টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউসবোট চলাচল নিষিদ্ধ, জেলা প্রশাসনের ১১ নির্দেশনা
- আপডেট সময় : ১০:১৯:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জের বিশ্ব ঐতিহ্য টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশগত ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য এবং পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। হাওরের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সীমানার ভেতরে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের হাউসবোট এবং পর্যটকবাহী নৌযান প্রবেশ ও চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাওরে চলাচলকারী সব নৌযানের মালিক ও চালকদের আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শাখা থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। 'টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ, ২০২৫'-এর আলোকেই পরিবেশ রক্ষা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এই ১১ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, টাঙ্গুয়ার হাওরে চলাচলকারী সব হাউসবোটের নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত ফরমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে বা অনুমতি না থাকলে কোনো নৌযান চালানো যাবে না। এই আবেদন সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য সুনামগঞ্জের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) এর সাথে (মোবাইল নম্বর: ০১৭৩০-৩৩১১০৬) যোগাযোগ করা যাবে।
হাওরের পরিবেশ রক্ষায় হাউসবোটে উচ্চস্বরে গান-বাজনা, মাইক বাজানো বা যেকোনো ধরনের পার্টির আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি নৌযানে পানি বিশুদ্ধকরণ ফিল্টার রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া হাউসবোটে অবশ্যই সেপটিক ট্যাংক এবং অন্তত দুটি ডাস্টবিন স্থাপন করতে হবে, যাতে হাওর বা জলাশয়ে কোনো প্রকার বর্জ্য না ফেলা হয়।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি হাউসবোটের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। নৌযানে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। পর্যটকদের জন্য আচরণবিধি দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে এবং ভ্রমণ শুরুর আগেই তাদের এ বিষয়ে অবহিত করতে হবে।
জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের সুবিধার্থে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং হাসপাতালের নম্বরগুলো নৌযানের দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। প্রতিটি ট্যুরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময় পর্যটক পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে এবং আকস্মিক ঝড়, প্রবল বৃষ্টি বা বজ্রপাতের আশঙ্কাকালীন পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অবিলম্বে এই আদেশ কার্যকর করা হবে এবং হাওরের সুরক্ষায় তদারকি জোরদার থাকবে।




























