পাবনায় কুকুরের কামড়ে শিশুসহ ১১ জন আহত, আতঙ্ক

- আপডেট সময় : ০৪:২৯:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

পাবনা শহরের লস্করপুর রেলওয়ে স্টেশন ও এর আশপাশের এলাকায় পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল পর্যন্ত চলা এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। আহতদের উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
পাবনা সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান বুধবার দুপুরে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কুকুরের কামড়ে আহত ১১ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের সবাইকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও র্যাবিস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সাতজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং বাকি চারজন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, লস্করপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরেই বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে। এলাকাবাসী জুঁই আক্তার জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই কুকুরগুলো পথচারীদের ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি কামড়াতে শুরু করে। তিনি দাবি করেন, চোখের সামনেই অন্তত ১৫-২০ জনকে কামড়ানোর ঘটনা ঘটেছে এবং এক শিশুর চোখ উপড়ে ফেলার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, একাধিকবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি বুধবার সকালেও কুকুরগুলোকে এলাকায় ঘুরতে দেখা গেছে এবং তারা নতুন করে দু-একজনকে কামড়েছে।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জহুরুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। তিনি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাবনা পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরুজ্জামানও জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না এবং তিনি এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তবে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
এলাকাবাসী এখন দ্রুত বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণ, আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।




























