গাজীপুরে তরুণীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে মামলা
- আপডেট সময় : ০৬:০০:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের কালীগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে জাহিদ মুন্সি (২৬) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে কালীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে কালীগঞ্জের একটি শপিং কমপ্লেক্সে জাহিদ মুন্সির ঘড়ির দোকানে গিয়ে ওই তরুণীর বোনের সাথে পরিচয় হয়। সেই সূত্র ধরে জাহিদের সাথে তরুণীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সম্পর্কের সময় জাহিদ তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে শারীরিক সম্পর্কে রাজি না হলে তরুণীর মুখমণ্ডল অশ্লীল ছবির সাথে যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।
ভুক্তভোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে কলেজে যাওয়ার পথে জাহিদ তাকে গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলের মিরের বাজার এলাকার একটি গেস্ট হাউসে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। একই দিন বিকেলে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের অনার্স ভবনের পেছনের আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশনের পরিত্যক্ত স্টাফ কোয়ার্টারে নিয়ে তাকে আবারও জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় এবং মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়। এরপর থেকে ছবি ও ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাকে দিনের পর দিন নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তের পরিবারের বিরুদ্ধেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে স্বজনরা জানতে পারেন, জাহিদ এর আগেও একাধিক বিয়ে করেছেন, যা তরুণীর কাছে গোপন রাখা হয়েছিল।
এদিকে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সাংগঠনিকভাবেও চাপে পড়েছেন জাহিদ মুন্সি। এনসিপি গাজীপুর জেলা শাখা তাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে। এনসিপি গাজীপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক এম এম শোয়াইব জানিয়েছেন, দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের দায়ে তাকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে শৃঙ্খলা কমিটির কাছে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত এবং অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত জাহিদ মুন্সির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



























