আধুনিকতার ছোঁয়ায় সিরাজগঞ্জে বিলুপ্ত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর
- আপডেট সময় : ০১:২৪:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

কালের বিবর্তনে ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরি ঘর বিলুপ্তির পথে। রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা উপজেলার গ্রামগুলোতে কয়েক বছর আগেও নিয়মিত নজরে পড়ত এই মাটির ঘর। প্রচণ্ড গরম ও শীতে বসবাসের উপযোগী আরামদায়ক এই ঘরে এক সময় এলাকার ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই বসবাস করতেন। তবে মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক জীবনযাপনের ইচ্ছার কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে বাঙালির চিরচেনা এই ঐতিহ্য।
তাড়াশ উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ২৪৮টি গ্রামের মধ্যে দেশীগ্রাম ইউনিয়নের আড়াঙ্গাইল গ্রামে পাশাপাশি দুটি পরিবারে শত বছরের পুরনো তিনটি মাটির দেয়াল ও খড়ের চালের বসতঘর এখনো টিকে রয়েছে। এই ঘরগুলোতে রহিম উদ্দিন (৬৫) ও হানিফ মোল্লা (৬৭) তাদের পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। তারা জানান, আরামদায়ক মাটির ঘরে একসময় দরিদ্র মানুষের পাশাপাশি বিত্তবানরাও পরিবার-পরিজন নিয়ে বাস করতেন। বৃষ্টি বা বন্যায় বড় কোনো ক্ষতি না হলে এসব ঘর বহু বছর পর্যন্ত টিকে থাকে। বর্তমানে মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ায় মাটির ঘর ভেঙে সবাই টিন আর ইটের পাকা বা আধাপাকা বাড়ি তৈরি করছেন।
রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের মৌহার গ্রামের আসলাম জানান, প্রায় ৬০ বছর আগে তিনি মাত্র ৬ হাজার টাকা খরচে একটি মাটির ঘর নির্মাণ করেছিলেন। বর্তমানে এই ধরনের ঘর তৈরি করতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। একই এলাকার রাব্বি সেখ জানান, রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় এখনো কিছু মাটির ঘর রয়েছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা বাপ-দাদার তৈরি করা এসব ঘর প্রতি বছর কিছুটা মাটি দিয়ে সংস্কার করে বসবাস করছেন। সচেতন মহলের মতে, শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের মতো আরামদায়ক হলেও ধনাঢ্য পরিবারের সদস্যরা নিজেদের সামাজিক মর্যাদা রক্ষা ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় মাটির ঘর ভেঙে আধুনিক ডিজাইনের পাকা ঘরবাড়ি গড়ে তুলছেন।
স্থানীয় দেশীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞানেন্দ্র নাথ বসাক জানান, রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় এখনো অনেক মাটির ঘর রয়েছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা বাপ-দাদার রেখে যাওয়া এসব ঘর প্রতি বছর সংস্কার করে কোনোমতে টিকিয়ে রেখেছেন। রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, রায়গঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে এখনো মাটির ঘর দেখা যায়। অনেকেই সংস্কার করে বাপ-দাদার রেখে যাওয়া ঘরে আজও বসবাস করছেন। তবে মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি জীবনযাত্রার মান উন্নত থাকায় বাঙালির চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘরের ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।



























