৬২ বছরে পদার্পণ: নানা আয়োজনে রুয়েটে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন
- আপডেট সময় : ০৭:২৭:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬: ৫০
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অত্যন্ত বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২৬’ উদযাপিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই উৎসবমুখর দিনটি উদযাপিত হয়। প্রতি বছর ১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করে আসছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
সকাল সাড়ে ৯টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন তিনটি পায়রা অবমুক্ত করে এই উৎসবের উদ্বোধন করেন। এরপর ক্যাম্পাসে শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণে দোয়া ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে অতিথিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত গবেষণা পোস্টার ও স্টার্টআপ মডিউল প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের বিভিন্ন উদ্ভাবন ও গবেষণা তুলে ধরেন।
দিবসটি উপলক্ষে রক্তদাতা সংগঠন ‘নিরব’-এর উদ্যোগে একটি বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিনামূল্যে রক্ত ও চক্ষু পরীক্ষা সেবা প্রদান করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে, যাতে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, ১৯৬৪ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরুর পর রুয়েট শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। গবেষণার মূল লক্ষ্য কেবল প্রকাশনা বা সাইটেশন হওয়া উচিত নয়, বরং তা মানুষের কল্যাণ ও বাস্তব সমস্যা সমাধানে কাজে লাগাতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গবেষণাকে এগিয়ে নিতে ইউজিসি ‘রিসার্চ রেভল্যুশন’-এর মতো উদ্যোগ গ্রহণ করছে এবং শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য হলো নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলা।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক রুয়েটের ৬২ বছরের গৌরবময় পথচলার কথা উল্লেখ করেন এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি রুয়েটকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ক্ষেত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ অবদানের কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি গবেষণা খাতে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং ইউজিসির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। রুয়েটকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। যোহরের নামাজের পর রুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমৃদ্ধি, শহীদ ও প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, পরদিন এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এই বর্ণিল কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে।




























