ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিউইয়র্কে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড ক্ষমতার পাঁচ মাসে কেন হতাশ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, কী বলছে পরিস্থিতি মাদরাসা প্রধানদের ইআইআইএনভিত্তিক সিম কার্ড সচল রাখার নির্দেশ

মৌসুম শেষে শ্রীপুরে কাঁঠালের দাম আকাশছোঁয়া

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:২৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



গাজীপুরের শ্রীপুরের বিভিন্ন বাজারে মৌসুমের শেষ সময়ে এসে কাঁঠালের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৌসুমের শুরুতে যে কাঁঠাল মাত্র ১০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা আকার ও জাতভেদে ২০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এমনকি বড় ও সুস্বাদু কোনো কোনো কাঁঠালের দাম হাঁকা হচ্ছে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত।

বুধবার উপজেলার বরমী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, আগের মতো কাঁঠালের স্তূপ নেই। হাতেগোনা কয়েকজন বিক্রেতার কাছে অল্প কিছু কাঁঠাল রয়েছে। ক্রেতারা এসব কাঁঠালের দাম শুনে অবাক হচ্ছেন। পাইকার বিল্লাল হোসেন আটটি কাঁঠাল বিক্রির জন্য নিয়ে বসেছিলেন। একটি বড় কাঁঠাল দেখিয়ে তিনি বলেন, মৌসুমের সময় যে কাঁঠালের দাম ১০ টাকাও ছিল না, এখন তা ১ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। কিছু গাছে শেষ সময়ে কাঁঠাল ধরে, যা বেশি দামে কিনে আনতে হয়। তবে শেষ মৌসুমের কাঁঠালগুলো সুস্বাদু হওয়ায় ক্রেতাদেরও আগ্রহ রয়েছে।

আরেক পেশাদার কাঁঠাল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী ১৫টি কাঁঠাল নিয়ে বরমী বাজারে এসেছিলেন। তার কাঁঠালগুলোর দাম ২০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। তিনি জানান, মৌসুমের সময় গ্রামে প্রচুর কাঁঠাল পাওয়া গেলেও এখন সরবরাহ কমে যাওয়ায় সংগ্রহ করতে খরচ বেশি হচ্ছে। তার মতে, শেষ মৌসুমের কাঁঠালের কোষ বড়, মিষ্টি বেশি এবং গন্ধ মধুর মতো।

ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, মে থেকে জুলাই পর্যন্ত শ্রীপুরের বাজারগুলোতে কাঁঠালের সরবরাহ ব্যাপক থাকে। তবে মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জৈনাবাজার, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, নয়নপুর, বরমী ও মাওনা চৌরাস্তার মতো বাজারগুলোতে কাঁঠালের সরবরাহ কমে যায়। জৈনাবাজারের পাইকার সাইফুল ইসলাম জানান, স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কম থাকলেও সৌখিন ক্রেতারা বেশি দাম দিয়ে এসব কাঁঠাল কিনছেন। এছাড়া ঢাকার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এসব কাঁঠালের আলাদা চাহিদা থাকায় সেখানে নিয়ে গেলে ভালো দাম পাওয়া যায়।

ফল ব্যবসায়ী ইসলাম উদ্দিন জানান, সব জাতের কাঁঠাল একই সময়ে ধরে না। কিছু গাছে আগাম ফল আসে, আবার কিছু গাছে শেষ দিকে ধরে। শেষ সময়ে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়ে যায়। তিনি মনে করেন, জাত বুঝে কাঁঠালের চারা রোপণ করলে কৃষকের লাভ বেশি হতে পারে।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা জানান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কিছু আগাম ও ১২ মাসি কাঁঠালের জাত উদ্ভাবন করেছে। জাত বুঝে চারা রোপণ করলে কৃষকরা সারা বছর কাঁঠাল উৎপাদন করে ভালো দাম পেতে পারেন। তিনি আরও জানান, শ্রীপুরে এ বছর কাঁঠাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬০ মেট্রিক টন, যা গত বছরের অর্জিত লক্ষ্যমাত্রার সমান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

মৌসুম শেষে শ্রীপুরে কাঁঠালের দাম আকাশছোঁয়া

আপডেট সময় : ১১:২৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুরের বিভিন্ন বাজারে মৌসুমের শেষ সময়ে এসে কাঁঠালের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৌসুমের শুরুতে যে কাঁঠাল মাত্র ১০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা আকার ও জাতভেদে ২০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এমনকি বড় ও সুস্বাদু কোনো কোনো কাঁঠালের দাম হাঁকা হচ্ছে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত।

বুধবার উপজেলার বরমী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, আগের মতো কাঁঠালের স্তূপ নেই। হাতেগোনা কয়েকজন বিক্রেতার কাছে অল্প কিছু কাঁঠাল রয়েছে। ক্রেতারা এসব কাঁঠালের দাম শুনে অবাক হচ্ছেন। পাইকার বিল্লাল হোসেন আটটি কাঁঠাল বিক্রির জন্য নিয়ে বসেছিলেন। একটি বড় কাঁঠাল দেখিয়ে তিনি বলেন, মৌসুমের সময় যে কাঁঠালের দাম ১০ টাকাও ছিল না, এখন তা ১ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। কিছু গাছে শেষ সময়ে কাঁঠাল ধরে, যা বেশি দামে কিনে আনতে হয়। তবে শেষ মৌসুমের কাঁঠালগুলো সুস্বাদু হওয়ায় ক্রেতাদেরও আগ্রহ রয়েছে।

আরেক পেশাদার কাঁঠাল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী ১৫টি কাঁঠাল নিয়ে বরমী বাজারে এসেছিলেন। তার কাঁঠালগুলোর দাম ২০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। তিনি জানান, মৌসুমের সময় গ্রামে প্রচুর কাঁঠাল পাওয়া গেলেও এখন সরবরাহ কমে যাওয়ায় সংগ্রহ করতে খরচ বেশি হচ্ছে। তার মতে, শেষ মৌসুমের কাঁঠালের কোষ বড়, মিষ্টি বেশি এবং গন্ধ মধুর মতো।

ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, মে থেকে জুলাই পর্যন্ত শ্রীপুরের বাজারগুলোতে কাঁঠালের সরবরাহ ব্যাপক থাকে। তবে মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জৈনাবাজার, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, নয়নপুর, বরমী ও মাওনা চৌরাস্তার মতো বাজারগুলোতে কাঁঠালের সরবরাহ কমে যায়। জৈনাবাজারের পাইকার সাইফুল ইসলাম জানান, স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কম থাকলেও সৌখিন ক্রেতারা বেশি দাম দিয়ে এসব কাঁঠাল কিনছেন। এছাড়া ঢাকার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এসব কাঁঠালের আলাদা চাহিদা থাকায় সেখানে নিয়ে গেলে ভালো দাম পাওয়া যায়।

ফল ব্যবসায়ী ইসলাম উদ্দিন জানান, সব জাতের কাঁঠাল একই সময়ে ধরে না। কিছু গাছে আগাম ফল আসে, আবার কিছু গাছে শেষ দিকে ধরে। শেষ সময়ে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়ে যায়। তিনি মনে করেন, জাত বুঝে কাঁঠালের চারা রোপণ করলে কৃষকের লাভ বেশি হতে পারে।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা জানান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কিছু আগাম ও ১২ মাসি কাঁঠালের জাত উদ্ভাবন করেছে। জাত বুঝে চারা রোপণ করলে কৃষকরা সারা বছর কাঁঠাল উৎপাদন করে ভালো দাম পেতে পারেন। তিনি আরও জানান, শ্রীপুরে এ বছর কাঁঠাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬০ মেট্রিক টন, যা গত বছরের অর্জিত লক্ষ্যমাত্রার সমান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh