কাঁটাতারের বেড়ায় দুই বছর ধরে অবরুদ্ধ গাজীপুরের বিধবা শামসুন্নাহার
- আপডেট সময় : ১২:০৪:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের শ্রীপুরে গত দুই বছর ধরে এক প্রকার অবরুদ্ধ জীবন পার করছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব বিধবা শামসুন্নাহার বেগম ও তাঁর একমাত্র ছেলে সাইফুল ইসলাম দিপু। তাঁদের বসতভিটার চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা থেকে শুরু করে সাধারণ চলাচলের জন্য মই বেয়ে দেয়াল টপকাতে হয় তাঁদের। এমনকি বাড়িতে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।
শামসুন্নাহার বেগমের ভাষ্যমতে, পাঁচ বছর আগে তাঁর স্বামী আমিরুল ইসলাম মারা যাওয়ার পর থেকেই এই বসতভিটা তাঁদের শেষ আশ্রয়। স্থানীয় প্রভাবশালী নূরুল হুদার লোকজন দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের এই ভিটা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কয়েক দফা তাঁদের ওপর হামলা হয়েছে এবং ইটপাটকেল ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া রাতের বেলা বুলডোজার দিয়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় এই মা-ছেলেকে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "দুই বছর ধরে ঘরবন্দী। বের হওয়ার এক ইঞ্চি জায়গাও নেই। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটার পর্যন্ত নিয়ে গেছে। পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই—এভাবে দুই বছর ধরে কীভাবে চলছি, সেটা শুধু আমিই জানি।" তিনি আরও জানান, ঘরের চাল, ডাল ও তেলের মতো নিত্যপণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে এবং বাধ্য হয়ে গবাদিপশু ও পাখি বিক্রি করে দিতে হয়েছে।
ছেলের দাবি, ২০০৫ সালে তাঁর বাবা কষ্টার্জিত উপার্জনে সাড়ে ৩ শতাংশ জমিটি কিনেছিলেন। বর্তমান বাজারমূল্যে জমিটির দাম প্রায় কোটি টাকা হওয়ায় প্রভাবশালীদের নজর পড়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে শামসুন্নাহার জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে নূরুল হুদা বলেন, "চারপাশে মালিকের জমি। তাই বেড়া দেওয়া হয়েছে। মালিক যেভাবে হুকুম করবেন, আমরা সেভাবেই কাজ করি।"
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া জানান, বিষয়টি এখনো সমাধান হয়নি এবং সমাধানের চেষ্টা চলছে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানিয়েছেন, তাঁরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন এবং মারধরের অভিযোগের তদন্ত চলছে। তবে রাস্তা খুলে দেওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের অন্য দপ্তরের কাজ বলে তিনি উল্লেখ করেন।



























