ঢাকা ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের টাকা লোপাট: পলাতক কর্মকর্তা শরীফুজ্জামান ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তিতে নতুন রেকর্ড ১০ বছরে পা দিল আব্রাম, ছেলের জন্মদিনে আবেগপ্রবণ অপু মিরপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সহিংসতার নিন্দা জানাল ফ্রান্স এশিয়ান গেমসে আর্চারিতে সম্ভাবনা জাগিয়েও শূন্য হাতে বাংলাদেশ শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ৪১৩তম পর্ষদ সভায় বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন নগ্ন দৃশ্যে অভিনয়ের প্রভাব ব্যক্তিগত জীবনে পড়েছিল এমি রসমের কোহলির মাইলফলক ও গিলের সেঞ্চুরি: ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে ভারতের জয় সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে কটিয়াদীতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

হেপাটাইটিসে মৃত্যুতে শীর্ষ দশে বাংলাদেশ, সচেতনতায় জোর

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



হেপাটাইটিসজনিত মৃত্যুর হারের দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় রয়েছে। দেশে বর্তমানে প্রায় এক কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি ও হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগের সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—অনেক ক্ষেত্রেই কোনো উপসর্গ ছাড়াই ভাইরাসটি বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করে। তাই উপসর্গের অপেক্ষায় না থেকে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের অবশ্যই স্ক্রিনিং করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন, টিকাদান, জীবাণুমুক্ত চিকিৎসাসেবা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে হেপাটাইটিসের নতুন সংক্রমণ কমিয়ে আনা সম্ভব।

এমন বাস্তবতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে সচেতনতা বাড়াতে আজ মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস-২০২৬। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘হেপাটাইটিস : আসুন এর অবসান ঘটাই।’ এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে সেবা প্রাপ্তির বাধা, কুসংস্কার ও ভুল তথ্য দূর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

হেপাটাইটিস বি ও সি ছড়ায় সংক্রমিত রক্ত, অপরিষ্কার সুচ ও অরক্ষিত যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে। অন্যদিকে হেপাটাইটিস এ ও ই সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। বর্তমানে কার্যকর চিকিৎসার মাধ্যমে হেপাটাইটিস সি সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব এবং হেপাটাইটিস বি দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

হেপাটোলজি সোসাইটির তথ্য বলছে, দেশে ৮৫ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত। এর মধ্যে পুরুষ ৫৭ লাখ এবং নারী ২৮ লাখ। ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী প্রজননক্ষম ১৮ লাখ নারীর এই রোগ আছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শিশু চার লাখ। দেশের প্রায় ১৫ লাখ পরিবারে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষ রয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯ থেকে ২০ বছর বয়সীদের মধ্যে টিকা দেওয়া সত্ত্বেও মাত্র ২৮ শতাংশের শরীরে পর্যাপ্ত সুরক্ষা রয়েছে। প্রতি ২০০ জনে একজন হেপাটাইটিস বি-পজিটিভ। তাই শুধু টিকার ওপর নির্ভর না করে সর্বজনীন স্ক্রিনিং জরুরি। আরেক গবেষণায় জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ হেপাটাইটিস এ-তে আক্রান্ত।

হেপাটোলজি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ও বারডেম জেনারেল হাসপাতালের লিভার ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. গোলাম আযম বলেন, ভাইরাল হেপাটাইটিস এখনও বিশ্বের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। প্রতিবছর হেপাটাইটিস বি ও সি’জনিত লিভার সিরোসিস ও ক্যানসারে ১০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। তবে রোগ দুটি পুরোপুরি প্রতিরোধ ও চিকিৎসাযোগ্য।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম এলিন বলেন, ২০০৩ সালে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) হেপাটাইটিস বি টিকা অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর দেশে সংক্রমণ হার ১৯৯৪ সালের ৯ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে ৫ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে। তবুও দেশে এখনও প্রায় ৮৫ লাখ মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের লিভার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. শাহেদ আশরাফ সেতু বলেন, হেপাটাইটিস শুধু স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, এটি একটি পরিবারের জন্য বড় অর্থনৈতিক বোঝা। দেশে চিকিৎসা খরচের বড় অংশই রোগীদের বহন করতে হয়। হেপাটাইটিস বি রোগীর আজীবন চিকিৎসা ও জটিলতার ব্যয় কয়েক লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে তুলনামূলক অল্প খরচে টিকা ও সময়মতো পরীক্ষার মাধ্যমে এই বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি ও অকালমৃত্যুর ঝুঁকি থেকে পরিবারগুলোকে রক্ষা করা সম্ভব।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, হেপাটাইটিস বি ও সি’র প্রয়োজনীয় সব ধরনের আধুনিক চিকিৎসা এখন দেশেই হচ্ছে। অন্য দেশের তুলনায় অনেক কম মূল্যে এসবের ওষুধ বাংলাদেশে সহজলভ্য। মিসর ও তাইওয়ানের সফলতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক (এনআইডি) স্ক্রিনিং কর্মসূচি চালু করে সবাইকে পরীক্ষা করা এবং সংক্রমণমুক্ত ব্যক্তিদের টিকার আওতায় আনা গেলে ২০৩০ সালের আগেই বাংলাদেশকে হেপাটাইটিসমুক্ত করা সম্ভব।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

হেপাটাইটিসে মৃত্যুতে শীর্ষ দশে বাংলাদেশ, সচেতনতায় জোর

আপডেট সময় : ০৫:৫৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

হেপাটাইটিসজনিত মৃত্যুর হারের দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় রয়েছে। দেশে বর্তমানে প্রায় এক কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি ও হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগের সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—অনেক ক্ষেত্রেই কোনো উপসর্গ ছাড়াই ভাইরাসটি বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করে। তাই উপসর্গের অপেক্ষায় না থেকে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের অবশ্যই স্ক্রিনিং করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন, টিকাদান, জীবাণুমুক্ত চিকিৎসাসেবা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে হেপাটাইটিসের নতুন সংক্রমণ কমিয়ে আনা সম্ভব।

এমন বাস্তবতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে সচেতনতা বাড়াতে আজ মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস-২০২৬। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘হেপাটাইটিস : আসুন এর অবসান ঘটাই।’ এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে সেবা প্রাপ্তির বাধা, কুসংস্কার ও ভুল তথ্য দূর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

হেপাটাইটিস বি ও সি ছড়ায় সংক্রমিত রক্ত, অপরিষ্কার সুচ ও অরক্ষিত যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে। অন্যদিকে হেপাটাইটিস এ ও ই সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। বর্তমানে কার্যকর চিকিৎসার মাধ্যমে হেপাটাইটিস সি সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব এবং হেপাটাইটিস বি দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

হেপাটোলজি সোসাইটির তথ্য বলছে, দেশে ৮৫ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত। এর মধ্যে পুরুষ ৫৭ লাখ এবং নারী ২৮ লাখ। ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী প্রজননক্ষম ১৮ লাখ নারীর এই রোগ আছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শিশু চার লাখ। দেশের প্রায় ১৫ লাখ পরিবারে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষ রয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯ থেকে ২০ বছর বয়সীদের মধ্যে টিকা দেওয়া সত্ত্বেও মাত্র ২৮ শতাংশের শরীরে পর্যাপ্ত সুরক্ষা রয়েছে। প্রতি ২০০ জনে একজন হেপাটাইটিস বি-পজিটিভ। তাই শুধু টিকার ওপর নির্ভর না করে সর্বজনীন স্ক্রিনিং জরুরি। আরেক গবেষণায় জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ হেপাটাইটিস এ-তে আক্রান্ত।

হেপাটোলজি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ও বারডেম জেনারেল হাসপাতালের লিভার ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. গোলাম আযম বলেন, ভাইরাল হেপাটাইটিস এখনও বিশ্বের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। প্রতিবছর হেপাটাইটিস বি ও সি’জনিত লিভার সিরোসিস ও ক্যানসারে ১০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। তবে রোগ দুটি পুরোপুরি প্রতিরোধ ও চিকিৎসাযোগ্য।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম এলিন বলেন, ২০০৩ সালে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) হেপাটাইটিস বি টিকা অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর দেশে সংক্রমণ হার ১৯৯৪ সালের ৯ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে ৫ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে। তবুও দেশে এখনও প্রায় ৮৫ লাখ মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের লিভার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. শাহেদ আশরাফ সেতু বলেন, হেপাটাইটিস শুধু স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, এটি একটি পরিবারের জন্য বড় অর্থনৈতিক বোঝা। দেশে চিকিৎসা খরচের বড় অংশই রোগীদের বহন করতে হয়। হেপাটাইটিস বি রোগীর আজীবন চিকিৎসা ও জটিলতার ব্যয় কয়েক লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে তুলনামূলক অল্প খরচে টিকা ও সময়মতো পরীক্ষার মাধ্যমে এই বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি ও অকালমৃত্যুর ঝুঁকি থেকে পরিবারগুলোকে রক্ষা করা সম্ভব।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, হেপাটাইটিস বি ও সি’র প্রয়োজনীয় সব ধরনের আধুনিক চিকিৎসা এখন দেশেই হচ্ছে। অন্য দেশের তুলনায় অনেক কম মূল্যে এসবের ওষুধ বাংলাদেশে সহজলভ্য। মিসর ও তাইওয়ানের সফলতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক (এনআইডি) স্ক্রিনিং কর্মসূচি চালু করে সবাইকে পরীক্ষা করা এবং সংক্রমণমুক্ত ব্যক্তিদের টিকার আওতায় আনা গেলে ২০৩০ সালের আগেই বাংলাদেশকে হেপাটাইটিসমুক্ত করা সম্ভব।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor