গাজায় সীমানা বাড়াচ্ছে ইসরাইল, ভিটেমাটি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে হাজারো পরিবার

- আপডেট সময় : ০২:২৯:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

গাজা উপত্যকায় নিজেদের সামরিক প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করতে নতুন করে মাটির দেয়াল ও কনক্রিটের বেড়া নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। এই সামরিক পদক্ষেপের ফলে গাজার শত শত পরিবার আবারও বাস্তুচ্যুত হয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতির শর্ত উপেক্ষা করে তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ সীমানা গাজার ভেতরের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা ফিলিস্তিনিদের বসবাসের এলাকাকে ক্রমাগত সংকুচিত করে তুলছে।
উত্তর গাজার আল-তুফাহ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা লক্ষ্য করেছেন, তাদের চলাচলের প্রধান সড়ক সালাহ আল-দিনের ওপর আগের চেয়ে পশ্চিম দিকে সরিয়ে আনা হয়েছে হলুদ রঙের কনক্রিটের ব্লক। এর পাশাপাশি প্রায় তিন মিটার উঁচু বিশাল মাটির বাঁধ তৈরি করা হয়েছে, যার ওপর ইসরাইলি পতাকা উড়তে দেখা যাচ্ছে। বাস্তুচ্যুত হওয়া মোহাম্মদ আল-শাওইশ জানান, যুদ্ধের শুরুতে বোমার আঘাতে তাদের বাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর তারা তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু সামরিক বাহিনীর নির্দেশনায় সেখান থেকেও তাদের সরে যেতে হয় এবং পরবর্তী হামলায় সেই তাঁবুটিও ধ্বংস হয়ে যায়।
গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, সেখানে ইসরাইলি বাহিনীকে একটি নির্দিষ্ট সীমানার পেছনে অবস্থান নেওয়ার কথা ছিল। চুক্তি অনুযায়ী ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা থাকলেও, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি দাবি করেছেন যে বর্তমানে গাজার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং একে ৭০ শতাংশে উন্নীত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গাজায় বর্তমানে ৪২ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকা জুড়ে মাটির বাঁধ ও সামরিক স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজা উপত্যকায় দীর্ঘমেয়াদী সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতেই এসব স্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তোলা হচ্ছে। এই অবকাঠামো নির্মাণের পথ পরিষ্কার করতে খান ইউনূস, দেইর আল-বালাহ ও জেইতুন এলাকায় নিয়মিত বুলডোজার চালানো হচ্ছে। এতে হাজার হাজার ঘরবাড়ি, গ্রিনহাউস ও শতবর্ষী জলপাই বাগান ধ্বংস করা হচ্ছে। বর্তমানে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্থায়ী আশ্রয়ের অভাবে গাজার ২০ লাখেরও বেশি মানুষ চরম মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।




























