ঢাকা ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী ও হিন্দু পরিবারের মেয়েদের অধিকার জাতিসংঘে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ৩ ঘণ্টার বৈঠক, নতুন আলোচনার ইঙ্গিত ট্রাম্পের ডিএসইর ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার জরিমানা মওকুফ চায় প্রাইম ফাইন্যান্স সচিবদের চেয়ে কম বেতন পাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী, সম্মানি বাড়ানোর উদ্যোগ টাঙ্গাইলে ভবঘুরে নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার অবসরের ইঙ্গিত দিলেন মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থ নিকোলাস তালিয়াফিকো নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কাছে সন্দেহজনক স্যুটকেস ঘিরে বোম আতঙ্ক পথঘাট পরিচ্ছন্ন রাখা ঈমানের দাবি ও সদকার সওয়াব গফরগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ: অভিযুক্তদের বাড়িঘরে ভাঙচুর বার্সেলোনায় ফিরল ‘এমএসএন’ যুগের স্মৃতি, রাফিনিয়া-ইয়ামালদের গোলবন্যা

সিরাজগঞ্জে বালুর স্তূপে চাপা পড়েছে কৃষকের আবাদি জমি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:২৮:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ঝাটিবেলাই এলাকায় ফুলজোর নদীর পাড়ে কৃষকদের আবাদি জমি এখন বালুর নিচে চাপা পড়েছে। বছর খানেক আগেও এসব জমিতে ভুট্টা, বেগুনসহ নানা ফসলের আবাদ হতো, যা দিয়ে কৃষকদের জীবিকার চাকা সচল ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই জমিতে ফসলের বদলে জন্মেছে আগাছা এবং পুরো এলাকা বালুর স্তূপে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক সোবাহান আলী ও শহিদুল জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ফুলজোর নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য খনন কাজ চালায়। সেই খনন করা বালু নদী পাড়ের ব্যক্তি মালিকানাধীন আবাদি জমির ওপর স্তূপ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় ইজারাদাররা সরকারের কাছ থেকে এই বালু ইজারা নিলেও প্রশাসন ও ইজারাদারের মধ্যে চলমান আইনি জটিলতার কারণে বালু সরানোর কার্যক্রম থমকে আছে।

কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বালুর স্তূপের নিচে অন্তত ১০ জন কৃষকের ১৫ থেকে ২০ বিঘা আবাদি জমি রয়েছে। জমিগুলো বালুর নিচে থাকায় অন্তত দুই বছর ধরে চাষাবাদ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। আগে এসব জমি থেকে বছরে ২৫০ থেকে ৩০০ মণ পেয়ারা, ৭০ থেকে ১০০ মণ ভুট্টা এবং ৫০ থেকে ৭০ মণ বেগুনসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদিত হতো। এখন ফসল উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় কৃষকরা প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

জমির মালিক রফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন বালু জমে থাকায় তিনি জমি কোনো কাজে লাগাতে পারছেন না। অপর জমির মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, ইজারাদার বালু কিনেছেন ঠিকই, কিন্তু সেগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে দ্রুত বালু সরিয়ে ফেললে কৃষকরা পুনরায় চাষাবাদ শুরু করতে পারবেন।

ইজারাদার মো. আতিকুর রহমান সোহাগ জানান, তিনি কৃষকদের ক্ষতি করতে চান না এবং দ্রুত বালু সরিয়ে নিতে আগ্রহী, কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ফরিদ হোসাইন কৃষকদের ক্ষতির কথা স্বীকার করে জানান, উপজেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই ইজারাদারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ড. বিপাশা হোসাইন জানান, বালু সরানোর জন্য একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আদালতে নিয়মিত মামলা চলমান রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

সিরাজগঞ্জে বালুর স্তূপে চাপা পড়েছে কৃষকের আবাদি জমি

আপডেট সময় : ০৩:২৮:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ঝাটিবেলাই এলাকায় ফুলজোর নদীর পাড়ে কৃষকদের আবাদি জমি এখন বালুর নিচে চাপা পড়েছে। বছর খানেক আগেও এসব জমিতে ভুট্টা, বেগুনসহ নানা ফসলের আবাদ হতো, যা দিয়ে কৃষকদের জীবিকার চাকা সচল ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই জমিতে ফসলের বদলে জন্মেছে আগাছা এবং পুরো এলাকা বালুর স্তূপে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক সোবাহান আলী ও শহিদুল জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ফুলজোর নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য খনন কাজ চালায়। সেই খনন করা বালু নদী পাড়ের ব্যক্তি মালিকানাধীন আবাদি জমির ওপর স্তূপ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় ইজারাদাররা সরকারের কাছ থেকে এই বালু ইজারা নিলেও প্রশাসন ও ইজারাদারের মধ্যে চলমান আইনি জটিলতার কারণে বালু সরানোর কার্যক্রম থমকে আছে।

কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বালুর স্তূপের নিচে অন্তত ১০ জন কৃষকের ১৫ থেকে ২০ বিঘা আবাদি জমি রয়েছে। জমিগুলো বালুর নিচে থাকায় অন্তত দুই বছর ধরে চাষাবাদ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। আগে এসব জমি থেকে বছরে ২৫০ থেকে ৩০০ মণ পেয়ারা, ৭০ থেকে ১০০ মণ ভুট্টা এবং ৫০ থেকে ৭০ মণ বেগুনসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদিত হতো। এখন ফসল উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় কৃষকরা প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

জমির মালিক রফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন বালু জমে থাকায় তিনি জমি কোনো কাজে লাগাতে পারছেন না। অপর জমির মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, ইজারাদার বালু কিনেছেন ঠিকই, কিন্তু সেগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে দ্রুত বালু সরিয়ে ফেললে কৃষকরা পুনরায় চাষাবাদ শুরু করতে পারবেন।

ইজারাদার মো. আতিকুর রহমান সোহাগ জানান, তিনি কৃষকদের ক্ষতি করতে চান না এবং দ্রুত বালু সরিয়ে নিতে আগ্রহী, কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ফরিদ হোসাইন কৃষকদের ক্ষতির কথা স্বীকার করে জানান, উপজেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই ইজারাদারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ড. বিপাশা হোসাইন জানান, বালু সরানোর জন্য একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আদালতে নিয়মিত মামলা চলমান রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh