সচিব সেজে সেনা কর্মকর্তার ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৩
- আপডেট সময় : ০৭:১৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীতে সরকারের সচিব পরিচয় দিয়ে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার কাছ থেকে জমি কেনাবেচার নামে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মো. এনায়েত হোসেন মান্নান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— নকল সচিব সাজা মো. সাহাবুদ্দীন হাওলাদার ওরফে খলিলুর রহমান ওরফে মিজানুর রহমান (৪৭), জমির কল্পিত মালিক সাজা সুমন আহাম্মেদ ওরফে এরশাদুল জাহাঙ্গীর আলম (৩৯) এবং মধ্যস্থতাকারী বা দালাল মো. জাহাঙ্গীর আলম শাহীন ওরফে এরশাদুল সাইফুল (৫২)।
পিবিআই জানায়, ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট ফারুক হোসেন নিজের একটি জমি বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিলে প্রতারক চক্রের সদস্য ‘সাইফুল’ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, তাদের ‘সচিব স্যার’ একটি জমি কিনতে চান। এরপর ধানমন্ডির একটি অভিজাত এলাকায় ভুক্তভোগীকে দামি গাড়িতে আসা ‘নকল সচিব’ সাহাবুদ্দীন হাওলাদারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
সরকারি উচ্চ পদে থাকার কারণে সরাসরি জমি কেনা সমস্যা— এমন অজুহাত দেখিয়ে ফারুক হোসেনকে সাভারের কিলামালিয়া মৌজার ৫৮ শতাংশ জমি কিনে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই জমিতে ১ কোটি টাকা লাভ হবে বলে তাকে আশ্বস্ত করে চক্রটি। পরবর্তীতে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ করে ডেল্টা হাসপাতালের সামনে কথিত জমির মালিক জাহাঙ্গীরের সঙ্গে ভুক্তভোগী ফারুকের দেখা করান।
সেখানে ৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় জমি কেনার একটি চুক্তি সাজানো হয়। এরপর চুক্তি বা বায়নানামা বাবদ প্রথমে ১০ লাখ এবং পরবর্তীতে বায়নানামার স্ট্যাম্পের মূল কপি হস্তান্তরের কথা বলে আরও ২০ লাখসহ মোট ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে চক্রটি আত্মগোপন করে।
প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা দারুস সালাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)-এর একটি বিশেষ দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরপর গাবতলী, পল্লবী ও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এই প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত নকল বায়নানামা স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে।





























