‘চাইলেই কাল সকালে গ্যাস-বিদ্যুৎ দিতে পারব না’: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু
- আপডেট সময় : ১১:১৬:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পর দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, কর আদায়, আইএমএফের ঋণ এবং ব্যাংক খাতের সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাইলেই কাল সকালে গ্যাস বা বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব নয়, এর জন্য সময়ের প্রয়োজন। তবে বিগত ১৭ বছরের জঞ্জাল সাফ করে অর্থনীতিকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে কাজ করছে সরকার।
অর্থবছর জুলাই-জুনের পরিবর্তে এপ্রিল-মার্চ করার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, জুলাই মাসে বর্ষাকাল থাকায় বাজেট বাস্তবায়নের কাজ পিছিয়ে যেত এবং শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে কাজ করতে গিয়ে অর্থ অপচয় ও দুর্নীতি হতো। শুষ্ক মৌসুমে পুরোদমে কাজ শেষ করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোনো সমীক্ষা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সব তথ্য-উপাত্ত সরকারের হাতেই ছিল এবং এর ফলে প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।
গত ছয় মাসে অর্থনীতির বেশ কয়েকটি সূচকে অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন আমির খসরু। তিনি জানান, গত ১৫ ফেব্রুয়ারির ৩৪ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৩ আগস্ট বেড়ে ৩৭ দশমিক ১১ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। ২৬ জানুয়ারির ২ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারের লেনদেনের ভারসাম্য উদ্বৃত্ত ২৬ জুলাই বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে এবং নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। আমানতকারীদের আস্থা ফেরায় ব্যাংকে আমানত বেড়েছে এবং অর্থ পাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলে স্বীকার করেন মন্ত্রী। মূল্যস্ফীতি জুলাই মাসে কিছুটা কমলেও তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও ঋণের প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ নয় এবং গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়াও দেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করেছে।
পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু কাজের সমালোচনা করে আমির খসরু বলেন, তারা এনবিআরকে দুই ভাগে ভাগ করা ও পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার মতো কিছু কাজ আধাআধি করে রেখে গেছে, যা এখন সরকারকে বেগ পেতে হচ্ছে। এনবিআর বিভক্তির বিলটি এ কারণে এখনো পাস করা হয়নি। করনীতি আমলাদের বদলে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে করা হবে। অন্যদিকে, ব্যাংক রেজোলিউশনের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার ঘাটতি পূরণ করা এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করা সময়ের ব্যাপার হলেও আমানতকারীদের অর্থের পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়া হবে।
দেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসার ওপর জোর দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারকে অতীতে ক্যাসিনো বানিয়ে ফেলা হয়েছিল এবং সবাইকে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল করা হয়েছিল। নতুন কমিশন গঠনের পর শেয়ারবাজারে আস্থা ফিরছে। বৃহৎ অর্থায়নের জন্য শেয়ারবাজার এবং চলতি মূলধনের জন্য ব্যাংক ব্যবহার করা হবে। এছাড়া, রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলো যাতে বেসরকারি খাতে ঋণ না দিয়ে শুধু নিরাপদ ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ না করে, সে জন্য বন্ডে বিনিয়োগের একটি সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই অর্থ দ্রুত ফেরত আনা সহজ নয়, তবে শেষ দিন পর্যন্ত চেষ্টা চলবে। আইএমএফের আগের ঋণ কর্মসূচি দেশের স্বার্থবিরোধী থাকায় তা বাতিল করে নতুন করে আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে কর ব্যবস্থায় সুশাসন আনা হচ্ছে। সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো একবারে দেওয়া সম্ভব না হলেও এ বিষয়ে কাজ চলছে। আগামী সাড়ে চার বছরে দেশের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক মডেলে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।





























