গ্যাসের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময়, পাম্পে চরম ভোগান্তিতে চালকরা

- আপডেট সময় : ০৫:১৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন চালকরা। অনেক পাম্পে গ্যাস বিক্রি পুরোদমে বন্ধ রাখা হয়েছে, আবার কোথাও কোথাও সীমিত পরিসরে বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের দিনের একটি বড় অংশ গ্যাস সংগ্রহের লাইনে কাটাতে হচ্ছে, যা তাদের আয়ের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
সোমবার ঢাকার অন্তত পাঁচটি গ্যাস পাম্প সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই চালকরা লাইনে অপেক্ষা করছেন। নিউ ইস্কাটনের অনুদিপ সিএনজি স্টেশনে ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি ইস্কাটন গার্ডেন সড়ক হয়ে বাংলামোটর এলাকার প্রধান সড়কের কাছে পৌঁছেছে। মগবাজার রেলগেট এলাকার যমুনা সিএনজি স্টেশনে ৫০ থেকে ৬০টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থাকলেও চালকরা অন্তত তিন ঘণ্টা ধরে অপেক্ষায় ছিলেন। এছাড়া সাত রাস্তার আকিজ ফিলিং স্টেশন গত ৭ দিন ধরে বিক্রি বন্ধ রেখেছে। তেজগাঁও এলাকার অল ইন ওয়ান পাম্পের সামনে ব্যারিকেড দিয়ে রাখা হয়েছে যাতে কোনো যানবাহন ঢুকতে না পারে, তবে পাম্পের ভেতরে বেশ কিছু গাড়ি পার্ক করে রাখা হয়েছে। একই এলাকার বিআরটিসি পরিচালিত সিটি ফিলিং স্টেশনেও গ্যাস বিক্রি বন্ধ রয়েছে। সিটি ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার শফিকুল ইসলাম জানান, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে কর্তৃপক্ষ জানায় গ্যাস নেই। গ্যাস আসা মাত্রই স্টেশনে সংকেত পাওয়া যাবে বলে তারা জানিয়েছেন।
দীর্ঘ সময় পাম্পে পড়ে থাকায় চালকদের যাত্রী বহনের সময় কমে গেছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক রবিউল জানান, মহাজনকে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ১৩০০ টাকা জমা দিতে হয়। আগে দিনে গড়ে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় থাকলেও এখন তা কমে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় নেমেছে। অনেক চালক জমার টাকা পরিশোধ করতেই হিমশিম খাচ্ছেন। মোহাম্মদ মোস্তফা নামের আরেক চালক জানান, আয় কমে যাওয়ায় পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে, অথচ মালিকের জমার টাকা ঠিকই দিতে হচ্ছে। কোনোদিন জমা দিতে না পারলে তা বকেয়ার খাতায় তোলা হয়। দুপুর ৩টার দিকে ব্যক্তিগত গাড়িচালক শহিদুল জানান, সকাল ৮টায় পাম্পে এসেও গ্যাস না পাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারছেন, কিন্তু গ্যাস আসার আশায় অপেক্ষা করছেন।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান জানান, মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালের ত্রুটি সারানোর জন্য দেশি-বিদেশি অন্তত ২০ জন টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন। আগামী ৩১শে জুলাইয়ের মধ্যে টার্মিনালটি আংশিক চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত ২১শে জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির অবনতি হয়। এছাড়া বেসরকারি কোম্পানি সামিট আরেকটি টার্মিনাল পরিচালনা করে।
গ্যাস সংকটে উদ্ভূত সমস্যার উন্নতি হয়নি। বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে ফিলিং স্টেশন; তীব্র সংকট। অনেক ফিলিং স্টেশনেই পুরোদমে বন্ধ আছে গ্যাস বিক্রি। কিছু কিছু পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সেসব পাম্পে সামান্য পরিমাণে কিংবা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গ্যাস আসছে। গ্যাসের আশায় দিনের একটি বড় অংশই পাম্পের লাইনে কাটিয়ে দিচ্ছেন চালকরা।
শফিকুল বলেন, গ্যাস আসলে আমাদের স্টেশনেই সংকেত দেয়। আপাতত যখন আসবে তখন আমরা দেখবো। অন্যদিকে, গ্যাসে সংকট আর পাম্পে দীর্ঘ অপেক্ষার জেরে চালকদের আয় অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা বলছেন, ভাড়ায় চালিত অটোরিকশার জন্য সময়বেঁধে মালিককে রোজ ৭ শ’ থেকে ১৩শ’ টাকা জমা দিতে হয়। গ্যাসের সংকটের ফলে দীর্ঘ সময় যাত্রী ব




























