ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ময়মনসিংহ মেডিকেলে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিশোরের মৃত্যু শ্যোন অ্যারেস্ট নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করল আপিল বিভাগ ভারতীয় নারীকে বাংলাদেশি সন্দেহে পুশব্যাকের অভিযোগ পরিবারের কালিয়াকৈরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে অপর ট্রাকের ধাক্কা, ১ চালক নিহত পালটাপালটি কর্মসূচি: হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করল প্রশাসন সিইসির নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে জামায়াতে ইসলামী ইরাকে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলা, পিএমএফের ৮ সদস্য নিহত দেশের প্রতি ২০ জনে একজন মাদকাসক্ত: ইয়াবার থাবায় ধ্বংস জীবন শ্যোন অ্যারেস্ট নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করলেন আপিল বিভাগ সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে বাধা নেই সরোয়ার আলমগীরের

পোলাও চালের অস্বাভাবিক দাম, বাজারে ভেজালের ছড়াছড়ি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩২:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

দেশের বাজারে পোলাও চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও গত তিন মাসে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৭০ টাকা। এর মধ্যে শুধু গত এক সপ্তাহেই দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ টাকা। বর্তমানে ব্র্যান্ডভেদে প্যাকেটজাত পোলাও চাল কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির এক বস্তা চালের দাম ১০ হাজার ২০০ টাকায় পৌঁছেছে।

দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সুগন্ধি চালের বাজারে ভেজাল ও জালিয়াতির অভিযোগও প্রকট হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা কাটারি আতপ ও কম দামের চাল মিশিয়ে চিনিগুঁড়া বা কালিজিরা চাল হিসেবে বিক্রি করছে। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ আতপ চালে কৃত্রিম সুগন্ধি মিশিয়ে নামি ব্র্যান্ডের মোড়কে বাজারজাত করা হচ্ছে, যার ফলে ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন।

খুচরা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের অভিযোগ, মিল মালিক ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এই দাম বাড়িয়েছে। তাদের দাবি, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তিন মাসে বস্তাপ্রতি চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা এবং এক সপ্তাহে প্রায় এক হাজার টাকা দাম বেড়েছে। জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন ব্যয় কিছুটা বাড়লেও, এমন বড় মূল্যবৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক কারণ নেই বলে তারা মনে করেন।

তবে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেশের অন্যতম বৃহৎ খাদ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নাবিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম স্বপন। তিনি দাবি করেন, সুগন্ধি ধানের উৎপাদন কমে যাওয়া, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি এবং বিয়ে-সামাজিক অনুষ্ঠান বাড়ায় চাহিদা বেড়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে তিনি সাময়িকভাবে পোলাও চাল রপ্তানি বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন।

রাজধানীর বাবুবাজার, নয়াবাজার, বাদামতলী ও কারওয়ান বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সব ধরনের পোলাও চালের দাম বেড়েছে। তেজগাঁওয়ের চাঁদপুর রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী বাচ্চু মিয়া জানান, যে বস্তা কয়েক মাস আগে ছয় হাজার টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন ১০ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিলগেটেই মানভেদে প্রতি কেজি চাল ২০০ থেকে ২০৪ টাকায় কিনতে হচ্ছে, যা গত জুনে ছিল ১৫৬ থেকে ১৬৩ টাকা। তার অভিযোগ, দেশের চালের বাজার হাতেগোনা ১০-১২টি বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে, যারা আগেভাগে ধান কিনে মজুত করে দাম বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, তিন মাসে ৫০ থেকে ৭০ টাকা দাম বাড়া অস্বাভাবিক। সরকারের কর-শুল্ক কমানোর সুবিধাও ভোক্তারা পাচ্ছেন না। তার মতে, বাজার তদারকির দুর্বলতাই অসাধু ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আসল চিনিগুঁড়া মূলত ব্রি ধান-৩৪ জাত থেকে উৎপাদিত হয়, যাতে স্বাভাবিকভাবেই সুগন্ধ থাকে। নওগাঁর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. জামাল উদ্দিন জানান, দেখতে প্রায় একই রকম হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা কমদামি চালে কৃত্রিম সুগন্ধি বা বাসমতি ফ্লেভার মিশিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফরহাদ খন্দকার জানিয়েছেন, কৃত্রিম সুগন্ধি ব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে এবং নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

সম্প্রতি পুরান ঢাকায় পোলাও চালে আতপ চাল মিশিয়ে ভেজাল করার দায়ে এক ব্যবসায়ীকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এছাড়া যশোরেও নকল মোড়কে চিনিগুঁড়া চাল বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং ভেজাল ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ ও ভোক্তা প্রতিনিধিদের পরামর্শ, শুধু ব্র্যান্ড বা মোড়ক দেখে নয়, পরিচিত ও বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে চাল কেনা উচিত এবং বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

পোলাও চালের অস্বাভাবিক দাম, বাজারে ভেজালের ছড়াছড়ি

আপডেট সময় : ১০:৩২:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
print news

দেশের বাজারে পোলাও চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও গত তিন মাসে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৭০ টাকা। এর মধ্যে শুধু গত এক সপ্তাহেই দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ টাকা। বর্তমানে ব্র্যান্ডভেদে প্যাকেটজাত পোলাও চাল কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির এক বস্তা চালের দাম ১০ হাজার ২০০ টাকায় পৌঁছেছে।

দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সুগন্ধি চালের বাজারে ভেজাল ও জালিয়াতির অভিযোগও প্রকট হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা কাটারি আতপ ও কম দামের চাল মিশিয়ে চিনিগুঁড়া বা কালিজিরা চাল হিসেবে বিক্রি করছে। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ আতপ চালে কৃত্রিম সুগন্ধি মিশিয়ে নামি ব্র্যান্ডের মোড়কে বাজারজাত করা হচ্ছে, যার ফলে ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন।

খুচরা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের অভিযোগ, মিল মালিক ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এই দাম বাড়িয়েছে। তাদের দাবি, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তিন মাসে বস্তাপ্রতি চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা এবং এক সপ্তাহে প্রায় এক হাজার টাকা দাম বেড়েছে। জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন ব্যয় কিছুটা বাড়লেও, এমন বড় মূল্যবৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক কারণ নেই বলে তারা মনে করেন।

তবে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেশের অন্যতম বৃহৎ খাদ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নাবিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম স্বপন। তিনি দাবি করেন, সুগন্ধি ধানের উৎপাদন কমে যাওয়া, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি এবং বিয়ে-সামাজিক অনুষ্ঠান বাড়ায় চাহিদা বেড়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে তিনি সাময়িকভাবে পোলাও চাল রপ্তানি বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন।

রাজধানীর বাবুবাজার, নয়াবাজার, বাদামতলী ও কারওয়ান বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সব ধরনের পোলাও চালের দাম বেড়েছে। তেজগাঁওয়ের চাঁদপুর রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী বাচ্চু মিয়া জানান, যে বস্তা কয়েক মাস আগে ছয় হাজার টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন ১০ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিলগেটেই মানভেদে প্রতি কেজি চাল ২০০ থেকে ২০৪ টাকায় কিনতে হচ্ছে, যা গত জুনে ছিল ১৫৬ থেকে ১৬৩ টাকা। তার অভিযোগ, দেশের চালের বাজার হাতেগোনা ১০-১২টি বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে, যারা আগেভাগে ধান কিনে মজুত করে দাম বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, তিন মাসে ৫০ থেকে ৭০ টাকা দাম বাড়া অস্বাভাবিক। সরকারের কর-শুল্ক কমানোর সুবিধাও ভোক্তারা পাচ্ছেন না। তার মতে, বাজার তদারকির দুর্বলতাই অসাধু ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আসল চিনিগুঁড়া মূলত ব্রি ধান-৩৪ জাত থেকে উৎপাদিত হয়, যাতে স্বাভাবিকভাবেই সুগন্ধ থাকে। নওগাঁর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. জামাল উদ্দিন জানান, দেখতে প্রায় একই রকম হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা কমদামি চালে কৃত্রিম সুগন্ধি বা বাসমতি ফ্লেভার মিশিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফরহাদ খন্দকার জানিয়েছেন, কৃত্রিম সুগন্ধি ব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে এবং নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

সম্প্রতি পুরান ঢাকায় পোলাও চালে আতপ চাল মিশিয়ে ভেজাল করার দায়ে এক ব্যবসায়ীকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এছাড়া যশোরেও নকল মোড়কে চিনিগুঁড়া চাল বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং ভেজাল ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ ও ভোক্তা প্রতিনিধিদের পরামর্শ, শুধু ব্র্যান্ড বা মোড়ক দেখে নয়, পরিচিত ও বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে চাল কেনা উচিত এবং বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh