বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আজও ১০০ ডলারের ওপরে
- আপডেট সময় : ১২:২৩:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃহস্পতিবার সকালেও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার জেরে এই ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। গত বুধবার দুই পক্ষ তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটায়। এর ফলে গত জুলাইয়ের পর এই প্রথম আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করল। আজ বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৪ ডলারে পৌঁছায়। এর আগে বুধবার ব্রেন্টের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই নতুন সংঘাত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গত কয়েক মাসে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক ছিল এবং জুন মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পরও সরবরাহ বছরের প্রথম ভাগের তুলনায় বেশি ছিল। তবে সাম্প্রতিক লড়াইয়ের কারণে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আগস্টের শুরুতে পারস্য উপসাগর থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৮ মিলিয়ন বা ৬৮ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ হচ্ছিল। গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জির হিসাবে, আগস্টের শেষ দিকে এই সরবরাহ বেড়ে দৈনিক ৮ থেকে ৯ মিলিয়ন বা ৮৯ লাখ ব্যারেলে উঠেছিল। কিন্তু নতুন লড়াই শুরুর পর সরবরাহ অনেকটাই কমে গেছে। রিস্টাড এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি হরমুজ দিয়ে তেল সরবরাহ দৈনিক ২ মিলিয়ন বা ২০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। সাত দিনের চলতি গড় সরবরাহও কমে ৪ থেকে ৫ মিলিয়ন বা ৪৫ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২ সেপ্টেম্বরের পর থেকে একটিও অপরিশোধিত তেলবাহী অতি বৃহৎ জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়নি।
সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। দুই পক্ষের কেউই সংযত হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি বড় তেল উৎপাদক দেশ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথ ব্যবহারের চেষ্টা করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত পাইপলাইনের মাধ্যমে ফুজাইরাহ বন্দরে, ইরাক তুরস্ক হয়ে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে এবং সৌদি আরব ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ব্যবহার করে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পাঠাচ্ছে। তবে ইয়েমেনের হুতিদের সাম্প্রতিক হামলা ও জিজান তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনা এই বিকল্প পথগুলোকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা তত কঠিন হবে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সর্বশেষ মাসিক তেলবাজার প্রতিবেদনের তথ্যমতে, জুলাই পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে দৈনিক প্রায় ৮৩ লাখ ব্যারেল উৎপাদন বন্ধ ছিল এবং একই সময়ে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত ৬ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল কমেছে। অর্থাৎ জুলাই মাসে বিশ্বে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৭ লাখ ব্যারেল তেলের মজুত কমেছে। বছরের শেষ প্রান্তিকে চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। যদিও কিছু বিশ্লেষক মনে করেন বাজারে পর্যাপ্ত তেল ও মজুত থাকায় দাম খুব বেশি বাড়বে না, তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ইতিমধ্যে প্রায় ৪০ ডলার বেড়েছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ৩০ ডলারের বেশি বেড়েছে। সরাসরি কেনাবেচার বাজারে তেলের দাম আরও বেশি এবং মারাবান ক্রুড, ডিএমই ওমান বেঞ্চমার্ক ও ওপেকের তেলের গড় দামও ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে শান্তি আলোচনার কোনো ইঙ্গিত না থাকায় এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
এ কারণে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ ডলার বেড়েছে।.একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ৩০ ডলারের বেশি বেড়েছে।





























