ঢাকা ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্লো ওভার-রেটের দায়ে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুই দলকেই জরিমানা শাহজালাল বিমানবন্দরে ভোগান্তি কাটেনি, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপপ্রচার দেশে এখনো একটি দল ইসলামী শাসন চায় না: এটিএম আজহারুল ইসলাম ব্যালন ডি’অর নিয়ে থমাস মুলারের পছন্দে চমক, বাদ পড়লেন কেইন ও ইয়ামাল সালমান শাহ হত্যা মামলা: ফের নামঞ্জুর খলনায়ক ডনের জামিন ইসরায়েলের সঙ্গে আরব নেতাদের বিপজ্জনক গোপন খেলা রূপগঞ্জে নিখোঁজের পরদিন লেকের পাড়ে মিলল নারীর মরদেহ বাংলাদেশ-আমিরাত প্রস্তুতি ম্যাচ ড্র, ১২৬ রানের লিড টাইগারদের নবাবগঞ্জে ৯ অক্টোবর ঐতিহ্যবাহী শরৎকালীন নাড়ু উৎসব শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার

বিশ্ব শিক্ষক দিবসেও বেতনহীন ৩৩ বছর: রংপুরের ১৮ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও ফেরার অপেক্ষা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:০৪:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বিশ্ব শিক্ষক দিবসেও অন্য দিনের মতোই সকালে মাদরাসায় এসেছেন তারা। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের খাতা দেখা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি—সবই চলছে নিয়মমাফিক। তবে মাস শেষে বেতন-ভাতা পান না তারা। এভাবে এক-দুই বছর নয়, দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে বেতনহীন অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর আলহুদা আদর্শ দাখিল মাদরাসার ১৪ জন শিক্ষক ও ৪ জন কর্মচারী।

পরিবারের খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন এই ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী। তাদের অনেকেই শিক্ষকতার পাশাপাশি শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। মাদরাসার সহকারী সিনিয়র শিক্ষক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘৩৩ বছর ধরে বিনা বেতনে পাঠদান করছি। বছরের পর বছর দায়িত্ব পালন করেও মাস শেষে কোনো বেতন পাই না। পরিবার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে।’

ইবতেদায়ী কারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম তার কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমার তিন মেয়ে। শিক্ষকতার কোনো বেতন নেই। সংসারের খরচ চালাতে ক্লাস শেষে অন্যের বাড়িতে কামলা দিতে হয়। সারাদিন ছাত্র পড়াই, আর বিকেলে সংসারের জন্য শ্রমিকের কাজ করি।’

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৩ সালে মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৬ সালের ১ জানুয়ারি এটি পাঠদানের অনুমতি এবং ১৯৯৭ সালের ১ জানুয়ারি একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করে। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হলেও, হালনাগাদ স্বীকৃতি না থাকায় ২০০১ সালে এর এমপিও স্থগিত করা হয়। এরপর দীর্ঘ ৩৩ বছরেও তা পুনর্বহাল হয়নি।

এমপিও পুনর্বহালের দাবিতে ২০১৫ সালে উচ্চ আদালতে মামলা করে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ, যার নম্বর ছিল ১১৩৯২/১৫। কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই মামলাটির রায় তাদের পক্ষে আসে। পরে সরকার পক্ষ আপিল করলে, সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২২ এপ্রিল প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই হয়েছে। এতকিছুর পরও এমপিও পুনর্বহাল না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘২০০১ সালে হালনাগাদ স্বীকৃতি না থাকায় এমপিও স্থগিত হয়। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা চলেছে। সর্বশেষ ২২ এপ্রিল ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রায় হয়েছে। এমপিও পুনর্বহাল হলে শিক্ষক-কর্মচারীদের পরিবারগুলো কিছুটা স্বস্তি পাবে।’

তারাগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শাহীনুর রহমান জানান, ঘনিরামপুর আলহুদা আদর্শ দাখিল মাদরাসাটি ১৯৯৭ সাল থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে এবং প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা উত্তীর্ণ হচ্ছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে বেতন ছাড়াই পাঠদান ও দায়িত্ব পালন করে আসা এই ১৮ শিক্ষক-কর্মচারী বিশ্ব শিক্ষক দিবসে প্রত্যাশা করছেন, দীর্ঘদিনের এই জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত তাদের এমপিও পুনর্বহাল হবে এবং অবসান হবে বেতনহীন কর্মজীবনের প্রতীক্ষার।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্ব শিক্ষক দিবসেও বেতনহীন ৩৩ বছর: রংপুরের ১৮ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও ফেরার অপেক্ষা

আপডেট সময় : ১১:০৪:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ব শিক্ষক দিবসেও অন্য দিনের মতোই সকালে মাদরাসায় এসেছেন তারা। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের খাতা দেখা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি—সবই চলছে নিয়মমাফিক। তবে মাস শেষে বেতন-ভাতা পান না তারা। এভাবে এক-দুই বছর নয়, দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে বেতনহীন অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর আলহুদা আদর্শ দাখিল মাদরাসার ১৪ জন শিক্ষক ও ৪ জন কর্মচারী।

পরিবারের খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন এই ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী। তাদের অনেকেই শিক্ষকতার পাশাপাশি শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। মাদরাসার সহকারী সিনিয়র শিক্ষক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘৩৩ বছর ধরে বিনা বেতনে পাঠদান করছি। বছরের পর বছর দায়িত্ব পালন করেও মাস শেষে কোনো বেতন পাই না। পরিবার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে।’

ইবতেদায়ী কারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম তার কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমার তিন মেয়ে। শিক্ষকতার কোনো বেতন নেই। সংসারের খরচ চালাতে ক্লাস শেষে অন্যের বাড়িতে কামলা দিতে হয়। সারাদিন ছাত্র পড়াই, আর বিকেলে সংসারের জন্য শ্রমিকের কাজ করি।’

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৩ সালে মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৬ সালের ১ জানুয়ারি এটি পাঠদানের অনুমতি এবং ১৯৯৭ সালের ১ জানুয়ারি একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করে। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হলেও, হালনাগাদ স্বীকৃতি না থাকায় ২০০১ সালে এর এমপিও স্থগিত করা হয়। এরপর দীর্ঘ ৩৩ বছরেও তা পুনর্বহাল হয়নি।

এমপিও পুনর্বহালের দাবিতে ২০১৫ সালে উচ্চ আদালতে মামলা করে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ, যার নম্বর ছিল ১১৩৯২/১৫। কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই মামলাটির রায় তাদের পক্ষে আসে। পরে সরকার পক্ষ আপিল করলে, সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২২ এপ্রিল প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই হয়েছে। এতকিছুর পরও এমপিও পুনর্বহাল না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘২০০১ সালে হালনাগাদ স্বীকৃতি না থাকায় এমপিও স্থগিত হয়। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা চলেছে। সর্বশেষ ২২ এপ্রিল ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রায় হয়েছে। এমপিও পুনর্বহাল হলে শিক্ষক-কর্মচারীদের পরিবারগুলো কিছুটা স্বস্তি পাবে।’

তারাগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শাহীনুর রহমান জানান, ঘনিরামপুর আলহুদা আদর্শ দাখিল মাদরাসাটি ১৯৯৭ সাল থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে এবং প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা উত্তীর্ণ হচ্ছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে বেতন ছাড়াই পাঠদান ও দায়িত্ব পালন করে আসা এই ১৮ শিক্ষক-কর্মচারী বিশ্ব শিক্ষক দিবসে প্রত্যাশা করছেন, দীর্ঘদিনের এই জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত তাদের এমপিও পুনর্বহাল হবে এবং অবসান হবে বেতনহীন কর্মজীবনের প্রতীক্ষার।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh