হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, ছাত্রদল নেতাসহ ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

- আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের বহনকারী গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসে জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। মামলায় জেলা ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহমদ রিংগনকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের সময় এনসিপির শীর্ষ নেতারা পুলিশ ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে হবিগঞ্জ শহরে কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে এনসিপির নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন এবং নেতাদের বহনকারী মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়। এনসিপির পক্ষ থেকে এই হামলার জন্য বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় দলের নেতাকর্মী আহত হওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলার মুখে পড়ে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হবিগঞ্জ শহরের একটি সোনালী ব্যাংক শাখায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন, পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ সড়কের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ‘চা কন্যা’ ভাস্কর্য এলাকায় এনসিপির গাড়িবহর পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়ে। সেখানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও ডা. মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা বাগবিতণ্ডা ও অবস্থানের পর রাত ৮টার দিকে তারা কামাইছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। নেতারা জানিয়েছেন, মামলার এজাহার জমা দিয়ে তারা পুনরায় মৌলভীবাজারে ফিরে যাবেন। এ সময় হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে এনসিপির কর্মসূচি এবং জেলা বিএনপি ও ছাত্রদলের পৃথক কর্মসূচির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বুধবার সকাল থেকে পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। এছাড়া শহর ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়। এনসিপি মৌলভীবাজার জেলায় তাদের পূর্বঘোষিত দুটি ‘জুলাই পদযাত্রা’ সাময়িকভাবে স্থগিত করে হবিগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিল।



























