ঢাকা ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লঞ্চ ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি মালিকদের যুদ্ধ জিতলে লুটের মালে বিজয়ীরই অধিকার, জাতিসংঘে ঘোষণা ট্রাম্পের বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রশাসনিক পদে সেনা কর্মকর্তাদের নিয়োগ জাতিসংঘের বিকল্প কেবলই কল্পনাতীত: ড. খলিলুর রহমান পুলিশের দাবি উন্নতি, বাস্তবে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা ও উৎকণ্ঠা পাকিস্তানে অনলাইনে যৌন নিপীড়নের ফাঁদে ১৫ লাখ শিশু গাজায় বিশ্ববাসীর নিষ্ক্রিয়তা লজ্জাজনক: জাতিসংঘে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গাইবান্ধা সরকারি কলেজে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে স্থানীয়ভাবে প্রতিহত করার আহ্বান প্রিন্সের

তীব্র গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: পোশাক খাতে উৎপাদন বিপর্যয়, ক্রয়াদেশ হারানোর শঙ্কা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৪:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাত এক বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় অনেক উদ্যোক্তা কারখানা সাময়িক বন্ধ রাখতে বা ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হচ্ছেন। সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের কারখানাগুলোতে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ২৫ থেকে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। একদিকে গ্যাসের চাপ না থাকলেও সরকারকে নিয়মিত বিল দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে চড়া দামে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন শিল্পমালিকরা। উদ্যোক্তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ রপ্তানি আদেশ হারাবে।

ইতিমধ্যে কিছু বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে তাদের ক্রয়াদেশ কমিয়ে অন্য প্রতিযোগী দেশে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এই প্রবণতা আরও বাড়বে, যা দেশের রপ্তানি আয় কমিয়ে দিয়ে অর্থনীতিকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলবে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-র তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সংকট ও ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের কারণে গত ৩ বছরে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে নিটওয়্যার খাতের আরও প্রায় ৩০০ কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা সরাসরি দেড় থেকে দুই মিলিয়ন ডলারের রপ্তানিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে কারখানা সচল রাখতে গড়ে অন্তত ৩ থেকে ৫ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন হলেও মিলছে মাত্র ১ থেকে ২ পিএসআই, যা অনেক এলাকায় শূন্যে নেমে এসেছে। বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ও ডিজেল ব্যবহার করায় উৎপাদন খরচ ১২ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১ এর আওতাধীন সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকায় তৈরি পোশাক, ওষুধ ও চামড়াজাত পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের ১ হাজার ৮৬৩টি ছোট-বড় শিল্পকারখানা রয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সংকটের কারণে কোনো কারখানা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জেনারেটর ব্যবহার করে কাজ চালানোয় এসব এলাকায় গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ উৎপাদন কমে গেছে।

বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানিকৃত এলএনজি মিলিয়ে সাধারণত প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে আসে দৈনিক প্রায় ১৬০ থেকে ১৬৫ কোটি ঘনফুট এবং আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসে ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট। বিজিএমইএ-র তথ্যমতে, গত জুলাই মাসে আগের মাসের তুলনায় ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন বা ইউডি ইস্যু প্রায় ২.৮ শতাংশ কমেছে। কাঁচামাল আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় এই সনদ কমে যাওয়াকে নতুন ক্রয়াদেশ হ্রাসের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগস্টে রপ্তানি বাড়লেও আগামী মাসগুলোতে কাজের প্রবাহে ধীরগতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিজিএমইএ-র একজন পরিচালক জানান, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিদেশি ক্রেতারা অস্বস্তিতে আছেন এবং কিছু অর্ডার প্রতিযোগী দেশগুলোতে সরিয়ে দিচ্ছেন।

সংকট মোকাবিলায় সরকার সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ রেশনিং এবং ভোলার গ্যাস ট্রাকে করে কারখানায় আনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। তবে শিল্পমালিকরা মনে করেন, এসব সাময়িক পদক্ষেপের চেয়ে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করে গ্যাসের বিকল্প বণ্টন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল সচল রাখা এবং পাইপলাইনের শেষ প্রান্তের কারখানাগুলোতে অন্তত ৩-৪ পিএসআই চাপ নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান না হলে রপ্তানি খাত বড় ক্ষতির মুখে পড়বে। সিএনজি স্টেশন থেকে শিল্প ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে গ্যাস রেশনিং করা হলে কারখানাগুলো উপকৃত হবে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান (বাবু) বলেন, ভোলার গ্যাস কতটা কাজে আসবে তা দেখার বিষয়। তবে গ্যাসভিত্তিক পাওয়ার প্লান্ট বন্ধ করে তেলভিত্তিক পাওয়ার প্লান্ট চালু করে সেই গ্যাস শিল্পে দিলে সমস্যার অর্ধেক সমাধান সম্ভব।

বাস্তব চিত্র দেখতে গেলে দেখা যায়, আশুলিয়ার গাজীরচটের ফৌজিয়া ও ফাহিম ফ্যাশন কারখানার কর্মচারী মনির হোসেন জামগড়া এলাকার সাউথ-বেঙ্গল সিএনজি ফিলিং স্টেশনে সিলিন্ডারে গ্যাস নিতে এসে দীর্ঘ অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি জানান, কারখানায় স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য অন্তত ৫ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১ থেকে ২ পিএসআই। সিএনজি স্টেশনের কর্মকর্তা জয়নাল আবেদিন বলেন, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে গ্যাসের চাপ ৮ থেকে ১০ পিএসআই থাকে, এখন তা ২ পিএসআইয়ের নিচে নেমে এসেছে। আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার এ আর ওয়েট প্রসেসিং নামক ওয়াশিং ও ডাইং কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সেলিম রেজা জানান, তাদের ১০ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন হলেও মিলছে মাত্র ১ থেকে ২ পিএসআই। ফলে স্বাভাবিক সময়ের দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ হাজার পিস উৎপাদনের বিপরীতে এখন মাত্র ২৫ থেকে ৩০ হাজার পিস উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।

তৈরি পোশাকশিল্পে গ্যাস সংকট নিরসনে বিজিএমইএ সরকারের কাছে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে:

নতুন গ্যাস সংযোগের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া।নতুন সংযোগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা, যাতে কারখানাগুলো সময়মতো উৎপাদনে যেতে পারে।লোড বাড়ানোর প্রয়োজন নেই, শুধু সরঞ্জাম পরিবর্তন বা স্থানান্তরের আবেদনকারীদের জন্য আলাদা তালিকা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত দেওয়া।কম লোড বাড়ানোর আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে দ্রুত উৎপাদনে যেতে সাহায্য করবে।গ্যাস পাইপলাইনের শেষ প্রান্তে অবস্থিত কারখানাগুলোতে অন্তত ৩-৪ পিএসআই চাপ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

তীব্র গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: পোশাক খাতে উৎপাদন বিপর্যয়, ক্রয়াদেশ হারানোর শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৩:৩৪:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাত এক বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় অনেক উদ্যোক্তা কারখানা সাময়িক বন্ধ রাখতে বা ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হচ্ছেন। সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের কারখানাগুলোতে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ২৫ থেকে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। একদিকে গ্যাসের চাপ না থাকলেও সরকারকে নিয়মিত বিল দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে চড়া দামে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন শিল্পমালিকরা। উদ্যোক্তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ রপ্তানি আদেশ হারাবে।

ইতিমধ্যে কিছু বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে তাদের ক্রয়াদেশ কমিয়ে অন্য প্রতিযোগী দেশে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এই প্রবণতা আরও বাড়বে, যা দেশের রপ্তানি আয় কমিয়ে দিয়ে অর্থনীতিকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলবে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-র তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সংকট ও ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের কারণে গত ৩ বছরে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে নিটওয়্যার খাতের আরও প্রায় ৩০০ কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা সরাসরি দেড় থেকে দুই মিলিয়ন ডলারের রপ্তানিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে কারখানা সচল রাখতে গড়ে অন্তত ৩ থেকে ৫ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন হলেও মিলছে মাত্র ১ থেকে ২ পিএসআই, যা অনেক এলাকায় শূন্যে নেমে এসেছে। বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ও ডিজেল ব্যবহার করায় উৎপাদন খরচ ১২ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১ এর আওতাধীন সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকায় তৈরি পোশাক, ওষুধ ও চামড়াজাত পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের ১ হাজার ৮৬৩টি ছোট-বড় শিল্পকারখানা রয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সংকটের কারণে কোনো কারখানা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জেনারেটর ব্যবহার করে কাজ চালানোয় এসব এলাকায় গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ উৎপাদন কমে গেছে।

বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানিকৃত এলএনজি মিলিয়ে সাধারণত প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে আসে দৈনিক প্রায় ১৬০ থেকে ১৬৫ কোটি ঘনফুট এবং আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসে ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট। বিজিএমইএ-র তথ্যমতে, গত জুলাই মাসে আগের মাসের তুলনায় ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন বা ইউডি ইস্যু প্রায় ২.৮ শতাংশ কমেছে। কাঁচামাল আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় এই সনদ কমে যাওয়াকে নতুন ক্রয়াদেশ হ্রাসের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগস্টে রপ্তানি বাড়লেও আগামী মাসগুলোতে কাজের প্রবাহে ধীরগতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিজিএমইএ-র একজন পরিচালক জানান, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিদেশি ক্রেতারা অস্বস্তিতে আছেন এবং কিছু অর্ডার প্রতিযোগী দেশগুলোতে সরিয়ে দিচ্ছেন।

সংকট মোকাবিলায় সরকার সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ রেশনিং এবং ভোলার গ্যাস ট্রাকে করে কারখানায় আনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। তবে শিল্পমালিকরা মনে করেন, এসব সাময়িক পদক্ষেপের চেয়ে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করে গ্যাসের বিকল্প বণ্টন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল সচল রাখা এবং পাইপলাইনের শেষ প্রান্তের কারখানাগুলোতে অন্তত ৩-৪ পিএসআই চাপ নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান না হলে রপ্তানি খাত বড় ক্ষতির মুখে পড়বে। সিএনজি স্টেশন থেকে শিল্প ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে গ্যাস রেশনিং করা হলে কারখানাগুলো উপকৃত হবে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান (বাবু) বলেন, ভোলার গ্যাস কতটা কাজে আসবে তা দেখার বিষয়। তবে গ্যাসভিত্তিক পাওয়ার প্লান্ট বন্ধ করে তেলভিত্তিক পাওয়ার প্লান্ট চালু করে সেই গ্যাস শিল্পে দিলে সমস্যার অর্ধেক সমাধান সম্ভব।

বাস্তব চিত্র দেখতে গেলে দেখা যায়, আশুলিয়ার গাজীরচটের ফৌজিয়া ও ফাহিম ফ্যাশন কারখানার কর্মচারী মনির হোসেন জামগড়া এলাকার সাউথ-বেঙ্গল সিএনজি ফিলিং স্টেশনে সিলিন্ডারে গ্যাস নিতে এসে দীর্ঘ অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি জানান, কারখানায় স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য অন্তত ৫ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১ থেকে ২ পিএসআই। সিএনজি স্টেশনের কর্মকর্তা জয়নাল আবেদিন বলেন, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে গ্যাসের চাপ ৮ থেকে ১০ পিএসআই থাকে, এখন তা ২ পিএসআইয়ের নিচে নেমে এসেছে। আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার এ আর ওয়েট প্রসেসিং নামক ওয়াশিং ও ডাইং কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সেলিম রেজা জানান, তাদের ১০ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন হলেও মিলছে মাত্র ১ থেকে ২ পিএসআই। ফলে স্বাভাবিক সময়ের দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ হাজার পিস উৎপাদনের বিপরীতে এখন মাত্র ২৫ থেকে ৩০ হাজার পিস উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।

তৈরি পোশাকশিল্পে গ্যাস সংকট নিরসনে বিজিএমইএ সরকারের কাছে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে:

নতুন গ্যাস সংযোগের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া।নতুন সংযোগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা, যাতে কারখানাগুলো সময়মতো উৎপাদনে যেতে পারে।লোড বাড়ানোর প্রয়োজন নেই, শুধু সরঞ্জাম পরিবর্তন বা স্থানান্তরের আবেদনকারীদের জন্য আলাদা তালিকা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত দেওয়া।কম লোড বাড়ানোর আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে দ্রুত উৎপাদনে যেতে সাহায্য করবে।গ্যাস পাইপলাইনের শেষ প্রান্তে অবস্থিত কারখানাগুলোতে অন্তত ৩-৪ পিএসআই চাপ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin