পিরোজপুরের বেহাল সড়ক ও জলাবদ্ধতায় পৌরবাসীর চরম ভোগান্তি
- আপডেট সময় : ০১:২৭:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

পিরোজপুর পৌরসভার অধিকাংশ রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা এবং খানাখন্দে পরিপূর্ণ হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই শহরজুড়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। পৌর শহরের প্রায় ৯০ শতাংশ সড়ক বর্তমানে বেহাল অবস্থায় রয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৮৬৫ সালে ইউনিয়ন থেকে পৌরসভায় উন্নীত এবং ১৯৯০ সালে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পাওয়া এই পৌরসভার অবকাঠামোগত উন্নয়ন আশানুরূপ হয়নি। তথ্য অনুযায়ী, ২৯ দশমিক ৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় ৩৩০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে মাত্র ২০ কিলোমিটার পাকা এবং ৭০ কিলোমিটার মাটির রাস্তা।
সবচেয়ে ব্যস্ত সরকারি বালক ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় রোডটি বেহাল দশায় থাকায় প্রতিদিন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে। এছাড়া বলাকা ক্লাব রোড, সিআইপারা, মন্ডলপাড়া, মাছিমপুর ও কৃষ্ণনগর এলাকার চিত্রও প্রায় একই। ড্রেনেজ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকায় বৃষ্টি ও বন্যার পানি নিষ্কাশিত হতে পারে না, ফলে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়। এই জমে থাকা পানিতে ডেঙ্গু মশার বংশবিস্তার বাড়ছে এবং চলতি বছরে বরিশাল বিভাগের মধ্যে পিরোজপুর ডেঙ্গু আক্রান্তের শীর্ষে রয়েছে, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা তেরো শ ছাড়িয়েছে।
শিক্ষার্থী ও পথচারীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে হাঁটুসমান পানি ও কাদা মাড়িয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে স্কুল ইউনিফর্ম নষ্ট হয় এবং প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। রিকশাচালকদের ভাষ্যমতে, ভাঙা রাস্তার কারণে রিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়, যা তাদের উপার্জনের বড় অংশ কেড়ে নেয়। স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজ শেখ জানান, বৃষ্টি হলে রাস্তাগুলো হাঁটুসমান পানিতে ডুবে যায়, যা চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার নেওয়াজ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরাফ শেখও একই অভিযোগ তুলে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা বনি আমিন জানান, বাজেট স্বল্পতার কারণে পৌরসভার আয়তন অনুযায়ী উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সুমনের প্রচেষ্টায় তিনটি পৌরসভা নিয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং রাস্তা ও ড্রেনের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।



























