জয়পুরহাটের অতিরিক্ত এসপি আরিফের বিরুদ্ধে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ স্ত্রীর

- আপডেট সময় : ০৬:৪৮:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

জয়পুরহাট সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (৩৪তম বিসিএস) আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌতুক দাবি এবং পরকীয়াসহ নানা গুরুতর অভিযোগ এনেছেন তার স্ত্রী। রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্র্যাব বহুমুখী সমবায় সমিতি (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে ওই নারী জানান, ২০১৯ সালের ১৯ জুলাই ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক আরিফ হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তার পরিবার সামর্থ্য অনুযায়ী প্রায় ২০ লাখ টাকার আসবাবপত্র ও উপহার সামগ্রী দেয়। এর পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার, মূল্যবান ঘড়ি ও হীরার আংটিসহ সর্বমোট ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকার উপহার দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, বিয়ের শুরুর দিকে দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক থাকলেও ধীরে ধীরে তার স্বামীর আচরণে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। আরিফ হোসেন নিয়মিত মদ্যপান ও মাদক সেবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে যান। স্বামীর এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এমনকি তার অনুপস্থিতিতে বাসায় অন্য নারীদের এনে রাত কাটানোর অভিযোগও তোলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করায় তার ওপর নেমে আসে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। কেবল মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি দীর্ঘদিন এই নির্যাতন সহ্য করেছেন। তবে একপর্যায়ে স্বামীর পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে তিনি রামপুরা থানায় আইনগত পদক্ষেপ নেন। এর পর থেকে নির্যাতনের মাত্রা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
সংসার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে বিভিন্ন সময়ে তার পরিবার আরিফ হোসেনকে মোট ৪০ লাখ টাকা যৌতুক দিতে বাধ্য হয় বলে দাবি করেন ওই নারী। এই অর্থ জোগাড় করতে তার বাবা-মা গ্রামের জমি বিক্রি করেন এবং ব্যাংক চেকের মাধ্যমে লেনদেন করেন। ওই টাকা দিয়ে আরিফ হোসেন একটি কাগজপত্রহীন প্রিমিও গাড়ি এবং পূর্বাচলে জমি কেনেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এরপরও তার কাছে আরও ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়।
গত বছরের ২৬ জানুয়ারি গভীর রাতের একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী বলেন, জয়পুরহাটের সরকারি বাসভবনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন মদ্যপ অবস্থায় বাসায় ফিরে তাকে বেধড়ক মারধর করেন এবং যৌতুকের জন্য চাপ দেন। সে সময় তাদের পাঁচ বছরের শিশু কন্যাও হামলার শিকার হয়। প্রাণভয়ে তিনি সন্তানকে নিয়ে পাশের একটি ফ্ল্যাটে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
তিনি জানান, ওই হামলার কারণে তার বুকের হাড় ভেঙে যায়, যার চিকিৎসা ও এক্স-রে রিপোর্ট তার কাছে রয়েছে। তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপারের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও আরিফের আচরণের কোনো পরিবর্তন হয়নি। কয়েক দিন পুলিশি পাহারায় থাকার পর তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় চলে আসেন এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরবর্তীতে তদন্তের স্বার্থে তাকে রাজশাহীতে ডেকে নিয়ে তার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহনাজ বেগম এ প্রসঙ্গে বলেন, যতটুকু জানি তাদের দুজনের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবগত আছেন।



























