আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা

- আপডেট সময় : ১০:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৭৮৩ একর জমিতে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। এই শিল্পাঞ্চলটি চট্টগ্রাম বন্দর, কর্ণফুলী টানেল এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ভবিষ্যতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সঙ্গেও এর সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই শিল্পাঞ্চলে মোট ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ আসতে পারে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষার পর গত সোমবার শিল্পাঞ্চলটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। যদিও নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে, তবে প্রকল্পের মূল বাস্তবায়নকাল আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হবে। ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এর অবকাঠামো নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ঢাকা সফরের সময় এই প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ডেভেলপার নির্বাচন ও চুক্তির শর্ত নিয়ে বিভিন্ন জটিলতার পর ২০২২ সালে চীন সরকার চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে (সিআরবিসি) নতুন ডেভেলপার হিসেবে মনোনীত করে। এর আগে ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এই প্রকল্পের সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়, যার মধ্যে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে এবং বাকি ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বিদেশি ঋণ হিসেবে সংস্থান করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় ২০ হাজার ডেডওয়েট টন সক্ষমতার জাহাজ ভেড়ানোর একটি বহুমুখী জেটি নির্মাণ করা হবে। থাকবে ১ হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি সংযোগ সড়ক, একটি সেতু এবং ১ হাজার ১৮১ মিটার দীর্ঘ চার লেনের সড়ক। এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য দৈনিক ২ কোটি ৫০ লাখ লিটার সক্ষমতার কেন্দ্রীয় শোধনাগার (সিইটিপি), গ্যাস সঞ্চালন লাইন, দুটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, পানি সংরক্ষণাগার, কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ কেন্দ্র এবং প্রায় ১২ কিলোমিটার সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) প্রথম তিন বছরের মধ্যে অন্তত ৬০ শতাংশ প্লট কারখানা নির্মাণের উপযোগী করার লক্ষ্য নিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে শিল্পাঞ্চলের বড় একটি অংশে কারখানা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক বলেন, এই শিল্পাঞ্চলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বন্দরের কাছাকাছি অবস্থান। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কেবল ভৌগোলিক অবস্থানই যথেষ্ট নয়; সাফল্য নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দ্রুত বিনিয়োগ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি শুরুতে এমন শিল্প স্থাপনের পরামর্শ দেন যেগুলোর জন্য গ্যাসের প্রয়োজনীয়তা কম। তিনি আরও বলেন, সময়মতো অবকাঠামো ও সেবা নিশ্চিত করা গেলে এটি চট্টগ্রাম বন্দর, কর্ণফুলী টানেল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে গড়ে ওঠা সম্ভাব্য শিল্প-করিডরের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
কর্ণফুলী টানেল ও প্রস্তাবিত সড়ক অবকাঠামো বাস্তবায়িত হলে এটি চট্টগ্রাম বন্দর, আনোয়ারা ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে একটি শক্তিশালী শিল্প-করিডরে পরিণত হতে পারে। শিল্পাঞ্চলটির নিজস্ব বহুমুখী জেটি থাকায় নদীপথে পণ্য পরিবহনের সুবিধাও পাওয়া যাবে। এছাড়া আনোয়ারা থেকে চন্দনাইশ পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং কালাবিবির দিঘি থেকে বাঁশখালী ও পেকুয়ার টইটং হয়ে কক্সবাজারের মাতামুহুরী পর্যন্ত ৫৮ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্ত করার প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। এই প্রকল্পগুলো সময়মতো বাস্তবায়িত হলে বন্দর, সড়ক ও শিল্পাঞ্চল পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। যদিও বর্তমানে কর্ণফুলী টানেলে প্রত্যাশিত যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে না, তবে শিল্পাঞ্চলের কারখানা চালু হলে কাঁচামাল ও প্রস্তুত পণ্য পরিবহনে টানেলটির ব্যবহার বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সময়মতো অবকাঠামো ও সেবা নিশ্চিত করা গেলে এটি চট্টগ্রাম বন্দর, কর্ণফুলী টানেল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে গড়ে ওঠা সম্ভাব্য শিল্প-করিডরের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারেআমিরুল হক, সভাপতি, চট্টগ্রাম চেম্বার.ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আনোয়ারার এই শিল্পাঞ্চলে শেষ পর্যন্ত ১০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে।





























