ঢাকা ০৮:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় ফিরছে ২০০ নম্বরের পুরোনো নিয়ম গোল ও অ্যাসিস্টে স্মরণীয় বিদায়ী ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে জেতালেন মেসি গোলশূন্য প্রথমার্ধে মেসির বিদায়ী ম্যাচের রোমাঞ্চ অঙ্কুশ-নুসরাতকে নিয়ে প্রেমের গুঞ্জনে মুখ খুললেন অভিনেতা সৌদি আরবের খামিস মুশাইত লক্ষ করে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়তে চান মারুফ ডিসেম্বরের মধ্যে স্মার্ট বন্দরে রূপান্তর চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম মসজিদে সৌরবিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের নীতিমালা তৈরির সুপারিশ কমিটির লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো ধ্বংসের কথা বলে তীব্র সমালোচনায় ট্রাম্প বীমা খাতে গ্রাহকের আস্থা ফেরাতে আইডিআরএ’র বিশেষ উদ্যোগ

বিয়ের ১৪ দিন আগে ডেঙ্গুতে মৃত্যু, নিথর কপালে সিঁদুর পরালেন হবু বর

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বিয়ের আর মাত্র ১৪ দিন বাকি ছিল। লাল শাড়ি ও সিঁদুরসহ কনের সাজের সব কেনাকাটাও প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। ১৬ অক্টোবর একই দিনে বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল জমজ দুই বোন বৃষ্টি ও বন্যা ঘরামীর। কিন্তু বিয়ের আনন্দঘন আনুষ্ঠানিকতার পরিবর্তে বাবা নির্মল ঘরামিকে ফিরতে হলো মেয়ে বৃষ্টির নিথর মরদেহ নিয়ে। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর বিয়ের সাজে কেনা সিঁদুরই বৃষ্টির কপালে পরিয়ে তাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করলেন হবু বর সবুজ মণ্ডল।

২৫ বছর বয়সী বৃষ্টি ঘরামী ঢাকার শ্যামলীর ট্রমা সেন্টারের সিনিয়র স্টাফ নার্স ছিলেন। হঠাৎ জ্বর অনুভূত হওয়ায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এরপর ২ অক্টোবর শুক্রবার ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বৃষ্টির অকাল মৃত্যুতে কোটালীপাড়ার নৈয়ার বাড়ি গ্রামের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে।

আগামী ১৬ অক্টোবর মুকসুদপুর উপজেলার গোয়াইল গ্রামের সবুজ মণ্ডলের সঙ্গে বৃষ্টির বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। একই দিনে বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল তাঁর জমজ বোন বন্যা ঘরামীরও। বন্যা ঘরামী ঢাকার সিএমএইচে নার্স হিসেবে কর্মরত। দুই বোনের বিয়ে ঘিরে পরিবার ও এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি চলছিল। বৃষ্টির মৃত্যুর পর ঢাকা থেকে মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার সময় বরের পরিবারের সদস্যরা বিয়ের জন্য কেনা সামগ্রীও সঙ্গে নিয়ে আসেন। শনিবার দুপুরে কোটালীপাড়ার নৈয়ার বাড়ি গ্রামে বৃষ্টির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বৃষ্টির বাবা নির্মল ঘরামির শুক্রবারই এলাকার মুরুব্বিদের নিয়ে মেয়ের হবু শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেই দিনই তাকে মেয়ের মরদেহ নিয়ে ফিরতে হয়।

বৃষ্টি ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে গোপালগঞ্জ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন এবং প্রায় নয় মাস ধরে শ্যামলীর ট্রমা সেন্টারে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্বজনদের ভাষ্যমতে, জ্বরে ভোগার পর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। মৃত্যুর দিন সকালেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বি-নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন জানিয়ে পোস্ট করেছিলেন তিনি।

বৃষ্টির বড় বোন মেঘলা ঘরামী বলেন, বিয়ের সব কেনাকাটাও শেষ হয়েছিল, কিন্তু ডেঙ্গু তার বোনকে কেড়ে নিল। বৃষ্টির ছোটবেলার শিক্ষক জানান, মেধাবী ও পরিশ্রমী বৃষ্টির মৃত্যুতে পুরো এলাকার আনন্দ থমকে গেছে। প্রতিবেশী মনিশ জয়দার জানান, দুই বোনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক ছিল এবং বৃষ্টির মৃত্যুতে বন্যা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। বন্যার হবু স্বামী অনুপ বাড়ৈ জানান, দুই পরিবারের সম্মতিতে ১৬ অক্টোবর বিয়ের দিন ঠিক হয়েছিল এবং পুরো বিয়ের আয়োজন ও খরচ জোগানোর দায়িত্ব বৃষ্টি নিজেই নিয়েছিল। সবুজের অনুরোধে নিথর বৃষ্টিকে লাল বেনারসি শাড়ি পরানো হয় এবং সকলের অনুমতি নিয়ে সবুজ তার কপালে সিঁদুর পরিয়ে দেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

বিয়ের ১৪ দিন আগে ডেঙ্গুতে মৃত্যু, নিথর কপালে সিঁদুর পরালেন হবু বর

আপডেট সময় : ০৩:৫৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

বিয়ের আর মাত্র ১৪ দিন বাকি ছিল। লাল শাড়ি ও সিঁদুরসহ কনের সাজের সব কেনাকাটাও প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। ১৬ অক্টোবর একই দিনে বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল জমজ দুই বোন বৃষ্টি ও বন্যা ঘরামীর। কিন্তু বিয়ের আনন্দঘন আনুষ্ঠানিকতার পরিবর্তে বাবা নির্মল ঘরামিকে ফিরতে হলো মেয়ে বৃষ্টির নিথর মরদেহ নিয়ে। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর বিয়ের সাজে কেনা সিঁদুরই বৃষ্টির কপালে পরিয়ে তাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করলেন হবু বর সবুজ মণ্ডল।

২৫ বছর বয়সী বৃষ্টি ঘরামী ঢাকার শ্যামলীর ট্রমা সেন্টারের সিনিয়র স্টাফ নার্স ছিলেন। হঠাৎ জ্বর অনুভূত হওয়ায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এরপর ২ অক্টোবর শুক্রবার ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বৃষ্টির অকাল মৃত্যুতে কোটালীপাড়ার নৈয়ার বাড়ি গ্রামের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে।

আগামী ১৬ অক্টোবর মুকসুদপুর উপজেলার গোয়াইল গ্রামের সবুজ মণ্ডলের সঙ্গে বৃষ্টির বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। একই দিনে বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল তাঁর জমজ বোন বন্যা ঘরামীরও। বন্যা ঘরামী ঢাকার সিএমএইচে নার্স হিসেবে কর্মরত। দুই বোনের বিয়ে ঘিরে পরিবার ও এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি চলছিল। বৃষ্টির মৃত্যুর পর ঢাকা থেকে মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার সময় বরের পরিবারের সদস্যরা বিয়ের জন্য কেনা সামগ্রীও সঙ্গে নিয়ে আসেন। শনিবার দুপুরে কোটালীপাড়ার নৈয়ার বাড়ি গ্রামে বৃষ্টির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বৃষ্টির বাবা নির্মল ঘরামির শুক্রবারই এলাকার মুরুব্বিদের নিয়ে মেয়ের হবু শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেই দিনই তাকে মেয়ের মরদেহ নিয়ে ফিরতে হয়।

বৃষ্টি ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে গোপালগঞ্জ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন এবং প্রায় নয় মাস ধরে শ্যামলীর ট্রমা সেন্টারে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্বজনদের ভাষ্যমতে, জ্বরে ভোগার পর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। মৃত্যুর দিন সকালেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বি-নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন জানিয়ে পোস্ট করেছিলেন তিনি।

বৃষ্টির বড় বোন মেঘলা ঘরামী বলেন, বিয়ের সব কেনাকাটাও শেষ হয়েছিল, কিন্তু ডেঙ্গু তার বোনকে কেড়ে নিল। বৃষ্টির ছোটবেলার শিক্ষক জানান, মেধাবী ও পরিশ্রমী বৃষ্টির মৃত্যুতে পুরো এলাকার আনন্দ থমকে গেছে। প্রতিবেশী মনিশ জয়দার জানান, দুই বোনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক ছিল এবং বৃষ্টির মৃত্যুতে বন্যা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। বন্যার হবু স্বামী অনুপ বাড়ৈ জানান, দুই পরিবারের সম্মতিতে ১৬ অক্টোবর বিয়ের দিন ঠিক হয়েছিল এবং পুরো বিয়ের আয়োজন ও খরচ জোগানোর দায়িত্ব বৃষ্টি নিজেই নিয়েছিল। সবুজের অনুরোধে নিথর বৃষ্টিকে লাল বেনারসি শাড়ি পরানো হয় এবং সকলের অনুমতি নিয়ে সবুজ তার কপালে সিঁদুর পরিয়ে দেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh