ঢাকা ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরায় জামায়াত নেতাকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ স্পেনের সিউতায় অভিবাসীর ঢল, নিহত কমপক্ষে ৪১ আল-নাসরের প্রাক-মৌসুম ক্যাম্পে এখনো যোগ দেননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বৃষ্টি-বন্যার অজুহাতে নিত্যপণ্যের বাজারে অদৃশ্য সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য সবুজের বুকে সাদা ফুলের চাদর, পাবনায় শিম চাষে কৃষকের হাসি বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ার পরামর্শ ভারতীয় সংসদীয় কমিটির বিরামপুরে ১২ নারীকে সেলাই মেশিন ও শতাধিক শিক্ষার্থীকে অনুদান প্রদান মহারাষ্ট্রে বন্যার তোড়ে ভেসে গেলেন মা ও দুই কন্যা, জীবিত স্বামী জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে কামরুল-জসিম প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয় ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের প্রতিহত করার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

বৃষ্টি-বন্যার অজুহাতে নিত্যপণ্যের বাজারে অদৃশ্য সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৪:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

দেশের নিত্যপণ্যের বাজারে ফের অদৃশ্য সিন্ডিকেটের শাসন জেঁকে বসেছে। বৃষ্টি ও বন্যাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একের পর এক পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, অথচ বাজারে সরবরাহের কোনো দৃশ্যমান সংকট নেই। দেশের যেসব অঞ্চলে বন্যার প্রভাব পড়েনি, সেখান থেকেও কৃষিপণ্য নিয়মিত বাজারে আসছে। তবুও অসাধু চক্রের কারসাজিতে গত দুই সপ্তাহে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ৩০০ টাকা বেড়ে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সময়ে পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকায় ঠেকেছে এবং ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। অধিকাংশ সবজিও এখন ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ সর্বোচ্চ ৪০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা চারদিন আগেও ছিল ৩০০ টাকা এবং এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৮০-২০০ টাকা। দুই সপ্তাহ আগে এই মরিচ ১২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যেত। দেশি পেঁয়াজ দুই সপ্তাহ আগে ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হলেও শুক্রবার তা ৫৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সবজির বাজারে লম্বা বেগুন ১২০-১৫০ টাকা এবং গোল বেগুন ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পটল ও ধুন্দলের দাম কিছুটা কমে ৬০-৮০ টাকায় নেমেছে। এছাড়া করলা ১২০-১৪০ টাকা, কচুরমুখি ৮০-১০০ টাকা, বরবটি ১১০-১৩০ টাকা এবং চিচিঙা ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় এসব সবজির দাম কেজিপ্রতি ৩০-৩৫ টাকা বেশি।

প্রাণিজ আমিষের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১৪৫-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৩৫-১৪০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৩০-৩৪০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০-১৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও একই চিত্র; দুই সপ্তাহ আগে ৩৫০-৩৭০ টাকা কেজি দরের রুই মাছ শুক্রবার ৪০০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তেলাপিয়া ২৪০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০-২৫০ টাকা এবং চাষের চিংড়ি ৯০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাবদা মাছের দাম ৪০০-৪৫০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ১৬০০-১৮০০ টাকা, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২০০ টাকা বেশি।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, বন্যা ও বৃষ্টির অজুহাতে পণ্যের দাম বৃদ্ধির এই প্রবণতা অস্বাভাবিক। এটি যেন এক অদৃশ্য সিন্ডিকেটের শাসন, যেখানে যার যা ইচ্ছা তাই করছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই অসাধু চক্র এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নির্বিকার।

এদিকে, ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পুনরায় চাপ দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন খরচ বাড়ার অজুহাতে গত ১১ জুলাই লিটারপ্রতি সয়াবিন তেলের দাম ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে চিঠি দেয় অ্যাসোসিয়েশন। ওইদিন মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর আগে ২৯ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি চার টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করেছিল। নতুন প্রস্তাবে ব্যবসায়ীরা পাম অয়েলের দামও লিটারে ১৭ টাকা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে গত ২৯ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি চার টাকা বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছিল। সে সময় এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৯ টাকা করা হয়েছিল। পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ৯৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৭৫ টাকা, খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৭৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০ টাকা এবং খোলা পাম তেলের দাম প্রতি লিটার ১৬৬ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতি লিটার পাম ওয়েলের দাম লিটারে ১৭ টাকা বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

বৃষ্টি-বন্যার অজুহাতে নিত্যপণ্যের বাজারে অদৃশ্য সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

আপডেট সময় : ০৩:২৪:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
print news

দেশের নিত্যপণ্যের বাজারে ফের অদৃশ্য সিন্ডিকেটের শাসন জেঁকে বসেছে। বৃষ্টি ও বন্যাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একের পর এক পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, অথচ বাজারে সরবরাহের কোনো দৃশ্যমান সংকট নেই। দেশের যেসব অঞ্চলে বন্যার প্রভাব পড়েনি, সেখান থেকেও কৃষিপণ্য নিয়মিত বাজারে আসছে। তবুও অসাধু চক্রের কারসাজিতে গত দুই সপ্তাহে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ৩০০ টাকা বেড়ে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সময়ে পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকায় ঠেকেছে এবং ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। অধিকাংশ সবজিও এখন ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ সর্বোচ্চ ৪০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা চারদিন আগেও ছিল ৩০০ টাকা এবং এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৮০-২০০ টাকা। দুই সপ্তাহ আগে এই মরিচ ১২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যেত। দেশি পেঁয়াজ দুই সপ্তাহ আগে ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হলেও শুক্রবার তা ৫৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সবজির বাজারে লম্বা বেগুন ১২০-১৫০ টাকা এবং গোল বেগুন ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পটল ও ধুন্দলের দাম কিছুটা কমে ৬০-৮০ টাকায় নেমেছে। এছাড়া করলা ১২০-১৪০ টাকা, কচুরমুখি ৮০-১০০ টাকা, বরবটি ১১০-১৩০ টাকা এবং চিচিঙা ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় এসব সবজির দাম কেজিপ্রতি ৩০-৩৫ টাকা বেশি।

প্রাণিজ আমিষের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১৪৫-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৩৫-১৪০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৩০-৩৪০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০-১৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও একই চিত্র; দুই সপ্তাহ আগে ৩৫০-৩৭০ টাকা কেজি দরের রুই মাছ শুক্রবার ৪০০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তেলাপিয়া ২৪০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০-২৫০ টাকা এবং চাষের চিংড়ি ৯০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাবদা মাছের দাম ৪০০-৪৫০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ১৬০০-১৮০০ টাকা, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২০০ টাকা বেশি।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, বন্যা ও বৃষ্টির অজুহাতে পণ্যের দাম বৃদ্ধির এই প্রবণতা অস্বাভাবিক। এটি যেন এক অদৃশ্য সিন্ডিকেটের শাসন, যেখানে যার যা ইচ্ছা তাই করছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই অসাধু চক্র এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নির্বিকার।

এদিকে, ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পুনরায় চাপ দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন খরচ বাড়ার অজুহাতে গত ১১ জুলাই লিটারপ্রতি সয়াবিন তেলের দাম ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে চিঠি দেয় অ্যাসোসিয়েশন। ওইদিন মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর আগে ২৯ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি চার টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করেছিল। নতুন প্রস্তাবে ব্যবসায়ীরা পাম অয়েলের দামও লিটারে ১৭ টাকা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে গত ২৯ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি চার টাকা বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছিল। সে সময় এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৯ টাকা করা হয়েছিল। পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ৯৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৭৫ টাকা, খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৭৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০ টাকা এবং খোলা পাম তেলের দাম প্রতি লিটার ১৬৬ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতি লিটার পাম ওয়েলের দাম লিটারে ১৭ টাকা বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor