীতবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘পাওয়ার ভয়েস’-এও শীর্ষস্থানীয় প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নেন।

দীর্ঘ সংগীতযাত্রায় রাহুল গোমেজ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, চিকিৎসক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ডা. আব্দুন নূর তুষার এবং বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানীর কাছ থেকে পুরস্কার, সম্মাননা ও স্বীকৃতি লাভ করেছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), এনটিভি, আরটিভি, যমুনা টেলিভিশন, মাছরাঙা টেলিভিশন, একুশে টেলিভিশন ও চ্যানেল ২৪-সহ দেশের প্রায় সবকটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে তার সংগীত পরিবেশনা প্রচারিত হয়েছে। ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময়ে বাবার লেখা আশির দশকের একটি গান নতুন সংগীতায়োজনে বিশেষ সংগীতচিত্র হিসেবে প্রকাশ করেন রাহুল, যা শ্রোতাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

সংগীতকে কেবল বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখেন না রাহুল গোমেজ। তার মতে, সংগীত মানুষের আবেগ ও স্মৃতি ধারণ করার পাশাপাশি ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও মানবিকতার এক দৃঢ় বন্ধন তৈরি করে। এই বিশ্বাস থেকেই শাস্ত্রীয় সংগীতের বিভিন্ন ঘরানা নিয়ে গবেষণা, সুর সৃষ্টি, সংগীত পরিচালনা ও ধ্রুপদি গিটার পরিবেশনার পাশাপাশি বাংলা গানের ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। সংগীতের বাইরে পেশাগত জীবনেও তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, যেখানে তিনি বেক্সিমকো গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত জীবন ও সংগীতের এই মেলবন্ধনে দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও শুদ্ধ সংগীতের সৌন্দর্য তরুণ প্রজন্মের মনে ছড়িয়ে দেওয়াই তার আগামী দিনের মূল লক্ষ্য।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh