জুলাই আন্দোলনে জবির মিছিলের অপেক্ষায় থাকতাম: নাহিদ ইসলাম

- আপডেট সময় : ০৮:১৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তারা নিয়মিত অপেক্ষা করতেন কখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) মিছিল আসবে। মঙ্গলবার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জবি শাখা আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: পুলিশ থেকে চলমান বিপ্লব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন। তিনি বলেন, “যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আছেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়া গর্বের। আমরা জুলাইয়ের সকল শহীদ এবং যাদের সামান্য স্যাক্রিফাইস রয়েছে, তাদের সবাইকে স্মরণ করছি।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের বড় অবদান ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশ গড়ার কাজে সবসময় ফলাফল পেলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন পায়নি। তাই তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে সুনজর দেওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আরও আধুনিক ও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজধানীর মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি মানসম্মত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে এটি আরও বড় অবদান রাখতে পারবে।
আলোচনা সভায় জুলাইয়ের শহীদ সাজিদের মা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমি আমার সাজিদের গেঞ্জি নিয়ে এখনো ঘুমাই। আমি এখনো জিন্দা লাশের মতো বেঁচে আছি। আমি শহীদের মা হিসেবে এখানে এসেছি।” জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. ইমরানুল হক জুলাইয়ের শহীদদের অবদান স্মরণ করে বলেন, জগন্নাথ থেকে তারা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তারা কখনো দ্বিতীয় হবে না, বরং প্রথম হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নাসির উদ্দিন বলেন, জগন্নাথবাসী নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাসে ফিরতে দেবে না। প্রয়োজনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের গোপনে পড়াশোনা শেষ করার কথাও তিনি বলেন। এছাড়া জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ যোদ্ধা মাহাদী আমিনের বাবা আল-আমিন তার ছেলের আহত হওয়ার ঘটনা ও আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, যাত্রাবাড়ীতে তার ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল এবং আন্দোলনের সময় তিনি আন্দোলনকারীদের পানি দিয়ে সহযোগিতা করতেন। পরে তার ছেলে মাহাদীর মাথায় গুলি লাগার পর পরিবারের জীবন এলোমেলো হয়ে যায়।
জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার শেখ হাসিনার পতন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও বেকারত্ব দূর করার আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন এবং বর্তমান রাজনীতির সমালোচনা করেন। সভাপতি জাহিদ আহসান জুলাইয়ের আগের বৈষম্য দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল-আমিন বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে জবির কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: পুলিশ থেকে চলমান বিপ্লব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।




























