জাজিরায় ফের বোমা বিস্ফোরণ: টয়লেটের ছাদ ভাঙল, পানির ট্যাংক উড়ে গেল

- আপডেট সময় : ০৬:৩০:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় একটি বসতবাড়ির টয়লেটের ছাদে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে বি কে নগর ইউনিয়নের কদম আলি মাদবর কান্দি গ্রামের জব্বার মাদবরের বাড়িতে এই বিস্ফোরণে টয়লেটের ছাদের কিছু অংশ ভেঙে পড়ে এবং ওপরের পানির ট্যাংক উড়ে অন্য একটি স্থানে গিয়ে পড়ে। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
বিস্ফোরণের পর বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটিতে ভিড় জমান। এটি একদিনের ব্যবধানে জাজিরায় দ্বিতীয় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা, যা জনমনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে জাজিরা থানা পুলিশের একটি তদন্ত দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা বিস্ফোরণের স্থান পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেন। পুলিশ কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখছেন, কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে, কীভাবে এটি সেখানে পৌঁছেছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত থাকতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই ঘটনার ঠিক একদিন আগে বিলাসপুর ইউনিয়নে মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. আলী উজ্জামাল হাওলাদারের বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় সেপটিক ট্যাংকের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ককটেলের আলামত উদ্ধার করে। সেই ঘটনার একদিন পার না হতেই বি কে নগর ইউনিয়নে আবারও বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো জাজিরায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, কবরস্থান থেকে বিপুলসংখ্যক তাজা ককটেল উদ্ধার, বিস্ফোরণে প্রাণহানি এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শতাধিক ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে একই চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।
এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ্ আহম্মদ বলেন, খবর পেয়ে জাজিরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাস্থলের অবস্থা দেখে মনে হয়েছে, আগে থেকেই সেখানে বোমা মজুত রাখা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, রোদের তাপে গরমে হয়তো বিস্ফোরিত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। কীভাবে বিস্ফোরকটি সেখানে এলো এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা গুরুত্বের সঙ্গে নজরদারি ও তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।



























