ঢাকা ০৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ম্যানিলায় বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ২৭ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে স্থগিত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা সার সংকটে খাদ্য উৎপাদনে বড় ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশ: জাতিসংঘ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন, আলোচনায় কারা? খুবিতে ওয়াশরুমে ভিডিও ধারণের ঘটনায় ক্যাম্পাসে তালা, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ডিজিটাল দৌড়ে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ, আইটিইউর সূচকে নেপথ্যের কারণ টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বাজারে সবজির দাম আকাশচুম্বী বাংলাদেশে বিনিয়োগের নতুন উদ্যোগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সৌদির বিরুদ্ধে হুথিদের নৌ অবরোধের তীব্র নিন্দা ঢাকার ভারতে জেন-জি বিক্ষোভ দমনে পুলিশের নতুন নজরদারি কৌশল

টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বাজারে সবজির দাম আকাশচুম্বী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

রাজধানীসহ সারা দেশে নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। টানা বৃষ্টির কারণে কাঁচাবাজারে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সবজির দাম কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ সংকটের সুযোগে অধিকাংশ সবজির দাম এখন ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে, যার ফলে রান্নাঘরে এক চরম হাহাকার তৈরি হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, একশ টাকার নিচে সবজি পাওয়া এখন বিরল। বর্তমানে প্রতি কেজি বেগুন ১২০ টাকা, করলা ও ঢ্যাঁড়স ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটল ও ঝিঙা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, এবং শসা ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও টমেটোর দাম ১২০ থেকে ১৬০ টাকা এবং প্রতিটি লাউ ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছুটা স্বস্তি থাকলেও গাজর ১৬০ টাকা ও পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর পেঁয়াজের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে খুচরা বাজারে ৬০ টাকায় ঠেকেছে।

সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে কাঁচা মরিচের ওপর। মাত্র এক মাস আগেও যা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় পাওয়া যেত, তা বর্তমানে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেড়ে ২০০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারে পাইকারি পর্যায়ে ২০০ টাকায় পাওয়া গেলেও অভিজাত এলাকার খুচরা বাজারে তা ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী এম এম আকাশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৃষ্টির অজুহাতে প্রতিদিনই নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। এক সপ্তাহ আগে যে মরিচ ২৫০ গ্রাম ৪০ টাকায় কিনেছিলাম, আজ তা ৬০ টাকায় কিনতে হলো। তিনি জানান, সব সবজির দাম বর্তমানে আকাশচুম্বী, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সংসার চালানো কঠিন করে তুলেছে।

কেরানীগঞ্জ মডেল টাউনের সবজি বিক্রেতা আজিজুর রহমান আজিজ জানান, বৃষ্টির কারণে পাইকারি বাজারে পর্যাপ্ত সবজি আসছে না। খেতে পানি জমে ফসল পচে যাওয়ায় এবং কৃষকরা মাঠ থেকে সবজি তুলতে না পারায় সরবরাহ কমেছে। চাহিদা বেশি থাকায় তারা বেশি দামে কিনে কিছুটা লাভে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

কৃষিবিদ ড. জামাল উদ্দিনের মতে, আবহাওয়ার এই বৈরী আচরণ অব্যাহত থাকলে স্থানীয় সরবরাহ শৃঙ্খল আরও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আকাশ পরিষ্কার হয়ে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং খেতের নতুন ফসল বাজারে আসা শুরু করলে দাম কিছুটা কমে আসতে পারে। ততদিন পর্যন্ত শ্রাবণের এই অবিরাম বর্ষণ রাজধানী ও আশপাশের কোটি মানুষের মনে তৈরি করে রাখবে নিত্যপণ্যের চড়া দামের এক দীর্ঘ ও ভারী ছায়া।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বাজারে সবজির দাম আকাশচুম্বী

আপডেট সময় : ০২:৪৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
print news

রাজধানীসহ সারা দেশে নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। টানা বৃষ্টির কারণে কাঁচাবাজারে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সবজির দাম কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ সংকটের সুযোগে অধিকাংশ সবজির দাম এখন ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে, যার ফলে রান্নাঘরে এক চরম হাহাকার তৈরি হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, একশ টাকার নিচে সবজি পাওয়া এখন বিরল। বর্তমানে প্রতি কেজি বেগুন ১২০ টাকা, করলা ও ঢ্যাঁড়স ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটল ও ঝিঙা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, এবং শসা ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও টমেটোর দাম ১২০ থেকে ১৬০ টাকা এবং প্রতিটি লাউ ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছুটা স্বস্তি থাকলেও গাজর ১৬০ টাকা ও পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর পেঁয়াজের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে খুচরা বাজারে ৬০ টাকায় ঠেকেছে।

সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে কাঁচা মরিচের ওপর। মাত্র এক মাস আগেও যা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় পাওয়া যেত, তা বর্তমানে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেড়ে ২০০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারে পাইকারি পর্যায়ে ২০০ টাকায় পাওয়া গেলেও অভিজাত এলাকার খুচরা বাজারে তা ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী এম এম আকাশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৃষ্টির অজুহাতে প্রতিদিনই নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। এক সপ্তাহ আগে যে মরিচ ২৫০ গ্রাম ৪০ টাকায় কিনেছিলাম, আজ তা ৬০ টাকায় কিনতে হলো। তিনি জানান, সব সবজির দাম বর্তমানে আকাশচুম্বী, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সংসার চালানো কঠিন করে তুলেছে।

কেরানীগঞ্জ মডেল টাউনের সবজি বিক্রেতা আজিজুর রহমান আজিজ জানান, বৃষ্টির কারণে পাইকারি বাজারে পর্যাপ্ত সবজি আসছে না। খেতে পানি জমে ফসল পচে যাওয়ায় এবং কৃষকরা মাঠ থেকে সবজি তুলতে না পারায় সরবরাহ কমেছে। চাহিদা বেশি থাকায় তারা বেশি দামে কিনে কিছুটা লাভে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

কৃষিবিদ ড. জামাল উদ্দিনের মতে, আবহাওয়ার এই বৈরী আচরণ অব্যাহত থাকলে স্থানীয় সরবরাহ শৃঙ্খল আরও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আকাশ পরিষ্কার হয়ে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং খেতের নতুন ফসল বাজারে আসা শুরু করলে দাম কিছুটা কমে আসতে পারে। ততদিন পর্যন্ত শ্রাবণের এই অবিরাম বর্ষণ রাজধানী ও আশপাশের কোটি মানুষের মনে তৈরি করে রাখবে নিত্যপণ্যের চড়া দামের এক দীর্ঘ ও ভারী ছায়া।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh