ঢাকা ০৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড ক্ষমতার পাঁচ মাসে কেন হতাশ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, কী বলছে পরিস্থিতি মাদরাসা প্রধানদের ইআইআইএনভিত্তিক সিম কার্ড সচল রাখার নির্দেশ পাংশায় প্রবাসীর স্ত্রী রুনা হত্যায় প্রধান আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত

গ্যাস সংকটে লাইনে কাটছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, চরম ভোগান্তিতে সিএনজি চালকরা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে দিনের পর দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নিতে হচ্ছে তাদের। এতে চালকদের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দৈনিক আয়ও আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। ফলে প্রতিদিনের একটি বড় সময় গ্যাস সংগ্রহে ব্যয় হওয়ায় গাড়ির মালিকের নির্ধারিত দৈনিক জমার টাকা পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক চালক।

গত শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, গ্যাস নেওয়ার জন্য স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাস পাচ্ছেন না।

চালকদের অভিযোগ, অনেক স্টেশনে গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম থাকায় ধীরগতিতে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে অপেক্ষমাণ অন্য গাড়িগুলোর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় আরও দীর্ঘ হচ্ছে। চালকরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে যে সময়ে রাস্তায় যাত্রী পরিবহন করে আয় করার কথা, তার একটি বড় অংশ এখন গ্যাস সংগ্রহের পেছনেই চলে যাচ্ছে। অনেককে দিনে দুই দফায় গ্যাস নিতে হচ্ছে। একবার গ্যাস নিয়ে কিছু সময় চালানোর পর আবারও লাইনে এসে দাঁড়াতে হচ্ছে, যা তাদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

মগবাজার এলাকার সিএনজি চালক ইমরুল জানান, গ্যাসের জন্য তাকে প্রতিদিন তিন থেকে চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরও অনেক সময় চাহিদামতো গ্যাস পাওয়া যায় না। ফলে গাড়ি নিয়ে বের হলেও বেশি সময় চালানো সম্ভব হয় না। অথচ দিন শেষে গাড়ির মালিককে নির্ধারিত দৈনিক জমার টাকা ঠিকই বুঝিয়ে দিতে হয়।

একই ধরনের সমস্যার কথা জানান আরেক চালক মহসিন। তিনি বলেন, প্রতিদিন গাড়ির মালিককে ১ হাজার ২০০ টাকা জমা দিতে হয়। কিন্তু গ্যাসের জন্য প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক সময় ১০০ থেকে ১২০ টাকার বেশি গ্যাস নেওয়া সম্ভব হয় না, কখনও কখনও এর চেয়েও কম গ্যাস নিয়ে ফিরতে হয়। ফলে তিন-চার ঘণ্টা গাড়ি চালানোর পর আবারও স্টেশনে এসে লাইনে দাঁড়াতে হয়। এতে আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।

ভুক্তভোগী চালকদের দাবি, গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট কাটবে না। তারা দ্রুত গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ স্বাভাবিক করে সিএনজি স্টেশনগুলোর দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

গ্যাস সংকটে লাইনে কাটছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, চরম ভোগান্তিতে সিএনজি চালকরা

আপডেট সময় : ১০:০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে দিনের পর দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নিতে হচ্ছে তাদের। এতে চালকদের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দৈনিক আয়ও আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। ফলে প্রতিদিনের একটি বড় সময় গ্যাস সংগ্রহে ব্যয় হওয়ায় গাড়ির মালিকের নির্ধারিত দৈনিক জমার টাকা পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক চালক।

গত শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, গ্যাস নেওয়ার জন্য স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাস পাচ্ছেন না।

চালকদের অভিযোগ, অনেক স্টেশনে গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম থাকায় ধীরগতিতে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে অপেক্ষমাণ অন্য গাড়িগুলোর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় আরও দীর্ঘ হচ্ছে। চালকরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে যে সময়ে রাস্তায় যাত্রী পরিবহন করে আয় করার কথা, তার একটি বড় অংশ এখন গ্যাস সংগ্রহের পেছনেই চলে যাচ্ছে। অনেককে দিনে দুই দফায় গ্যাস নিতে হচ্ছে। একবার গ্যাস নিয়ে কিছু সময় চালানোর পর আবারও লাইনে এসে দাঁড়াতে হচ্ছে, যা তাদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

মগবাজার এলাকার সিএনজি চালক ইমরুল জানান, গ্যাসের জন্য তাকে প্রতিদিন তিন থেকে চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরও অনেক সময় চাহিদামতো গ্যাস পাওয়া যায় না। ফলে গাড়ি নিয়ে বের হলেও বেশি সময় চালানো সম্ভব হয় না। অথচ দিন শেষে গাড়ির মালিককে নির্ধারিত দৈনিক জমার টাকা ঠিকই বুঝিয়ে দিতে হয়।

একই ধরনের সমস্যার কথা জানান আরেক চালক মহসিন। তিনি বলেন, প্রতিদিন গাড়ির মালিককে ১ হাজার ২০০ টাকা জমা দিতে হয়। কিন্তু গ্যাসের জন্য প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক সময় ১০০ থেকে ১২০ টাকার বেশি গ্যাস নেওয়া সম্ভব হয় না, কখনও কখনও এর চেয়েও কম গ্যাস নিয়ে ফিরতে হয়। ফলে তিন-চার ঘণ্টা গাড়ি চালানোর পর আবারও স্টেশনে এসে লাইনে দাঁড়াতে হয়। এতে আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।

ভুক্তভোগী চালকদের দাবি, গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট কাটবে না। তারা দ্রুত গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ স্বাভাবিক করে সিএনজি স্টেশনগুলোর দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin