নোয়াখালীর সেনবাগে নতুন গ্যাস কূপ খনন শুরু করল বাপেক্স

- আপডেট সময় : ১২:২১:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় নতুন একটি গ্যাস কূপের খনন কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে ‘সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্প’ নামের এই কূপটির খনন কাজ শুরু করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বাপেক্স আনুষ্ঠানিকভাবে এই খনন কাজের সূচনা করে এবং আজ বুধবার সকাল থেকে পুরোদমে খনন কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এই কূপটি মাটির নিচে ১ হাজার ৫৫০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাটির নিচে ১ হাজার ৩৬১ মিটার এবং ১ হাজার ৪৫০ মিটার গভীরতায় দুটি আলাদা জোনে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছেন ভূগর্ভস্থ বিশেষজ্ঞরা। ডিরেকশনাল ওয়েল পদ্ধতিতে এমডব্লিওডি (MWD) মেথড ব্যবহার করে এই খনন কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।
সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্পের ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান জানান, মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই খনন কাজ একনাগাড়ে চলবে। ৪৫ দিনের মধ্যে খনন কাজ এবং পরবর্তী ১৫ দিনের ডিএসটি (ড্রিল স্টেম টেস্ট) পরীক্ষা শেষ হলে এই কূপে কী পরিমাণ গ্যাস মজুত রয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। কূপটি সফলভাবে খনন ও ডিএসটি পরীক্ষা সম্পন্ন হলে এখান থেকে দৈনিক প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
বাপেক্স সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী অঞ্চলের বেগমগঞ্জে ১৯৭৬ সালে প্রথম গ্যাস কূপের সন্ধান মেলে। এরপর ১৯৭৮ সালে সেখানে দ্বিতীয় কূপের সন্ধান মিললে দুটি কূপেই ড্রিলিং করা হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে সেগুলোতে কোনো গ্যাস পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৩ সালে সেখানে তৃতীয় কূপের সন্ধান মেলে। ড্রিলিং শেষে ওই কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয় এবং ২০১৮ সালে একই কূপে ওয়ার্কওভার করার পর বর্তমানে সেখান থেকে প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এছাড়াও নোয়াখালীতে এর আগে ‘সুন্দলপুর-১’, ‘সুন্দলপুর-২’ এবং ‘সুন্দলপুর-৩’ নামের তিনটি গ্যাস কূপ খনন করেছিল বাপেক্স। বর্তমানে সুন্দলপুর-১ এবং সুন্দলপুর-৩ কূপের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তবে সুন্দলপুর-২ কূপ থেকে নিয়মিত জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। আর বন্ধ থাকা সুন্দলপুর-৩ কূপটির ওয়ার্কওভার বা সংস্কার কাজ শেষ হলে আবারও সেটি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বাপেক্স।



























