কাগজে-কলমে কমলেও বাজারে নেই স্বস্তি, প্রয়োজন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ
- আপডেট সময় : ০২:৩৩:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসের ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে। মাত্র শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট কমার এই পরিসংখ্যান কাগজে-কলমে স্বস্তি দিলেও বাস্তব বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরেই রয়ে গেছে।
অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়, বরং দাম বাড়ার গতি কিছুটা ধীর হওয়া। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বজায় থাকায় পণ্যের মূল্যস্তর ইতিমধ্যেই অনেক উঁচুতে উঠে গেছে। সেই তুলনায় যদি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের আয় না বাড়ে, তবে এই সামান্য হ্রাস কোনো স্বস্তি দিতে পারে না। বিবিএসের তথ্যেই এর প্রমাণ মেলে; আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৭ দশমিক ০২ শতাংশ হলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশে।
একই সময়ে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা গড় মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম। দীর্ঘদিনের এই ব্যবধান মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও বাসস্থানের মতো মৌলিক চাহিদা মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবারকে সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে কিংবা ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও সামাজিক কল্যাণের জন্য চরম উদ্বেগজনক।
এর ওপর চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। উৎপাদন, পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যয় বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তার ওপর। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেবল মুদ্রানীতি বা পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। বাজারের সরবরাহব্যবস্থা ও প্রতিযোগিতার কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা জরুরি।
সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত আমদানি ও সরবরাহ বজায় রাখা, এবং কৃত্রিম সংকট ও অবৈধ মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি, অপ্রয়োজনীয় শুল্ক-কর যৌক্তিক করা এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।





























