ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সায়েন্সল্যাবে ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, যান চলাচল বিঘ্নিত কটিয়াদীতে ডিউটিরত অবস্থায় ট্রাকের ধাক্কায় পুলিশ কনস্টেবল আহত দুর্ঘটনা না ঘটলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: জ্বালানি মন্ত্রী নিজেদের চাঁদাবাজদের সামলাবেন কি, প্রশ্ন জামায়াত আমীরের রাজশাহীতে মুদি দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা, দোকানে পেট্রল বোমা হামলা দক্ষিণ আফ্রিকার পানশালায় বন্দুকধারীদের হামলা, নিহত ১৭ সন্ত্রাসে মদদ দিলে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সংলাপ বন্ধের হুঁশিয়ারি রাজনাথের ভিসি নিয়োগের প্রতিবাদে সায়েন্সল্যাবে ডিসিইউ শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবার বৈঠকে রুশ ও জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট নাজিবুল্লাহর উত্থান ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস

গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষের বছরে পদ্মার সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার তাগিদ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:১৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব নদী দিবস পালিত হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ১৯৯৬ সালের ঐতিহাসিক গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। চুক্তির এই শেষ সময়ে এসে পদ্মার দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বর্ষায় ভয়াবহ বন্যা আর শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্যতা—পদ্মার এই বৈপরীত্য কেবল চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, বরং সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনার বড় সংকটকে সামনে নিয়ে আসছে।

সম্প্রতি সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছিল। রাজশাহী পয়েন্টে পানি ১৭.৩০ মিটারে ঠেকেছিল, যেখানে বিপৎসীমা ১৮.০৫ মিটার। এতে চরখিদিরপুর ও খানপুরসহ দক্ষিণ তীরের বিভিন্ন চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ে এবং বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। চরখিদিরপুরের বাসিন্দা রাকিব জানান, তার ৫০টি গরুর মধ্যে ৪০টিকে কোনোমতে নিরাপদ স্থানে সরাতে পারলেও চরম কষ্টে আছেন। একই দুর্ভোগের কথা জানান মনোয়ারা বেগম, যার বাড়িঘর পানিতে ডুবে যাওয়ায় গবাদিপশু রাখার বা রান্নার কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই।

অথচ এই বর্ষার পরই নদীটি শুকিয়ে বিস্তূর্ণ বালুচরে পরিণত হবে, যা কৃষকদের ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল করে তুলবে। নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী মনে করেন, বর্ষায় অতিরিক্ত পানি এবং শুষ্ক মৌসুমে প্রবাহ কমে যাওয়ার পেছনে শুধু ফারাক্কা বাঁধকে দায়ী করলে চলবে না। এর পেছনে উজানে পানি প্রত্যাহার, নদীতে পলি জমে নাব্য হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নদী ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা একযোগে কাজ করছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে যাওয়ায় সেচ খরচ বৃদ্ধি, মাছের প্রজননক্ষেত্র সংকুচিত হওয়া এবং নৌপথের নাব্য সংকটের মতো বহুমুখী বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে।

যৌথ নদী কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা চুক্তিটির কার্যকারিতা আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এ শেষ হচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে লোকসভায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। চুক্তির ১২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দুই দেশের সম্মতিতে এটি নবায়ন করা সম্ভব। তবে নতুন চুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত প্রবাহ, কৃষি ও মৎস্য সম্পদের চাহিদা এবং নদীনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়গুলো কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।

রাজশাহীতে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উজান থেকে পর্যাপ্ত পানির প্রবাহ নিশ্চিত না করে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করে এই সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। বিশ্ব নদী দিবসে তাই কেবল প্রথাগত নদী রক্ষার আলোচনার বাইরে গিয়ে আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত প্রবাহকে যুক্ত করে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যথায় প্রতি বছর বর্ষায় ঘরবাড়ি হারানো আর শুষ্ক মৌসুমে বালুচর দেখার এই চক্র চলতেই থাকবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষের বছরে পদ্মার সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার তাগিদ

আপডেট সময় : ১০:১৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব নদী দিবস পালিত হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ১৯৯৬ সালের ঐতিহাসিক গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। চুক্তির এই শেষ সময়ে এসে পদ্মার দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বর্ষায় ভয়াবহ বন্যা আর শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্যতা—পদ্মার এই বৈপরীত্য কেবল চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, বরং সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনার বড় সংকটকে সামনে নিয়ে আসছে।

সম্প্রতি সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছিল। রাজশাহী পয়েন্টে পানি ১৭.৩০ মিটারে ঠেকেছিল, যেখানে বিপৎসীমা ১৮.০৫ মিটার। এতে চরখিদিরপুর ও খানপুরসহ দক্ষিণ তীরের বিভিন্ন চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ে এবং বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। চরখিদিরপুরের বাসিন্দা রাকিব জানান, তার ৫০টি গরুর মধ্যে ৪০টিকে কোনোমতে নিরাপদ স্থানে সরাতে পারলেও চরম কষ্টে আছেন। একই দুর্ভোগের কথা জানান মনোয়ারা বেগম, যার বাড়িঘর পানিতে ডুবে যাওয়ায় গবাদিপশু রাখার বা রান্নার কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই।

অথচ এই বর্ষার পরই নদীটি শুকিয়ে বিস্তূর্ণ বালুচরে পরিণত হবে, যা কৃষকদের ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল করে তুলবে। নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী মনে করেন, বর্ষায় অতিরিক্ত পানি এবং শুষ্ক মৌসুমে প্রবাহ কমে যাওয়ার পেছনে শুধু ফারাক্কা বাঁধকে দায়ী করলে চলবে না। এর পেছনে উজানে পানি প্রত্যাহার, নদীতে পলি জমে নাব্য হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নদী ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা একযোগে কাজ করছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে যাওয়ায় সেচ খরচ বৃদ্ধি, মাছের প্রজননক্ষেত্র সংকুচিত হওয়া এবং নৌপথের নাব্য সংকটের মতো বহুমুখী বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে।

যৌথ নদী কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা চুক্তিটির কার্যকারিতা আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এ শেষ হচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে লোকসভায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। চুক্তির ১২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দুই দেশের সম্মতিতে এটি নবায়ন করা সম্ভব। তবে নতুন চুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত প্রবাহ, কৃষি ও মৎস্য সম্পদের চাহিদা এবং নদীনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়গুলো কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।

রাজশাহীতে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উজান থেকে পর্যাপ্ত পানির প্রবাহ নিশ্চিত না করে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করে এই সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। বিশ্ব নদী দিবসে তাই কেবল প্রথাগত নদী রক্ষার আলোচনার বাইরে গিয়ে আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত প্রবাহকে যুক্ত করে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যথায় প্রতি বছর বর্ষায় ঘরবাড়ি হারানো আর শুষ্ক মৌসুমে বালুচর দেখার এই চক্র চলতেই থাকবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh