ময়মনসিংহে ইকোপার্ক প্রকল্প: উচ্ছেদ আতঙ্কে ফুলবাড়িয়ার সহস্রাধিক কৃষক পরিবার
- আপডেট সময় : ০৪:২০:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার সন্তোষপুরে ৫৬৫ একর জমিতে প্রস্তাবিত ইকোপার্ক নির্মাণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কৃষিজীবী মানুষের মাঝে তীব্র উচ্ছেদ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘকাল ধরে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করা প্রায় এক হাজারের বেশি কৃষক পরিবার তাদের আবাদি জমি ও বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
প্রকল্প এলাকার মোট ৫৬৫ একর জমির মধ্যে প্রায় ৫১৫ একর জমিই বর্তমানে স্থানীয় কৃষকদের দখলে রয়েছে। এসব জমিতে কৃষকরা বিভিন্ন ফলদ ও ঔষধি গাছ ছাড়াও কলা, হলুদ, আনারস, আদা এবং বিভিন্ন জাতের গাছের চারা রোপণ করে সংসার চালান। স্থানীয়রা জানান, তারা অনেকেই সরকারের অংশীদার হিসেবে কাজ করেন। এর আগে সরকারিভাবে আকাশমনি গাছ কাটার সময় কৃষকদের ৪০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে উর্বর কৃষিজমি অকৃষি খাতে রূপান্তরের এই উদ্যোগকে মারাত্মক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি-বিজ্ঞান ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. আনোয়ার হোসেন। তার মতে, "উন্নয়নের নামে উর্বর কৃষিজমি অকৃষি খাতে রূপান্তর করা মারাত্মক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। ময়মনসিংহের এই নির্দিষ্ট ভূখণ্ডটি এক প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যের অভয়ারণ্য এবং ভূগর্ভস্থ পানি পুনর্ভরণের প্রধান ক্ষেত্র। কৃত্রিম ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র বানাতে গিয়ে যদি হাজার হাজার বৃক্ষনিধন করা হয় এবং প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা জলাশয় ভরাট করা হয়, তবে তা স্থানীয় প্রতিবেশকে চরম ভারসাম্যহীনতার মুখে ঠেলে দেবে। কংক্রিটের গাঁথুনি মেরে কৃত্রিম বনায়ন কোনোদিন প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বাস্তুতন্ত্রের বিকল্প হতে পারে না। উপরন্তু, বাণিজ্যিক বিনোদন কেন্দ্র স্থাপন করলে পর্যটকদের বর্জ্য ও যান্ত্রিক দূষণে পার্শ্ববর্তী কৃষিভূমির স্বাভাবিক ক্ষয়পূরণ ক্ষমতা বিনষ্ট হয়ে যাবে।"
তবে কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম। তিনি দাবি করেন, "কৃষক বা স্থানীয় অধিবাসীদের আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ইকোপার্ক প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্যই হলো এলাকার বিলুপ্তপ্রায় প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা এবং ইকোট্যুরিজমের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করা। প্রকল্পের প্রাথমিক রূপরেখা তৈরির কাজ চলছে। কোনো উর্বর কৃষিভূমি বা কৃষকের বসতবাড়ি উচ্ছেদ করে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে না।"



























