ঢাকা ১১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুষ্টিয়ায় পুনর্বাসন ছাড়া রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযানে বিএনপির বিক্ষোভ রাবিতে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় শাস্তির দাবিতে শিক্ষকদের স্মারকলিপি সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-নয়াদিল্লি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, ছাত্রদল নেতাসহ ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন সিটি বাস্তবায়নে দুই সিটিকে গতি বাড়ানোর নির্দেশ জুলাই আন্দোলনের বড় অর্জন ভয়হীন বাংলাদেশ: জাহিদুল ইসলাম বিতর্কের মুখে রাবি রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের কর্মকাণ্ড মার্কিন সেনাদের মোবাইল ফোন জমার নির্দেশ দিতে পারে সেন্টকম ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৩ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৫৩৪ জন শত্রুর বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকার আহ্বান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের

হাঁসের খামার থেকে এখন তিনি মাসে ৯০ হাজার টাকা আয় করছেন: হাসি ফুটেছে জয়শ্রীর অভাবের সংসারে

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:
  • আপডেট সময় : ০৯:৩২:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫ ২৪৮ বার পড়া হয়েছে

হাঁসের খামার থেকে এখন তিনি মাসে ৯০ হাজার টাকা আয় করছেন: হাসি ফুটেছে জয়শ্রীর অভাবের সংসারে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

স্টাফ রিপোর্টার
রংপুর:

অভাবজয়ী ওই গৃহবধূর নাম জয়শ্রী রায়। বাড়ি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের পলাশবাড়ী গ্রামে। ওই গ্রামের মিন্টু চন্দ্র রায়ের স্ত্রী তিনি। হাঁসের খামার থেকে এখন তিনি মাসে ৯০ হাজার টাকা আয় করছেন। মেধা ও শ্রম দিয়ে শুধু একার দিন বদলাননি। তাঁর দেখানো পথ ধরে আশপাশের গ্রামের অনেকের জীবন বদলে গেছে।

স্বামীর সংসারে এসে দেখেন, চারদিকে শুধু অভাব। শাড়ি-চুরির শখ পূরণ করা তো দূরের কথা, মুখে দুই বেলা খাবার তোলাও কষ্টকর। দারিদ্র্য দূর করতে কিছু করার পরিকল্পনা করেন। শুরু করেন গৃহশিক্ষকতা। ধীরে ধীরে রাত-দিন পরিশ্রম করে গড়ে তোলেন হাঁসের খামারএখন সেই হাঁস তাঁর সংসারে হাসি ফিরিয়ে এনেছে।

তারাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে পলাশবাড়ী গ্রাম। কাঁচা-পাকা পথ ধরে জয়শ্রী রায়ের বাড়ি যাওয়ার সময় অসংখ্য খামার চোখে পড়ে। প্রায় প্রতিটি বাড়ির আনাচকানাচে সবজি চাষ করা হয়েছে। উঠানে ও খামারে হাঁস-মুরগি, গোয়ালে গরু-ছাগল-ভেড়া। জয়শ্রী রায়ের বাড়ি খুঁজতেই একজন দেখিয়ে দিলেন। বাড়ির পাশে খামারে ঢুকতেই দেখা গেল, জয়শ্রী রায় হাঁসের ডিম তুলতে ব্যস্ত। কিছুক্ষণ পর খামার থেকে ডিমভর্তি খাঁচা নিয়ে বেরিয়ে এলেন।

খামারের পাশে গাছের ছায়ায় বসতে দিয়ে দিনবদলের গল্প শোনান জয়শ্রী রায়। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ সিঙ্গেরগাড়ী গ্রামে মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম তাঁর। তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট। ২০১৮ সালে এইচএসসি পাস করার পর তারাগঞ্জের পলাশবাড়ী গ্রামের মিন্টু চন্দ্রর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বেকার স্বামীর সংসারে এসে অনাহার-অর্ধাহারে থাকতে হতো। প্রতিজ্ঞা করেন দারিদ্র্য দূর করবেন। সেই প্রতিজ্ঞা থেকে আয়ের উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। সেই ভাবনা থেকে গৃহশিক্ষকতা শুরু করেন। কিন্তু গৃহশিক্ষকতা করেও ভালো আয় হচ্ছিল না।

জয়শ্রী রায় জানান, ১ বছর শিক্ষকতা করে ৩০ হাজার টাকার মতো জমান। সেই টাকা দিয়ে হাঁস-মুরগি ও ছাগল কেনেন। কিন্তু এরপরও অভাব যাচ্ছিল না। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে সেই গ্রামের একজনের কাছে হাঁস পালনের কৌশল শেখেন। এরপর বাবার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ির পাশে ঘর করেন। পরে ২০ হাজার টাকায় ৫০০ হাঁসের বাচ্চা কিনে খামার শুরু করেন। চার মাসের মধ্যে হাঁস ডিম দেওয়া শুরু করে। ১ বছর ডিম বিক্রি করে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা আয় হয়। তাঁর আয় দেখে স্বামীও তাঁর সঙ্গে যোগ দেন। ডিম বিক্রির টাকায় আরও এক হাজার হাঁসের বাচ্চা কেনেন। এভাবে তিনি সফল উদ্যোক্তা হয়ে ওঠেন।

জয়শ্রী রায় আরও বলেন, এখন ৩টি খামারে ৩ হাজার হাঁস আছে। ২জন শ্রমিক নিয়মিত খামারে কাজ করেন। বর্তমান তাঁর মাসিক আয় ৯০ হাজার টাকাআয়ের টাকায় জমি কিনেছেন। বাড়ি পাকা করেছেন। এলাকার অনেকে এখন তাঁর কাছে পরামর্শ নিতে আসেন।

জয়শ্রী রায়ের পরামর্শে হাঁস পালন করে অনেকেরে সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। হাঁসের খামার করে তাঁর মতো তারাগঞ্জের আবদুর রহিম, সাইফুল ইসলাম, হাজিরহাট গ্রামের মশিউর রহমান, পলাশবাড়ী গ্রামের অজিত চন্দ্র, মেনহাজুল ইসলামসহ আরও অনেকে দারিদ্র্যকে জয় করেছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে এম ইফতেখারুল ইসলাম জানান, জয়শ্রী রায়ের খামার ও তাঁর কার্যক্রম আমি দেখেছি। তিনি একজন দক্ষ খামারি। নিজের সন্তানের মতো হাঁসগুলো পরিচর্যা করেন। তাঁকে দেখে গ্রামের অনেক নারী-পুরুষ হাঁস পালনে উৎসাহিত হয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

হাঁসের খামার থেকে এখন তিনি মাসে ৯০ হাজার টাকা আয় করছেন: হাসি ফুটেছে জয়শ্রীর অভাবের সংসারে

আপডেট সময় : ০৯:৩২:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
print news

স্টাফ রিপোর্টার
রংপুর:

অভাবজয়ী ওই গৃহবধূর নাম জয়শ্রী রায়। বাড়ি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের পলাশবাড়ী গ্রামে। ওই গ্রামের মিন্টু চন্দ্র রায়ের স্ত্রী তিনি। হাঁসের খামার থেকে এখন তিনি মাসে ৯০ হাজার টাকা আয় করছেন। মেধা ও শ্রম দিয়ে শুধু একার দিন বদলাননি। তাঁর দেখানো পথ ধরে আশপাশের গ্রামের অনেকের জীবন বদলে গেছে।

স্বামীর সংসারে এসে দেখেন, চারদিকে শুধু অভাব। শাড়ি-চুরির শখ পূরণ করা তো দূরের কথা, মুখে দুই বেলা খাবার তোলাও কষ্টকর। দারিদ্র্য দূর করতে কিছু করার পরিকল্পনা করেন। শুরু করেন গৃহশিক্ষকতা। ধীরে ধীরে রাত-দিন পরিশ্রম করে গড়ে তোলেন হাঁসের খামারএখন সেই হাঁস তাঁর সংসারে হাসি ফিরিয়ে এনেছে।

তারাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে পলাশবাড়ী গ্রাম। কাঁচা-পাকা পথ ধরে জয়শ্রী রায়ের বাড়ি যাওয়ার সময় অসংখ্য খামার চোখে পড়ে। প্রায় প্রতিটি বাড়ির আনাচকানাচে সবজি চাষ করা হয়েছে। উঠানে ও খামারে হাঁস-মুরগি, গোয়ালে গরু-ছাগল-ভেড়া। জয়শ্রী রায়ের বাড়ি খুঁজতেই একজন দেখিয়ে দিলেন। বাড়ির পাশে খামারে ঢুকতেই দেখা গেল, জয়শ্রী রায় হাঁসের ডিম তুলতে ব্যস্ত। কিছুক্ষণ পর খামার থেকে ডিমভর্তি খাঁচা নিয়ে বেরিয়ে এলেন।

খামারের পাশে গাছের ছায়ায় বসতে দিয়ে দিনবদলের গল্প শোনান জয়শ্রী রায়। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ সিঙ্গেরগাড়ী গ্রামে মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম তাঁর। তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট। ২০১৮ সালে এইচএসসি পাস করার পর তারাগঞ্জের পলাশবাড়ী গ্রামের মিন্টু চন্দ্রর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বেকার স্বামীর সংসারে এসে অনাহার-অর্ধাহারে থাকতে হতো। প্রতিজ্ঞা করেন দারিদ্র্য দূর করবেন। সেই প্রতিজ্ঞা থেকে আয়ের উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। সেই ভাবনা থেকে গৃহশিক্ষকতা শুরু করেন। কিন্তু গৃহশিক্ষকতা করেও ভালো আয় হচ্ছিল না।

জয়শ্রী রায় জানান, ১ বছর শিক্ষকতা করে ৩০ হাজার টাকার মতো জমান। সেই টাকা দিয়ে হাঁস-মুরগি ও ছাগল কেনেন। কিন্তু এরপরও অভাব যাচ্ছিল না। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে সেই গ্রামের একজনের কাছে হাঁস পালনের কৌশল শেখেন। এরপর বাবার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ির পাশে ঘর করেন। পরে ২০ হাজার টাকায় ৫০০ হাঁসের বাচ্চা কিনে খামার শুরু করেন। চার মাসের মধ্যে হাঁস ডিম দেওয়া শুরু করে। ১ বছর ডিম বিক্রি করে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা আয় হয়। তাঁর আয় দেখে স্বামীও তাঁর সঙ্গে যোগ দেন। ডিম বিক্রির টাকায় আরও এক হাজার হাঁসের বাচ্চা কেনেন। এভাবে তিনি সফল উদ্যোক্তা হয়ে ওঠেন।

জয়শ্রী রায় আরও বলেন, এখন ৩টি খামারে ৩ হাজার হাঁস আছে। ২জন শ্রমিক নিয়মিত খামারে কাজ করেন। বর্তমান তাঁর মাসিক আয় ৯০ হাজার টাকাআয়ের টাকায় জমি কিনেছেন। বাড়ি পাকা করেছেন। এলাকার অনেকে এখন তাঁর কাছে পরামর্শ নিতে আসেন।

জয়শ্রী রায়ের পরামর্শে হাঁস পালন করে অনেকেরে সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। হাঁসের খামার করে তাঁর মতো তারাগঞ্জের আবদুর রহিম, সাইফুল ইসলাম, হাজিরহাট গ্রামের মশিউর রহমান, পলাশবাড়ী গ্রামের অজিত চন্দ্র, মেনহাজুল ইসলামসহ আরও অনেকে দারিদ্র্যকে জয় করেছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে এম ইফতেখারুল ইসলাম জানান, জয়শ্রী রায়ের খামার ও তাঁর কার্যক্রম আমি দেখেছি। তিনি একজন দক্ষ খামারি। নিজের সন্তানের মতো হাঁসগুলো পরিচর্যা করেন। তাঁকে দেখে গ্রামের অনেক নারী-পুরুষ হাঁস পালনে উৎসাহিত হয়েছেন।