ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড ক্ষমতার পাঁচ মাসে কেন হতাশ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, কী বলছে পরিস্থিতি মাদরাসা প্রধানদের ইআইআইএনভিত্তিক সিম কার্ড সচল রাখার নির্দেশ পাংশায় প্রবাসীর স্ত্রী রুনা হত্যায় প্রধান আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

গঙ্গাচড়ায় সরকারি খালের পানি দূষিত, দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৫৯:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রংপুরের গঙ্গাচড়ার বড়বিল ইউনিয়নের দক্ষিণ পানাপুকুর এলাকায় সরকারি উদ্যোগে খনন করা পুকুরখুড়ী খালের পানি ভয়াবহভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। খালের পানিতে ময়লা-আবর্জনা ভাসছে এবং সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এই দুর্গন্ধের কারণে পাশের সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারীদেরও নাক-মুখ চেপে চলতে দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বায়োএগ লিমিটেড নামের একটি ডিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ও দূষিত পানি খালে ফেলার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা কালী রঞ্জন দাস জানান, দুর্গন্ধের কারণে বাড়িতে টেকা দায় হয়ে পড়েছে এবং শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। আরেক বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললেও কোনো কার্যকর সমাধান মিলছে না। পথচারী ওমর ফারুক জানান, দুর্গন্ধের কারণে সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় দম বন্ধ হয়ে আসে এবং মাথা ঝিমঝিম করে।

তবে এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন বায়োএগ লিমিটেডের সুপারভাইজার কৌশিক। তিনি দাবি করেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের কোনো পানি বাইরে যায় না এবং খালে যে দূষিত পানি দেখা যাচ্ছে, তা তাদের নয়।

বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সামছুল হুদা এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি আগেও কথা বলেছেন, তবে এখনো কোনো সুরাহা পাননি। তিনি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সিফাত বিনতে করিম সতর্ক করে বলেন, এই দূষিত পানি থেকে ডায়রিয়া ও কলেরার মতো পানিবাহিত রোগের পাশাপাশি ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ও ঘা হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, কেন দীর্ঘদিন ধরে সরকারি উদ্যোগে খনন করা এই খালটি দূষিত অবস্থায় পড়ে আছে এবং কেন দূষণের উৎস শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হবে এবং খালের পানি দূষণের কারণ যাচাই করে পরিবেশের ক্ষতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা দ্রুত খালটি দূষণমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

গঙ্গাচড়ায় সরকারি খালের পানি দূষিত, দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা

আপডেট সময় : ১১:৫৯:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রংপুরের গঙ্গাচড়ার বড়বিল ইউনিয়নের দক্ষিণ পানাপুকুর এলাকায় সরকারি উদ্যোগে খনন করা পুকুরখুড়ী খালের পানি ভয়াবহভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। খালের পানিতে ময়লা-আবর্জনা ভাসছে এবং সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এই দুর্গন্ধের কারণে পাশের সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারীদেরও নাক-মুখ চেপে চলতে দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বায়োএগ লিমিটেড নামের একটি ডিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ও দূষিত পানি খালে ফেলার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা কালী রঞ্জন দাস জানান, দুর্গন্ধের কারণে বাড়িতে টেকা দায় হয়ে পড়েছে এবং শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। আরেক বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললেও কোনো কার্যকর সমাধান মিলছে না। পথচারী ওমর ফারুক জানান, দুর্গন্ধের কারণে সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় দম বন্ধ হয়ে আসে এবং মাথা ঝিমঝিম করে।

তবে এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন বায়োএগ লিমিটেডের সুপারভাইজার কৌশিক। তিনি দাবি করেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের কোনো পানি বাইরে যায় না এবং খালে যে দূষিত পানি দেখা যাচ্ছে, তা তাদের নয়।

বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সামছুল হুদা এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি আগেও কথা বলেছেন, তবে এখনো কোনো সুরাহা পাননি। তিনি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সিফাত বিনতে করিম সতর্ক করে বলেন, এই দূষিত পানি থেকে ডায়রিয়া ও কলেরার মতো পানিবাহিত রোগের পাশাপাশি ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ও ঘা হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, কেন দীর্ঘদিন ধরে সরকারি উদ্যোগে খনন করা এই খালটি দূষিত অবস্থায় পড়ে আছে এবং কেন দূষণের উৎস শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হবে এবং খালের পানি দূষণের কারণ যাচাই করে পরিবেশের ক্ষতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা দ্রুত খালটি দূষণমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin