প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন আড়াই লাখের বেশি শিক্ষক
- আপডেট সময় : ১১:০৮:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের আগে পেশাগত প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক নয়। চাকরিতে যোগদানের পর প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকলেও একটি বড় অংশ এখনো মৌলিক প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত। সব মিলিয়ে সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়া প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষক কোনো ধরনের ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ ছাড়াই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছেন বলে বিভিন্ন তথ্যে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ২০২৫ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে মোট ৩ লাখ ৪ হাজার ৬৪৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। অর্থাৎ, প্রায় ৪০ দশমিক ৫২ শতাংশ বা প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক এখনো প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছেন। লিঙ্গভেদে এই হার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাধ্যমিক পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষকদের ৬২ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং নারী শিক্ষকদের ৫২ দশমিক ৭৯ শতাংশ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
মাদ্রাসা শিক্ষার পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০২৫ সালের তথ্যমতে, ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৫ জন মাদ্রাসা শিক্ষকের মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ১২ শতাংশ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, যা ২০২৪ সালে ছিল ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, এমপিওভুক্ত উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত ১ লাখ ১০ হাজার ১৫১ জন শিক্ষকের প্রায় ২০ শতাংশ এখনো কোনো প্রশিক্ষণ পাননি।
শিক্ষাবিদদের মতে, বিশ্বের অনেক দেশে শিক্ষকতায় প্রবেশের আগে পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশে নিয়োগের পর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকায় অনেক শিক্ষক দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় শিক্ষণদক্ষতা প্রয়োগে ঘাটতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, শিক্ষক নিয়োগের আগেই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে প্রার্থীরা নিজেরা পেশাগত প্রশিক্ষণে আগ্রহী হবেন। সেই সঙ্গে যেসব শিক্ষক এখনো প্রশিক্ষণের বাইরে আছেন, তাদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞানের যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে কি না, তা সরকারের নজরে রাখা জরুরি।
এদিকে, শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে ‘মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ত্বরান্বিতকরণ’ (লেইস) প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯০ জনকে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি কোনো ফাউন্ডেশন কোর্স নয়। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হচ্ছে। ১৯৬৬ সালের আইএলও-ইউনেস্কো শিক্ষকদের মর্যাদা-সংক্রান্ত সুপারিশমালার ৬০ বছর পূর্তির প্রাক্কালে ২০২৬ সালের এই দিবসটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।





























