দিনাজপুর অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে ১৪৯২ কোটি টাকার প্রকল্প
- আপডেট সময় : ০২:১২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

উত্তরবঙ্গের বৃহত্তর দিনাজপুর অঞ্চলের গ্রামীণ পরিবহন ও অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড় জেলার সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানীয় সরকার বিভাগ বাস্তবায়ন করবে এবং এর মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বে থাকবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সাম্প্রতিক সভায় এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের পুরো অর্থায়ন বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে এবং ২০৩০ সালের ৩০ জুনের মধ্যে এর বাস্তবায়ন কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মো. মাহমুদুল হোসাইন খান জানিয়েছেন, গ্রামীণ সড়কগুলো উন্নত করার মাধ্যমে হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে গ্রামের সংযোগ জোরদার করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এর ফলে কৃষি ও অকৃষি পণ্য বিপণন সহজ হবে, যাতায়াতের সময় ও খরচ কমবে এবং সরকারি সেবা প্রাপ্তি সহজতর হবে। তিনি প্রকল্পটিকে ‘যুগান্তকারী’ হিসেবে অভিহিত করে জানান, এটি নির্মাণ ও পরিচালনা উভয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি করবে।
প্রকল্পের আওতায় এলজিইডি ২১.৭৫ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ১৭১.৫৫ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক এবং ৮৪২.৫২ কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তা সব ঋতুতে চলাচলের উপযোগী করবে। এছাড়া ৪১০ মিটার দীর্ঘ ১৬টি সেতু নির্মাণ করা হবে। সড়ক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ১০.৭ লাখ ঘনমিটার মাটি ভরাট, ৩ হাজার ৬৫০টি ট্রাফিক সাইন, ৭ হাজার ৩০০টি গাইড পোস্ট, ১৪ হাজার ৯০০ মিটার প্যালিসেডিং এবং ১২৯ হাজার ৬৫০ বর্গমিটার রোড মার্কিংয়ের কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের মতে, এই অঞ্চলের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা বড় ভূমিকা রাখবে। এটি দিনাজপুরের লিচু ও সুগন্ধি চাল, ঠাকুরগাঁওয়ের আম এবং পঞ্চগড়ের চা পরিবহনে দক্ষতা বাড়াবে। পাশাপাশি এই তিন জেলার ঐতিহাসিক স্থানগুলোর পর্যটন বিকাশেও সহায়তা করবে। ২০২৫ সালে ‘মির্জা ইন্টারন্যাশনাল’-এর সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় প্রকল্পটিকে কারিগরি ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর নিট বর্তমান মূল্য (এনপিভি) ৬৭৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, অভ্যন্তরীণ আয়ের হার (আইআরআর) ১৭.১২ শতাংশ এবং সুবিধা-ব্যয় অনুপাত (বিসিআর) ১.৩২:১।
সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই প্রকল্পটিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় রাখা হয়েছে। এটি দারিদ্র্য বিমোচন, টেকসই কৃষি উন্নয়ন এবং এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশেষ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।




























