মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে পারে মিশর, জানালেন এরদোয়ান
- আপডেট সময় : ০১:৩৪:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিশরও যুক্ত হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। আলজাজিরা আরবির ‘আল মুকাবালা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই চুক্তিটি ভবিষ্যতে অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং মিশরের অংশগ্রহণের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এরদোয়ান মনে করেন, মিশরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের অংশগ্রহণ চুক্তিটিকে আরও সম্প্রসারিত করবে এবং এটি বিশ্বমঞ্চে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে।
গত শুক্রবার মক্কা নগরীতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হলে তাকে সম্মিলিতভাবে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। বিশ্লেষকদের অনেকে একে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা করলেও, পাকিস্তানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এটিকে ন্যাটোর সমতুল্য বা কোনো একক দেশকে লক্ষ্য করে প্রণীত জোট হিসেবে অভিহিত করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক সংকট নিয়েও কথা বলেন। তিনি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এই পথ বন্ধ থাকা কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয়। পাশাপাশি আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে কাতারের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন তিনি। গাজা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, তুরস্ক গাজাকে এককভাবে ছেড়ে দেবে না এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সমর্থন অব্যাহত রাখবে। হামাস সদিচ্ছার সঙ্গে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেও ইসরাইল যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
লেবাননে ইসরাইলি হামলার ঘটনায় আঙ্কারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জানিয়ে এরদোয়ান বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক তুরস্ক সফরের সময় তিনি যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছিলেন। এছাড়া সুদান ও লিবিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক স্থিতিশীল রয়েছে এবং দেশ দুটিকে সমর্থন দেওয়া অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান। ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তুরস্কের সদস্যপদ পাওয়া এখন আর তাদের অগ্রাধিকার নয়, এতে বরং ইউরোপই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
দীর্ঘদিনের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি নিয়ে এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক এই কর্মসূচিতে ফিরে আসার আশা রাখে। ২০১৯ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর তুরস্ককে এই কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। যদিও ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবে ২০২০ সালের মার্কিন আইন অনুযায়ী পেন্টাগনের পক্ষে তুরস্কের এস-৪০০ থাকা অবস্থায় যুদ্ধবিমান হস্তান্তর করা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে এখনো বিরোধিতা বিদ্যমান রয়েছে।
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ৪৯আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০১: ০৩




























