ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দিনাজপুর ইয়াবা সহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ফায়েম হত্যার মূল আসামি হারুন গ্রেফতার সেনবাগে পুলিশের সাথে আরও ৭ জন গ্রেফতার নেত্রকোণা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২ জনের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড নওগাঁ মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি গ্রেফতার নতুন স্বপ্ন, নতুন উদ্যম, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত আধুনিক ও আদর্শ আমজাদ হাট ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়ে রাজধানীতে গণপরিবহণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন পরিকল্পনা বাংলাদেশ শূন্য রানেই অস্ট্রেলিয়ার ৩ উইকেট তুলে নিল আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল তেজগাঁও দারুস সালামে ইয়াবা সহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেফতার সুনামগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২ ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি গ্রেফতার

১২ মাসেই মাছ মারছি নদীত, এলা পানিও নাই মাছও নাই: ধরণী কান্ত দাস

হীমেল কুমার মিত্র স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৪:১৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ মে ২০২৩ ৩১৪ বার পড়া হয়েছে

১২ মাসেই মাছ মারছি নদীত, এলা পানিও নাই মাছও নাই: ধরণী কান্ত দাস

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

হামার বাপ-দাদার আমল থাকি এই মাছ ধরার কাজ করি আসতোছি। আগোত নদীত শোগসময় পানি আসছো। ১২ মাসেই মাছ মারছি নদীত, এলা (এখন) পানিও নাই মাছও নাই।’

কথাগুলো বলছিলেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের গোডাউনের হাট এলাকার জেলেপল্লির বাসিন্দা ধরণী কান্ত দাস (৬৬)। স্ত্রী-সন্তানসহ তাঁর পাঁচজনের সংসার চলে মাছ ধরে। কিন্তু তিস্তা নদীতে ঠিকমতো মাছ না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

ধরণী কান্ত বলেন, ‘দুইটা ছইলোক নিয়া নদীর অল্প পানিত মাছ মারিয়া আধা কেজি মাছ পাছি। এই মাছ বিক্রি করি চাউল কিনছি। আগোত মাছ খাওয়া হইতো, বিক্রিও হইতো। এখন সেই দিন নাই। দুইটা ছইল মাছ ধরে। কোনো দিন মাছ পায়, কোনো দিন পায় না। পাইলেও খাওয়া হয় না।

রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও বদরগঞ্জ উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তার বুক জুড়ে একসময় পানি থই থই করত। জেলেরা নদীতে মাছ ধরে দিনরাত ব্যস্ত থাকতেন। সেই খরস্রোতা নদীতে এখন কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমরসমান। হেঁটে নদী পার হচ্ছেন মানুষ, পার হয় গরু-মহিষের গাড়ি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিস্তা নদীর উজানে ভারতের গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণ করায় একসময়ের খরস্রোতা তিস্তায় এখন পানি থাকে না। এখন পানি না থাকায় অধিকাংশ সময় জেলেদের বসে থাকতে হয়। শুধু বর্ষা মৌসুমের পানিতে অল্প কয়েক দিন মাছ ধরতে পারেন বলে জেলেরা জানিয়েছেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বদরুজ্জামান মানিক জানান, রংপুরে নদী, বিল ও মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় ১৩ হাজার জেলে। রংপুরে কর্মহীন জেলেদের জন্য বরাদ্দ না থাকায় অর্থসহায়তা প্রদান করা সম্ভব হয় না।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

১২ মাসেই মাছ মারছি নদীত, এলা পানিও নাই মাছও নাই: ধরণী কান্ত দাস

আপডেট সময় : ০৪:১৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ মে ২০২৩
print news

হামার বাপ-দাদার আমল থাকি এই মাছ ধরার কাজ করি আসতোছি। আগোত নদীত শোগসময় পানি আসছো। ১২ মাসেই মাছ মারছি নদীত, এলা (এখন) পানিও নাই মাছও নাই।’

কথাগুলো বলছিলেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের গোডাউনের হাট এলাকার জেলেপল্লির বাসিন্দা ধরণী কান্ত দাস (৬৬)। স্ত্রী-সন্তানসহ তাঁর পাঁচজনের সংসার চলে মাছ ধরে। কিন্তু তিস্তা নদীতে ঠিকমতো মাছ না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

ধরণী কান্ত বলেন, ‘দুইটা ছইলোক নিয়া নদীর অল্প পানিত মাছ মারিয়া আধা কেজি মাছ পাছি। এই মাছ বিক্রি করি চাউল কিনছি। আগোত মাছ খাওয়া হইতো, বিক্রিও হইতো। এখন সেই দিন নাই। দুইটা ছইল মাছ ধরে। কোনো দিন মাছ পায়, কোনো দিন পায় না। পাইলেও খাওয়া হয় না।

রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও বদরগঞ্জ উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তার বুক জুড়ে একসময় পানি থই থই করত। জেলেরা নদীতে মাছ ধরে দিনরাত ব্যস্ত থাকতেন। সেই খরস্রোতা নদীতে এখন কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমরসমান। হেঁটে নদী পার হচ্ছেন মানুষ, পার হয় গরু-মহিষের গাড়ি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিস্তা নদীর উজানে ভারতের গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণ করায় একসময়ের খরস্রোতা তিস্তায় এখন পানি থাকে না। এখন পানি না থাকায় অধিকাংশ সময় জেলেদের বসে থাকতে হয়। শুধু বর্ষা মৌসুমের পানিতে অল্প কয়েক দিন মাছ ধরতে পারেন বলে জেলেরা জানিয়েছেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বদরুজ্জামান মানিক জানান, রংপুরে নদী, বিল ও মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় ১৩ হাজার জেলে। রংপুরে কর্মহীন জেলেদের জন্য বরাদ্দ না থাকায় অর্থসহায়তা প্রদান করা সম্ভব হয় না।