ইতিহাস সংরক্ষণ ও শহীদদের কল্যাণে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

- আপডেট সময় : ০৬:১৫:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবারের কল্যাণ এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করেছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সঙ্গে তার কার্যালয়ে এক সৌজন্যমূলক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের ইতিহাস, স্মৃতি ও আদর্শ সংরক্ষণ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে প্রকৃত শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত এই উদ্যোগের প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আর্কাইভস ও স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণ, তথ্যভান্ডার তৈরি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের জন্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোও সভায় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর’-এর আওতায় ৮৪৩ জন শহীদ এবং ১৫ হাজার ৩০ জন আহত যোদ্ধার তথ্যভান্ডার প্রস্তুত করা হয়েছে। শহীদ পরিবারের জন্য জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা অনুদান ও মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া গুরুতর আহতদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ শ্রেণিতে যথাক্রমে ৫ লাখ, ৩ লাখ ও ১ লাখ টাকা এককালীন অনুদান এবং নিয়ম অনুযায়ী মাসিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৫৪ জন সংকটাপন্ন আহতকে সরকারি খরচে থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও রাশিয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ খাতে ৪৪৮ কোটি ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) জিয়াউদ্দীন আহমেদ এবং যুগ্মসচিব (সংযুক্ত) মো. জেহাদ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিদলে ছিলেন নোট টেকার জোশ পোপ, প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া অফিসার রিকি সালমিনা এবং প্রোটোকল অ্যাসিস্ট্যান্ট সাদ বিন এলাহী। বৈঠক শেষে মন্ত্রী মার্কিন রাষ্ট্রদূতের হাতে বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহভিত্তিক গ্রন্থ ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া: দ্য লাইফ অ্যান্ড স্টোরি’সহ কয়েকটি স্মারকগ্রন্থ ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন।



























